Facebook   Twitter   LinkedIn   Youtube   Wikipedia
Day 14
ফিরতি যাত্রায় মেওকা ক্যাম্প
কিলিমানজারো চূড়ায় ছবি তোলা শেষ হতে সময় লাগল। কারণ প্রচুর পর্বতারোহী সে সময়ে চূড়ায় হাজির। সবাই লাইন ধরে অপেক্ষা করছেন। এক দলের ছবি তোলা শেষ হতে অপর দল সেখানে ছবি তুলছেন। এভাবে আমাদেরও ছবি তোলা শেষ হতে হতে ঘড়িতে দেখা গেল প্রায় নয়টা বাজে। এরপর চকোলেট বের করে খেয়ে নেয়া হলো। শরীরে তো শক্তি যোগাতে হবে।
ততোক্ষণে সূর্য পুরো তেজে আগুন ঢেলে চলেছে। তাই গা থেকে এবার গরম কাপড় খোলার হিড়িক পড়ে গেল। প্রথম ধাক্কায় ডাউন জ্যাকেট চলে গেল অ্যান্টিপাসের ব্যাগে। এরপর ফিরতি যাত্রা। স্টেলা পয়েন্ট, গিলম্যান পয়েন্ট পার হচ্ছি যখন, তখনও বহু পর্বতারোহী এগিয়ে চলেছিলেন চূড়ার দিকে।
এরপর ক্রমাগত নেমে চলা। বারাফু ক্যাম্প গিলম্যান পয়েন্ট থেকে যেন একেবারে বিন্দুবৎ। চিন্তা করছিলাম রাতের অন্ধকারে কোন খাড়া ঢাল বেয়ে উঠে এসেছিলাম। এখন সেই পথে নামতে হবে। ভাগ্যিস কোনো টেকনিক্যাল ক্লাইম্বিং করতে হয় নি। আর পুরো পথেই রয়েছে প্রায় গুড়ো হয়ে যাওয়া নুড়ি পাথর। ফলে নামাটাও খুব বেশি ঝক্কির বিষয় নয়। কিন্তু নামতে গিয়ে জুতার তলা আলগা হয়ে গেল। সে সময়ে প্রচুর নুড়ি পাথর জুতার ভেতর ঢুকে পড়েছে। তবে নিয়াজ নামার ক্ষেত্রে বেশ পটু। তার কোনো সমস্যা এবার হচ্ছে না।

একটানা নামতে গিয়ে পায়ে খিল ধরে যায়। তারপরও নেমে চলি বারাফু ক্যাম্পের দিকে। ততোক্ষণে শরীর থেকে প্রায় সব গরমের কাপড় খোলা শেষ। ঘেমে নেয়ে একাকার অবস্থা। এক পর্যায়ে খাওয়ার পানিও শেষ। তখন থেকে ক্যাম্পে পৌঁছাতে বেলা প্রায় সাড়ে এগারটা। পৌঁছে প্রায় ঘণ্টাখানেক বিশ্রাম। বিশ্রাম মানে হলো পানি পান এবং ব্যাগ গুছিয়ে ফেলা এবং মেওকা ক্যাম্পে যাওয়ার প্রস্তুতি নেয়া।
নিয়াজ বলছিলেন যে আধঘণ্টার জন্য যদি ঘুমিয়ে নেয়া যেত, তাহলে ভালো হতো। কিন্তু সেই আধঘণ্টা সময় তখন কোথায়? মেওকা ক্যাম্পে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতেই সময় গড়িয়ে গেল।
প্রথমে ভেবেছিলাম যে আজই মেওকা ক্যাম্প পার হয়ে মেওকা গেট হয়ে মোশিতে চলে যাবো। কিন্তু বারাফু ক্যাম্প থেকে যেই এক্সপ্রেস গতিতে হাঁটা শুরু করেছি আর্নির সঙ্গে, তাতে পায়ের আঙ্গুলের অবস্থা একেবারে খারাপ। প্রচন্ড টনটন করছে ব্যথায়। ফলে আজই মোশি যাওয়ার উচ্চাভিলাষ কন্টিনেন্টাল ক্যাম্প পৌঁছাতে পৌঁছাতে একেবারে উবে গেল।

বারাফু ক্যাম্পের মালভূমিতে কোনো গাছ নেই। কিন্তু কন্টিনেন্টাল ক্যাম্পের যতো কাছে এগিয়েছি, ততোই গাছের চিহ্ন স্পষ্ট হয়েছে। কন্টিনেন্টাল ক্যাম্পে পৌঁছাতে পৌঁছাতে ট্রি-লাইন মানুষের সমান হয়ে গেল। একটু পর সেটা প্রায় দ্বিগুণ উচ্চতায়। সে সময়ে কিছু পোর্টার ও গাইডকে বারাফু ক্যাম্পের দিকে রসদ বয়ে নিয়ে যেতে দেখা গেল।
ক্যাম্পে তখন ধুলার ঝড় বয়ে চলেছে। সেই ঝড় থেকে বাঁচতে বিশ্রাম নেয়া বাদ দিয়ে এগিয়ে চললাম মেওকা ক্যাম্পের দিকে। কিন্তু পায়ের আঙ্গুলের এতই খারাপ অবস্থা যে তখন সর্বোচ্চ দশ মিনিট করে হাঁটছি আর এক মিনিট করে বিশ্রাম নিচ্ছি। সেটাও একেবারে ঘড়ি ধরে। এভাবে একইদিন ১০,১৬৮ ফুট উচ্চতাবিশিষ্ট মেওকা ক্যাম্পে পৌঁছলাম বিকাল পাঁচটার দিকে। ততোক্ষণে অবশ্য হোয়াইট আউট শুরু হয়ে গেছে। ক্যাম্প এলাকায় দু?হাত দূরে কি রয়েছে, সেটাও ঠিক মতো ঠাওর করা যায় না। আর কুয়াশা এতই ঘন যে মনে হচ্ছিল বৃষ্টি হচ্ছে। গাছের পাতায় সেই কুয়াশা লেগে টুপটাপ পানি ফোটা পড়ে পুরো ক্যাম্প এলাকা একেবারে ভিজিয়ে দিল।
« Day 13 
Welcome Message
Mountaineering Biography
Personal Biography
Photo Gallery
Video Gallery
Musa Ibrahim's official website (www.musaibrahim.com.bd) launched on December 03
DU authority conferred 'Blue' award to Musa Ibrahim
Musa Ibrahim accorded DU Alumni Association reception
Musa Ibrahim's photo exhibition titled 'Bangladesh on top of the Everest'
Institute of Education & Research (IER), University of Dhaka is conferring reception to Musa Ibrahim
Musa Ibrahim's photo exhibition titled 'Bangladesh on top of the Everest'
Home About Musa Gallery You can do it Press Release Blog Forum FAQ Contact