Facebook   Twitter   LinkedIn   Youtube   Wikipedia

বাংলাদেশ সবুজ-শ্যামল। এ পর্যন্ত যতোগুলো দেশ ঘুরেছি, বাংলাদেশের মতো শ্যামলিমা আর কোনো দেশে পাইনি- এটা হলফ করে বলতে পারি। কিন্তু তারপরও বৃক্ষরোপনের ‘অভিযান ১৬ কোটি গাছ’ শুরু করার কি প্রয়োজনটা ছিল?

এই প্রেক্ষাপটে বলা যায়, উন্নত বিশ্বের হঠকারিতায় কার্বন নির্গমন বেড়ে যাওয়ায় পৃথিবীর তাপমাত্রা গত ৫০ বছরের তুলনায় বেড়েছে। ফলে পুরো বিশ্ব নানা ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে রয়েছে। কোথাও প্রচন্ড ঠাণ্ডা তো আরেক দেশে প্রচন্ড বন্যা। হিমালয়ের বরফ গলে যাচ্ছে। বরফ গলছে মেরু অঞ্চলেও। ফলে সমুদ্রের তলদেশের উচ্চতা বেড়ে গেছে। আর বাংলাদেশে নানা ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের মাত্রাও আগের তুলনায় বহু গুণ বেড়েছে। ২০ বছর আগে যেমন বাংলাদেশে বছরে মাত্র দু?তিনবার ঝড় বা টর্নেডো বা সাইক্লোন হতো, সেটার মাত্রা বেড়ে এখন বছরে এখন ১২-১৪টা টর্নেডো হওয়ার ঘটনাও ঘটছে। পৃথিবীর তাপমাত্রা আগের চেয়ে বেড়ে যাওয়ায় পুরো বিশ্ববাসী যেসব দুর্যোগের মুখোমুখি হচ্ছে, বিশেষ করে বাংলাদেশীরা, সেটাই আমরা প্রাকৃতিকভাবে কিভাবে মোকাবিলা করতে পারি, তারই একটা উপায়- পুরো বাংলাদেশে দেশী গাছ লাগানো। অর্থাৎ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করার জন্য এক ধরনের প্রাকৃতিক সক্ষমতা অর্জন করা যায় কি না, সে চেষ্টা এ মুহূর্তে করা প্রয়োজন।

এর আগ থেকেই অবশ্য ইউক্যালিপ্টাস ও অ্যাকেসিয়া গাছের দৌরাত্ম এবং মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর এর বিরূপ প্রতিক্রিয়ার কথা জানা হয়েছিল। একটা পূর্ণাঙ্গ ইউক্যালিপ্টাস ও অ্যাকেসিয়া গাছ প্রতিদিন মাটি থেকে প্রায় চল্লিশ লিটার পানি শুষে নেয়। ফুল ফুটলে অ্যাকেসিয়ার যে রেণু তৈরি হয়, তা মানুষের শরীরে অ্যালার্জি তৈরি করে। এই অ্যাকেসিয়া গাছটি সাধারণত অস্ট্রেলিয়া ও আমেরিকার বনভূমির গাছ। সেদেশগুলোতে অ্যাকেশিয়া গাছের বনভূমিতে যখন থোকায় থোকায় ফুল ফোটে, সে সময়ে বাতাসে এই ফুলের কি পরিমাণ রেণু রয়েছে, আবহাওয়ার পূর্বাভাষের মতো রেণু পূর্বাভাষও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় সম্প্রচারিত হতে থাকে। ফলে যাদের এই অ্যাকেসিয়ার রেণুতে অ্যালার্জি রয়েছে, তারা বাসা থেকে বের হওয়ার আগে প্রস্তুতি নিয়ে নিতে পারেন। কিন্তু আমাদের দেশে তো এটা অসম্ভব একটা ব্যাপার।

আরেকটা বিষয় কয়েকদিন আগে বাংলাদেশের এক অ্যাজমা বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের কাছ থেকে জানা গেল। একটি বেসরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রে দায়িত্বপালনকালে তিনি বলছিলেন, সম্প্রতি তিনি বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা কেন্দ্র?বিকেএসপি এবং ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রচুর অ্যাজমা রোগী পাচ্ছেন। তাদের কেস হিস্ট্রি খুঁজতে গিয়ে তিনি জানতে পেরেছেন, বিকেএসপি বা ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার আগে তারা ভালোই ছিলেন। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যে তাদের শরীরে অ্যাজমা বাসা বেঁধেছে। এর কারণ খুঁজতে গিয়ে সেই বিশেষজ্ঞ ডাক্তার জানতে পেরেছেন, এই দু?টি প্রতিষ্ঠানে প্রচুর পরিমাণ অ্যাকেসিয়া গাছ সরকারিভাবেই রোপণ করা হয়েছে। ফলে পূর্ণাঙ্গ গাছ থেকে যখন রেণু ছড়িয়ে পড়ে, সেই রেণু সেখানকার শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের শরীরে অ্যাজমার মতো খারাপ রোগ সৃষ্টি করেছে।

বাংলাদেশে অ্যাকেসিয়া ও ইউক্যালিপ্টাস গাছগুলোকে আনা হয়েছিল শুধুমাত্র ?দ্রুত বর্ধনশীল? এই গুণটুকু বিচার করে। কিন্তু মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর যে এর এমন ক্ষতিকর প্রভাব রয়েছে, তা নিয়ে তো আমাদের এখনই সচেতন হওয়া প্রয়োজন। কারণ বাংলাদেশে বৃক্ষমেলা মানেই এই বিদেশী গাছের চারায় সেটা সয়লাব হয়ে যায়। অ্যাকেসিয়া, ইউক্যালিপটাস, শিশু, মেহগনি ইত্যাদি গাছের চারা তো শহর-গ্রামে মানুষ দেদারছে কিনছেন এবং তা রোপণ করছেন। ফলে নিজেরাই তারা নিজেদের রোগ সৃষ্টি পথ তৈরি করছেন।

আরেকটা বিষয় বেশ আতঙ্কজনক যে আমাদের যেসব প্রাকৃতিক বন ধ্বংসের পথে, সেসব জায়গায় পুনরায় বনায়ন করতে গিয়ে সরকারিভাবেই অ্যাকেসিয়া, ইউক্যালিপটাস, শিশু, মেহগনি ইত্যাদি গাছের চারা রোপণ করা হচ্ছে। এমনকি নতুন কোনো উদ্যাগ গড়ে তোলা হলে সেখানে অ্যাকেসিয়া গাছই যেন মুখ্য গাছে পরিণত হয়। অর্থাৎ সঠিক তথ্য না জানার ফলে সরকারি-বেসরকারিভাবেই বাংলাদেশে রোগের বাসাসদৃশ একটা গাছ আমরা রোপণ করছি।

এ সময় ইন্টারনেট থেকে জানা গেল, মালয়েশিয়ায় সে দেশের সরকার প্রায় পাঁচ একর জায়গায় শুধু নিম গাছ লাগিয়েছিল। এর পাঁচ বছর পর সে এলাকা থেকে সাধারণ অসুখ যেমন সর্দিজ্বর, স্কিন ডিজিসসহ বেশকিছু ক্ষতিকর অসুখ আপনাআপনি দূর হয়ে গেছে।

গাছ লাগিয়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করা এবং আপনাআপনি সুস্থ থাকার বিষয়গুলো নিয়ে ২০১০ সালে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ওপর মাস্টার্স করার সময়ই ভাবনা শুরু হয়েছিল। তারই ধারাবাহিকতায় ২০১১ সালের ১৮ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্য্যালয় ক্যাম্পাস থেকে বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষের সহযোগিতায় প্রতি বছর ১৬ কোটি দেশী বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয় এভারেস্ট ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে। ?অভিযান ১৬ কোটি গাছ? -এর মাধ্যমে দেশে শুধু দেশি ফল, ঔষধি ও কাঠের গাছ রোপন করা হবে। দেশী নিম গাছ রোপন করার দিকে গুরুত্ব থাকবে সবচেয়ে বেশি।

আরেকটি বিষয়। একজন মানুষ যদি ৬০ বছর বেঁচে থাকেন, তাহলে তিনি যে অক্সিজেন গ্রহণ করছেন, সেই অক্সিজেন উৎপাদন করতে কি পরিমাণ গাছের প্রয়োজন- এটা কি জানা আছে? এজন্য ২২টি পূর্ণাঙ্গ গাছ প্রয়োজন। এই মাত্র ২২টি গাছ কি আমরা নিজেদের জন্য কখনো রোপণ করেছি? যদি না করে থাকি, তাহলে আসুন, নিজের জন্য ২২টি গাছ আজ থেকে ১ বছরের মধ্যেই রোপণ করে ফেলি।

সেই সঙ্গে যদি আরেকটি দিকে একটু মনোযোগী হওয়া যায়, তাহলে আরেকটু ভালো। বাংলাদেশের প্রতিটি বাড়ির সামনে যদি দু?টি করে হাসনাহেনা, গোলাপ, বকুল, কাঁঠালচাপা, পাতাবাহার ইত্যাদি গাছ লাগানো যায়, তাতে বাড়িটির সৌন্দর্য তো অনেক বেড়ে যাবে- তাই নয় কি? এই সৌন্দর্যবোধটুকু জাগিয়ে তোলাও কিন্তু ?অভিযান ১৬ কোটি গাছ?-এর অন্যতম উদ্দেশ্য।

প্রতি বছরই নতুন নতুন উদ্যোগের মাধ্যমে ?অভিযান ১৬ কোটি গাছ?কে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় এখন তরুণ-তরুণীদের মধ্যে।

Welcome Message
Mountaineering Biography
Personal Biography
Photo Gallery
Video Gallery
Musa Ibrahim's official website (www.musaibrahim.com.bd) launched on December 03
DU authority conferred 'Blue' award to Musa Ibrahim
Musa Ibrahim accorded DU Alumni Association reception
Musa Ibrahim's photo exhibition titled 'Bangladesh on top of the Everest'
Institute of Education & Research (IER), University of Dhaka is conferring reception to Musa Ibrahim
Musa Ibrahim's photo exhibition titled 'Bangladesh on top of the Everest'
Home About Musa Gallery You can do it Press Release Blog Forum FAQ Contact