Facebook   Twitter   LinkedIn   Youtube   Wikipedia
Day 12
কিলিমানজারো ট্রেইলে চতুর্থ দিন: দলে ভাঙন এবং বারানকো হাট টু বারাফু ক্যাম্প
রাতে খুব বেশি ভালো ঘুম হলো না। শুধু এপাশ ওপাশ করেছি। সকাল হতেই এমএ সাত্তার আর নিয়াজের তাঁবুতে নড়াচড়ার আওয়াজ শুনতে পেয়ে তাঁবু থেকেই জানতে চাইলাম, তারা কেমন আছেন? এমএ সাত্তার জবাব দিলেন সবার আগে, আমি ভালো আছি। এখন সুস্থ। বারাফু ক্যাম্পে যেতে পারবো।
শুনে হেসে বললাম, খুব ভালো কথা। সব ধরনের পরিস্থিতিতে ?মোরাল হাই? থাকা ভালো।
এ বেলা নিয়াজ তাঁবু থেকে বের হয়ে জানালেন, রাতে এমএ সাত্তার প্রকৃতির ডাকে সারা দিতে একবার বের হয়েছিলেন। তখন তাকে সহায়তা করার জন্য তিনিও উঠে পড়েছিলেন। এমএ সাত্তারকে জুতা পরিয়ে দেয়াসহ সব ধরনের কাজে তাকে যথাসম্ভব সহায়তা করেছেন তিনি। তাকে এজন্য ধন্যবাদ জানালাম। কিন্তু পরিস্থিতি ঠিক কতোটা জটিল আকার ধারণ করতে পারে, তা তখনো ঠাউরে উঠতে পারি নি।
সকাল সাড়ে ছ?টার দিকে ধীরে ধীরে ক্যাম্প জেগে উঠছে। পর্বতারোহী, গাইড ও কিচেন স্টাফদের যুগপৎ কোলাহলে এক পর্যায়ে শোরগোল শুরু হলো। কিন্তু তখনও সূর্যের পুরো আলো এসে পৌঁছায় নি। কিন্তু তাতেই বারানকো হাট-এর পুরো এলাকা বেশ দৃশ্যমান। গতকাল তো হোয়াইট আউট থাকার কারণে শুধু নিজের তাঁবুর স্থানটুকুই চিনে রেখেছিলাম।

দূর পাহাড়ের গায়ে শুধু সূর্যের আলো পড়েছে। এ সময়ে চারদিকে চোখ বুলিয়ে দেখি যে বারানকো হাট আসলে একটা উপত্যকার মাঝে সমতল জায়গায় গড়ে উঠেছে। শুধু কিলিমানজারো অভিযানে মাচামি ও লেমোসো রুট ধরে যারা আসেন, তারাই এখানে রাত কাটান। কিন্তু দু?পাশে এমন উঁচু পাহাড় কেন? কিলিমানজারো পর্বত তো কিবোসহ আরও দু?টো আগ্নেয়গিরির লাভা থেকে সৃষ্টি হয়েছে। সে হিসাবে তো কিলিমানজারোর পর্বতের পাশে এমন উপত্যকা তো থাকার কথা নয়। আর এই উপত্যকার দু?পাশে পর্বতের চেহারা দেখে মনে হয় এসব পার্বত্য চেহারা শুধু মাত্র ভূমিকম্প থেকেই সৃষ্টি হওয়া সম্ভব। হিমালয়ে যেমনটা হয়েছে। তখন এর চেয়ে আর বেশি চিন্তা না করে বইপত্র ঘেঁটে এর উত্তর খুঁজে নেয়া যাবে, এমন বুঝ দিলাম মনকে।

সকাল গড়িয়ে চলল। নাশতা খেতে বসে এমএ সাত্তারের কাছে জানতে চাইলাম যে তিনি কেমন বোধ করছেন? শরীর ঠিক আছে কি না? এখনো কি মাথা ব্যথা করছে?
তিনি সহাস্যে উত্তর দিলেন, পুরোপুরি ঠিক। তার এমন উত্তরে ঠিক বুঝতে পারলাম না যে তিনি শারীরিকভাবে আজকের দিনের জন্য প্রস্তুত কি না। এরপর তিনি উল্টো যখন জিজ্ঞেস করলেন, আমরা কখন বারাফু ক্যাম্পের দিকে রওয়ানা দিচ্ছি? তখন তাকে পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে মোশিতে নেমে যেতে বলার পর যখন একপ্রকার জিদ ধরে বসে থাকলেন, পুরো ঘটনায় চিন্তা-চেতনা গোলাতে শুরু করেছে।
এমএ সাত্তারকে বলছিলাম, গতকাল আপনাকে যে অবস্থায় উদ্ধার করে এখানে আনা হয়েছে, তাতে আপনার আর ওপরের দিকে যাওয়া ঠিক হবে না। কারণ অ্যাকিউট মাউন্টেন সিকনেস হলে তার একমাত্র প্রাকৃতিক প্রতিকার হচ্ছে নিচের দিকে নেমে যাওয়া। আবার শরীর ঠিক হলে পরে আপনি উচ্চতা পার হতে পারেন। কিন্তু যে মুহূর্তে আপনার আলটিচ্যুড সিকনেস হচ্ছে, ঠিক তার পরপর সুস্থ হয়ে ফের পুশ করা ঠিক নয়। তাতে আপনি আবার অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন।

এসব শুনে তিনি বললেন, আমি একদম ঠিক আছি। কোনো সমস্যা হবে না। আর যদি কোনো সমস্যা হয়ই, তাহলে নিচে নেমে যাবো। তাতে আপনাদেরকে কোনোভাবেই জড়াবো না।
তার এ কথায় রাগ চরমে উঠল। কিন্তু মনকে শান্ত রাখলাম। এখন অযথা রাগারাগির কোনো মানে নেই। তাকে বললাম, দেখুন, একই কথা তো আপনি গতকালই বলতে পারতেন যে আপনার সমস্যায় আমাদেরকে জড়াবেন না। আর সবচেয়ে বড় বিষয় হলো যে দলের কেউ যদি অসুস্থ হয়ে পড়ে, তাহলে দলের সদস্য হিসাবে যে কেউই তাকে সহায়তা করার জন্য এগিয়ে আসবে। আমরা কেউ গতকাল অসুস্থ হলে আপনি সহায়তা করতেন না? তার কাছে প্রশ্ন রাখলাম।

এতো সব কিছু শোনার পর তার একটাই কথা - তিনি ঠিক আছেন, ওপরে যেতে কোনো সমস্যা হবে না। এসব কথা শুনে বিরক্ত লাগা শুরু হয়েছে। তারপরও মেজাজ ঠান্ডা রেখে তাকে বোঝাতে লাগলাম। বললাম, দেখুন, আমি পর্বতারোহণের বেসিক ট্রেনিং করেছিলাম ২০০৪ সালের এপ্রিল মাসে, দার্জিলিংয়ের হিমালয়ান মাউন্টেনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে। তখন কোর্স ডিরেক্টর ছিলেন বিশ্বের প্রথম এভারেস্টজয়ী শেরপা তেনজিং নোরগের শ্যালক নিমা নোরবু। তিনি আমাদের কোর্স চলাকালীন একটা কথা বলেছিলেন? ?যদি তুমি বুঝতে পারো যে কোনো কারণে আজ পর্বতারোহণ সম্ভব নয়, তাহলে পরদিন ফের চেষ্টা কর। আজ রিস্ক নিয়ে পর্বতারোহণ করতে গেলে যদি কোনো বিপদ হয়, তাহলে মনে রেখ পর্বত কিন্তু তার জায়গায় রয়ে যাবে। কিন্তু তুমি হয়তো আর থাকবে না।?

এমএ সাত্তার এসব শুনে ফের বলছেন - আরে আমাকে নিয়ে চিন্তা করিয়েন না। আমি ঠিক বারাফু ক্যাম্পে যেতে পারবো। আর যদি নাই পারি, তাহলে নিচে নেমে যাবো।
এরপর এমএ সাত্তারকে বললাম, দেখুন, আপনি যদি নিমা নোরবু?র কথাটাকে অগ্রাহ্যই করতে চান, তারপরও বলবো যে আপনি এই কিলিমানজারো অভিযান তো উপভোগ করতে এসেছেন। কোনো কষ্ট করতে নয়। অযথা রিস্ক কেন নিবেন? এই সামান্য অভিযানে এসে যদি আপনার প্রাণ সংশয় হয়, তাহলে এর উত্তর কি দিব সবাইকে? আমাদের দেশে এই একটা ক্ষেত্রে এখনো কোনো দুর্ঘটনা ঘটে নি। এটা নিয়ে আমরা গর্ব করি। কিন্তু আল্লাহ না করুন আপনার যদি কিছু একটা হয়, তাহলে আপনার পরিবারের কাছেই তো মুখ দেখানোর কিছু থাকবে না। অন্যদের কথা তো বাদই দিলাম।

আর পর্বতাভিযানে ?সেফটি ফার্স্ট?। এর কোনো বিকল্প নেই। এ কথাটি চূড়ান্তভাবে কিলিমানজারো অভিযান শুরুর আগেই মোশিতে সবাইকে বলেছি। এখানে আমিও যদি অসুস্থ হয়ে পড়তাম, তাহলে আমাকেও একই নিয়ম মানতে হতো। আপনাকে বিশেষভাবে এখানে কেউই দেখছে না। বরং সাধারণ নিয়মে যা করা উচিত, যেটা করলে আপনার জন্য মঙ্গল, সেই কাজটিই আমরা করতে চাইছি। আপনাকে এজন্যই মোশিতে ফিরে যেতে হবে।
কিন্তু তারপরও তার একই কথা তিনি যাবেন। এবার বুঝলাম যে, সোজা আঙ্গুলে ঘি উঠবে না। আঙ্গুল বাঁকা করতে হবে। এবার আর্নিকে ডেকে জানিয়ে দিলাম যে এমএ সাত্তার বারাফু ক্যাম্পে যাচ্ছেন না। তিনি মোশি ফিরে যাবেন। এজন্য গাইড আর একজন পোর্টারকে প্রস্তুত হতে বল। আর রেঞ্জার্সদেরকেও খবর দাও যে একজন অসুস্থ পর্বতারোহী ফিরে চলেছেন। তারা যেন তাকে সহায়তা করেন মোশি ফিরে যাওয়ার ব্যাপারে।

এমএ সাত্তারকে আরও বোঝালাম। বললাম, দেখুন, আপনি যেভাবে জিদ ধরে বসে আছেন, তাতে গতকাল যতোজন মানুষ আপনার সুশ্রুষার জন্য উঠেপড়ে লেগেছিল, সেটাকে তো পুরোই অপমান করা হচ্ছে। তাদের অবদানকে ফের উপেক্ষা করতে চাইছেন আপনি। সবচেয়ে বড় কথা, আপনার যদি আরও উচ্চতা পাড়ি দেয়ার সামর্থই থাকতো, তাহলে এতোজন মানুষ তো আপনাকে নিচে চলে যাওয়ার পরামর্শ দিত না। আমার কথা না হয় বাদই দিলাম, এই যে আর্নি, গতকালের যে গাইড অক্সিমিটার দিয়ে সহায়তা করলো, যে পর্বতারোহীটি পাওয়ার জেল দিয়ে সহায়তা করলো, এমনকি যারা যারা আপনাকে গতকাল ওই অবস্থায় দেখেছে, তাদের সবাই আপনার ভালোই চায় এবং চেয়েছে। তারা সবাই একবাক্যে আপনার ভালোর জন্য নিচে পাঠিয়ে দেয়ার পরামর্শ দিয়েছে। আরেকটা বিষয় হলো, আপনার শরীরের কি অবস্থা, তা আপনি নিজেই বুঝতে পারছেন না। সে কারণেই আরও ওপরে যাওয়ার জন্য জিদ ধরে বসে আছেন। সবার আগে নিজের দিকে আপনার নজর দেয়া উচিত। দলের কথা না হয় বাদই দিলাম।
এবার এমএ সাত্তারকে বললাম, আপনি শুধু এখন এটা নিয়ে পরামর্শ করার এখতিয়ার রাখেন যে, যে গাইড আর পোর্টারসহ আপনাকে মোশিতে ফেরত পাঠাচ্ছি, তাদেরকে বাদ দিয়ে অন্য কাউকে আপনি সঙ্গে রাখতে চান কি না?
তারপরও এমএ সাত্তার চেষ্টা করে চলেন। তিনি যখন জেনেই গেছেন যে ডেভিড তার সঙ্গে ফিরতি যাত্রায় সঙ্গী হবেন। এবার তিনি ডেভিডকে ?ম্যানেজ? করার চেষ্টা শুরু করলেন। তাকে বলতে শুরু করলেন যে আমরা ক্যাম্প ছেড়ে যাওয়ার পর তিনি ডেভিডকে নিয়ে বারাফু ক্যাম্পের দিকে রওয়ানা হবেন। এটা আবার ডেভিড আর্নিকে গিয়ে জানাল। আর্নির কাছ থেকে বিষয়টা নিয়াজ হয়ে আমার কানে যখন এসেছে, তখন বুঝলাম বিষয়টা শক্ত হাতেই সামলাতে হবে। এবার ডেভিডকে বললাম, তোমার পোর্টারকে নিয়ে আস। পোর্টার এমএ সাত্তারের ব্যাগপ্যাক, স্লিপিং ব্যাগ, ম্যাট্রেস ইত্যাদি নিয়ে রওয়ানা হয়ে যাক। আর তুমি তাকে নিয়ে রওয়ানা হও।

এবার কাজ হলো। এমএ সাত্তার, ডেভিড আর একজন পোর্টার ফিরে চললেন মোশির দিকে। কিন্তু তার মনটা ভার। এটাই স্বাভাবিক। এ কয়েকটা দিন একই সঙ্গে বেশ ছিলাম - হাসি ঠাট্টায়, মিলে মিশে। আজ সেখানে ছেদ ঘটল। আর দলনেতা হিসাবে অপ্রিয় কাজটা আমাকেই করতে হলো। অপ্রিয় হলেও দলের সদস্যদের পুরো সুস্থভাবে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্বটা কিন্তু আমারই। তাতে অনেক কাজই হয়তো সবার মনঃপূত হবে না।
এবার আমাদের প্রস্তুত হওয়ার পালা। এর মধ্যেই সূর্যের আলো এসে পড়েছে ক্যাম্পে। এমএ সাত্তারকে বুঝিয়ে মোশি পাঠানোর কসরৎ করতে গিয়ে অনেক দেরি হয়ে গেল। এরই মধ্যে ক্যাম্প প্রায় খালি। সবাই রওয়ানা দিয়ে দিয়েছেন পরবর্তী গন্তব্যের দিকে। বারানকো হাট ছেড়ে ট্রেক শুরুর মিনিট দশেকের মধ্যেই একেবারে খাড়া একটা রিজ বেয়ে বারানকো ওয়াল পার হতে শুরু করেছেন সবাই। দেখে মনে হচ্ছে যেন পর্বতের দেয়ালে এক সারি পিঁপড়া বেয়ে বেয়ে উঠছে। সেই দৃশ্য ক্যামেরায় তুলে নিলাম।

কেউ কেউ আজ খাড়া চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে ১৩,৭৭৬ ফুট উচ্চতাবিশিষ্ট কারাঙ্গা ভ্যালিতে থেকে যাবেন। সময়ে হিসাবে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা লাগবে কারাঙ্গা ভ্যালিতে পৌঁছাতে। সে হিসাবে যারা কারাঙ্গা ভ্যালিতে যাত্রাবিরতি করবেন, তারা হেলেদুলে রওয়ানা দিতেই পারেন। কিন্তু আমাদের গন্তব্য ১৫,০৮৮ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত বারাফু হাট। কারাঙ্গা ভ্যালি থেকে সেটা আরও প্রায় আড়াই ঘণ্টার পথ। কারাঙ্গা ভ্যালিতে আমাদের দুপুরের খাওয়ার আয়োজন করা হবে। সুতরাং দেরি করার কোনো ফুরসত নেই।
ঝটপট ব্যাগ গুছিয়ে রওয়ানা দিতে দিতে সাড়ে আটটা বেজে গেল। ততোক্ষণে ক্যাম্পে মাত্র এক কি দু?জন পোর্টার আর কিছু কাক ঘুরে বেড়াচ্ছে। আজ অনেকটা পথ পাড়ি দিতে হবে। সেটা গতকালের চেয়ে অনেক বেশি পরিশ্রমের। চোখ বন্ধ করে মনটাকে একটু শান্ত করে নিলাম। যা হয়ে গেল, তাতে মনের ওপর দিয়ে অনেক বেশি ঝড় বয়ে গেছে। এখন আবার আরেকটা পরিশ্রমের কাজ। মনকে বুঝ দিতে শুরু করলাম - সবকিছু ঠিক আছে। কোনো সমস্যা নেই। এরপর শুরু হলো ট্রেক।

কিছুক্ষণের মধ্যেই বারানকো ওয়ালের গোড়ায় হাজির হলাম। আসলেই পর্বতের গা বেয়ে উঠে যাচ্ছেন সবাই। ক্যাম্প থেকে তাহলে ভুল কিছু দেখি নি। কিন্তু গা বেয়ে ওঠার এন্ট্রি পয়েন্টে বেশ ট্র্যাফিক জ্যাম। পর্বতারোহীরা পোর্টারদের পথ ছেড়ে দাঁড়িয়েছেন। কারণ তাদের মাথায় অনেক বড় বোঝা। কেউ কেউ প্রায় ত্রিশ থেকে চল্লিশ কেজি ওজনের মুট বহন করছেন। যদিও আমাদেরকে বলে দেয়া হয়েছিল একেকজন পোর্টার সর্বোচ্চ বিশ কেজি ওজনের মুট বহন করবেন, এর চেয়ে বেশি ওজন কিছুতেই তাদেরকে দেয়া যাবে না বা বহন করার অনুরোধও করা যাবে না। বুঝলাম সবই শুভঙ্করের ফাকি। নিয়াজের মতে তানজানিয়ার সব জায়গাতেই ?কুচাকাচুয়া?।

এবার হঠাৎ করে মেঘ ভেসে আসছে। বারানকো ভ্যালি দিয়ে এই সাতসকালেই ক্যাটাউইটিক উইন্ড-এর ওপর ভর করে মেঘ ওপরের দিকে যাচ্ছে। রাতে যখন নিচের দিকে বাতাস ঠান্ডা হয়ে যায়, সে সময়ে এই বাতাস ওপর থেকে নিচের দিকে বইতে থাকে। আর সকালে সূর্য ওঠার পরপরই যেহেতু পর্বতের গা নিচের যেকোনো জায়গার চেয়ে আগে গরম হয়, তাই বাতাস ফের নিচ থেকে ওপরের দিকে বইতে শুরু করে। এখন ওপরের দিকে চলমান বাতাসে ভর করে মেঘও ওপরের দিকে যাচ্ছে। কিছুক্ষণের মধ্যে সেই মেঘ পর্বতারোহী, গাইড, পোর্টারসহ সবাইকে ঢেকে দিল। কুয়াশার যেমন বড় বড় দানা, এই মেঘেরও তাই। সেই মেঘ ক্রমাগত ভিজিয়ে দিল সবাইকে।
কিলিমানজারো আরোহণের আজকে চতুর্থ দিন। গত তিন দিনের চেয়ে আজকেই পর্বতারোহণে সবচেয়ে বেশি শিহরণ অনুভব করছি। কারণটা ছিল বারানকো ওয়াল। এই ওয়ালের প্রতিটি পদক্ষেপ খুব সাবধানে ফেলতে হচ্ছিল। না হলে স্থায়ী ঠিকানা হবে সরাসরি একেবারে নিচের ভ্যালিতে। বিশাল বপুওয়ালা যারা এই পর্বতারোহণে এসেছেন, তাদের অবস্থাটা এই ওয়াল বেয়ে পার হওয়ার সময় দেখার মতো হলো। একেবারে হাচড়ে-পাচড়ে উঠছেন তারা।

কিছুদূর ওঠার পর নিচের দিকে তাকাতেই মনটা ভরে গেল। ঘন মেঘের ওপর সূর্যের আলো এসে পড়েছে। তাতে রংধনু সৃষ্টি হয়েছে। পর্বতারোহণের এই তো মজা। প্রতিটি মুহূর্তে, প্রতিটি পরতে পরতে রং বদলাতে থাকে পর্বত। সেই সৌন্দর্যই কাছে টানে পর্বতারোহীদের। সেই সঙ্গে শীর্ষে পৌঁছানোর জন্য রক্তে যে অ্যান্ড্রেনালিনের ডাক এসে পড়ে, এসবই পর্বতারোহীদেরকে ঘরে বসে থাকতে দেয় না।
প্রায় ঘণ্টাখানেক ধরে এই আরোহণ চলল। আমার সময় লাগল একটু বেশি। কারণ আরোহণও করছি আর ক্যামেরায় যথাসম্ভব সবকিছু তুলে নিচ্ছি। খানিক পর দেখি যে নিয়াজ, আর্নি ও অ্যান্টিপাস আমার জন্য অপেক্ষা করছেন। তাদের সঙ্গে দেখা হতেই নিয়াজ প্রথমেই বললেন, বারানকো ওয়ালের গা বেয়ে যেভাবে উঠে আসতে হলো, আমি নিশ্চিত যে এমএ সাত্তার এই পথে এলে একটা বিপদ ঘটতই। তার শরীরের অবস্থা এই ধকল সইতে পারতো কি না সন্দেহ। আর্নিও তার কথায় সায় দিলেন।
এরপর ফের চড়াই পার হওয়া। মিনিট বিশেকের মধ্যে একটা চড়াইয়ের মাথায় গিয়ে হাজির হলাম। সেখানে বিশ্রাম। কেউ কেউ ক্রমাগত আরোহণের ফলে ঘেমে যাওয়ায় শরীর থেকে অতিরিক্ত পোশাক খুলছেন। আবার যারা মাত্র একটা টি-সার্ট চাপিয়ে ট্রেক শুরু করেছিলেন, তারা উল্টো কাজটাও করছেন। ব্যাগ থেকে উইন্ডব্রেকার বের করে পরে নিচ্ছিলেন। কারণ তখন বেশ বাতাস বইছিল। আর আকাশে মেঘের পাগলামি শুরু হয়ে গেছে উন্মাতাল বাতাসকে সঙ্গী করে। মাথার ওপর একই জায়গায় মেঘ কুন্ডলি পাকিয়ে শুধুই ঘুরছিল।

এখান থেকেই কিলিমানজারো পর্বতের একটা ফেস মেঘের ভেতর থেকে হঠাৎ বের হয়ে ফের হারিয়ে যাচ্ছিল। এখান থেকে কিলিমানজারোর চেহারা নেপালের এভারেস্ট বেস ক্যাম্প সংলগ্ন কালাপাত্থার থেকে এভারেস্টকে যেমন লাগে, অনেকটা তেমন। সেই একইরকম কালো রুক্ষ ও কিছুটা বরফময়। সেটা দেখামাত্র পর্বতারোহীদের মধ্যে ছবি তোলার হিড়িক পড়ে গেল। দূর থেকে মনে হয় সব পর্বতের কাছে গেলে তা দৃষ্টিসীমায় অর্থাৎ চোখ বরাবর উচ্চতায় চলে আসবে। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। যতই কাছে যাওয়া যায়, পর্বতের চূড়াকে ঘাড় উঁচিয়ে দেখতে হয়। এখনও ঠিক সেভাবেই কিলিমানজারোকে দেখতে হচ্ছিল।
এখান থেকে মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক পাওয়া যায়। এ সময় আইজ্যাককে ফোনে যুক্ত করার অনুরোধ করাতে আর্নি তার মোবাইল ফোন এগিয়ে দিলেন। আইজ্যাকের সঙ্গে কথা বলে তাকে এমএ সাত্তারের পরস্থিতি ব্যাখ্যা করলাম। তিনি জানালেন যে আর্নি ইতিমধ্যেই তাকে এমএ সাত্তারের কথা জানিয়েছেন। এমএ সাত্তার মোশি পৌঁছলে ভালো একজন ডাক্তারকে দিয়ে যেন তার শরীর পরীক্ষা করা হয়, এ অনুরোধ জানিয়ে ফোন রাখলাম।
দশ কি পনের মিনিট পার হয়ে গেল। আর্নি এসে তাড়া লাগালেন ট্রেকিং শুরু করার জন্য। আমরাও ব্যাগ পিঠে নিয়ে রেডি। এবার কিছুটা নিচে নামতে হবে। আগের মতোই নিয়াজের পায়ে এক্সপ্রেস গতি লেগে গেল। অনেকটা দৌড়ে দৌড়ে নামতে শুরু করলেন। আর আমি স্বাভাবিক গতিতেই নামছিলাম। ?নো হারি ইন আফ্রিকা?।
এক পর্যায়ে এই পতন থামলো। গাছপালা অনেক আগেই দূর হয়ে গেছে। কিন্তু মাঝে মধ্যেই একেকটা ভ্যালিতে বেশ অনেকটা জায়গাজুড়ে সার বেধে গাছের অস্তিত্ব দেখলাম। কিন্তু হয়তো একই উচ্চতায় আরেকটা পর্বতের রিজে বা পর্বতের গায়ে কোনো গাছের অস্তিত্বই নেই। পাশাপাশি দু?জায়গায় এমন বিপরীত চেহারা!

এখানে তেমন কোনো বন্যপ্রাণী নেই। আকাশে শুধু কয়েকটা ঈগল আর কাক উড়ছে। ফের আরেকটা রিজ এসে হাজির হলো। এটা পার হয়ে একটানা প্রায় ঘণ্টা দু?য়েক ট্রেক করেছি। এরপর কারাঙ্গা ভ্যালিতে লোকজনের কর্মকান্ড চোখে পড়ল। কারাঙ্গা ভ্যালিতে পৌঁছাতে তখনও একটা ভ্যালি পার হতে হবে। অর্থাৎ একটা পর্বতের গা বেয়ে নিচে নেমে কিছুটা সমতলে হেঁটে অপর পাশে কারাঙ্গা ওয়াল বেয়ে প্রায় একই উচ্চতায় কারাঙ্গা ভ্যালিতে উপস্থিত হতে হবে। এপাশ দিয়ে নামাটাও দেখলাম বেশ ঝক্কির। তাই এবার বসে একটু জিরিয়ে নিতে ইচ্ছা করলো। ঘড়িতে সময় তখন প্রায় বারটা।
ব্যাগ পিঠ থেকে নামাতেই বাম দিকে যেই না দৃষ্টি ফিরিয়েছি, ভূমির সমান্তরালে ঝুলে থাকা এক পর্বতের বাড়তি অংশ দেখে আশ্চর্য হতে হলো। কচ্ছপ তার শরীর থেকে মাথা বের করলে যেমনটা দেখায়, ঠিক তেমনি দেখতে লাগছে এই বাড়তি অংশটুকু। যেখান থেকে এটি ঝুলে রয়েছে, তা থেকে নিচের পর্বতের গা অনেকটা ফাঁকা। ফলে প্রয়োজন হলে যে কেউ এখানে একটা অস্থায়ী আশ্রয় হিসাবে গুহা বানিয়ে দিব্যি রাত কাটাতে পারেন।

কারাঙ্গা ভ্যালি থেকে পোর্টাররা এই ভর দুপুরে ফের নেমে আসছেন। সঙ্গে পানি সংগ্রহের জেরিক্যান বা বড় কন্টেইনার। নিচেই কোথায় যেন পানির উৎস রয়েছে। সেখান থেকে পানি ভরে নিয়ে তারা চলেছেন কারাঙ্গা ভ্যালিতে। পুরো প্রক্রিয়াটা দেখতে অনেকটা ঢাকার কোনো নির্মীয়মাণ ভবনের মতো লাগছে, যেখানে কর্মীরা মাথায় ঢালাইয়ের সরঞ্জাম নিয়ে সারবদ্ধ হয়ে একেকজন আরেকজনের কাছে পৌঁছে দেন।
এখানে পর্বতের গা অনেকটাই সেন্ট মার্টিন দ্বীপের সাগরের পানিতে পড়ে থাকা পাথরের মতো খাঁজ কাটা। ফলে বেশ ধারালোও। সেটায় সাবধানে পা ফেলে নামতে শুরু করেছি। একটা জায়গায় আবার পানির ধারা। ফলে বেশ পিচ্ছিল। এবার সেই প্রায় পঞ্চাশ ডিগ্রি ঢাল এঁকেবেঁকে পা টিপে টিপে নামছি। সুবিধা হলো? আর্নি?র কাছে জেনে নিয়েছি, এই পথে আর আমরা ফিরছি না। ফিরবো অন্য একটা রুটে যেখানে বারাফু ক্যাম্প থেকে চূড়ায় যাওয়ার পথটুকুই শুধু সাধারণ।

কিছুক্ষণের মধ্যে একেবারেই নিচে। এবার ওপরের দিকে উঠতে হবে। আবার ফুসফুসের ওপর চাপ। প্রায় বিশ মিনিট সময় নিয়ে এবার পৌঁছেছি কারাঙ্গা হাট-এ। ঘড়িতে তখন দুপুর প্রায় একটা। সে সময়ে প্রচন্ড বাতাস সেখানে। আকাশে আগের মতোই বাতাসের সঙ্গে মেঘ কুন্ডুলি পাকিয়ে দিগি?দিক ছুটছে। তীব্র সূর্যও যেন বাতাসের কাছে হার মেনে গেছে। এতোটাই ঠান্ডা বাতাস। এরই মধ্যে তাঁবু বসে গেছে। তার মধ্যে রান্নাবান্নার আয়োজনসহ খাওয়াদাওয়ার পর্ব চলছে। কেউ কেউ আজ এখানেই রাত কাটানোর সব ধরনের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন। কিন্তু দিনের মাত্র তখন মধ্যভাগ। আমাদেও শরীরে তখনও বেশ খানিকটা পথ পাড়ি দেয়ার শক্তি রয়েছে। কাজেই দুপুরের খাওয়াদাওয়া শেষে বারাফু ক্যাম্পে যাওয়ার ব্যাপারেই সিদ্ধান্ত নেয়া হলো।
এখান থেকে একটা পথ পূবে গেছে বারাফু হাট-এর দিকে। আরেকটা পথ গেছে কন্টিনেন্টাল ক্যাম্পে। যেটা কি না আসলে সবশেষে মেওকা ক্যাম্পের দিকেই গেছে। তবে কন্টিনেন্টাল ক্যাম্পের রুট ধরে কেউ ওই পথে হাঁটেন না। যদি না কেউ খুব বেশি অসুস্থ হয়ে পড়েন। এ পর্যায়ে কারও মধ্যে অ্যাকিউট মাউন্টেন সিকনেস দেখা দিলে তাকে এখান থেকে কন্টিনেন্টাল ক্যাম্পের রুটের পথেই উদ্ধারের চেষ্টা করা হয়।

আর্নি এসে জানালেন, আমাদের খাবার দিতে দেরি হবে। কারণ পোর্টাররা পানি সংগ্রহের জন্য নিচে গেছে। তারা এখনও ফেরে নি। ফিরলেই খাবার দিয়ে দেয়া হবে। প্রায় বিশ মিনিট পর খাবার দেয়া হলো। তার আগে হাত ধোয়ার পানি। আগের মতোই হাত ধুলায় ভরা থাকায় হাত ধোয়া পানি কালো হয়ে গেল।
সালাদ, টোস্ট, ডিম সেদ্ধ, জুস প্যাক, স্যুপ, স্প্যাগেটি, সবজি ইত্যাদি দিয়ে সাজানো হয়েছে দুপুরের খাবারের মেন্যু। খেতে খেতেই আর্নি এসে আবার জানাল যে, যেহেতু বারাফু ক্যাম্পে পানির পর্যাপ্ত সুবিধা নেই এবং এই কারণে সবাই এই কারাঙ্গা ভ্যালি থেকেই পানি বয়ে নিয়ে যায় বারাফু ক্যাম্পে, যা বেশ কষ্টসাধ্য কাজ, সুতরাং আমরা যেন আমাদের পানির বোতল এ বেলা ভরে নিই। কারণ বারাফু ক্যাম্পে পর্যাপ্ত পানি নাও পাওয়া যেতে পারে। শুনে রাগ হলো। কারণ এক বা দুই বোতল পানিতে আর কি হবে? এটা দিয়ে তো আজ রাতেই যে সামিট পুশে যাওয়ার কথা, তার জন্য প্রয়োজনীয় পানির চাহিদা তো মিটবে না। আর ১৫,০৮৮ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত বারাফু হাট-এ যদি সামিট পুশের আগে পর্যাপ্ত পানি না-ই পাওয়া যায়, আর পানির ঘাটতির কারণে যদি শরীরে মাউন্টেন সিকনেস দেখা দেয়, তাহলে সেদিন ভোররাতে কিভাবে আরও প্রায় ৪,২৫২ ফুট উচ্চতা পেরিয়ে কিলিমানজারোর উহুরু পিক (Uhuru Peak)-এর চূড়ায় অর্থাৎ ৫,৮৯২ মিটার বা ১৯,৩৪০ ফুট উচ্চতায় পৌঁছাবো? এটা তো কোনো কাজের কথা হলো না। ২০০৫ সালের মে মাসে নেপালে মেরা পর্বতাভিযানে হাই ক্যাম্পে পৌঁছে নিজের অনভিজ্ঞতার কারণে পর্যাপ্ত পানি পান ও খাবারদাবার না খাওয়ায় সেবার যে চোখমুখ ফুলে গিয়েছিল, যা ছিল আসলে মাউন্টেন সিকনেস, এবং এর ফলে যে ভোররাতে আর সামিট পুশে যাওয়া হয় নি, আসলে ইচ্ছাই করছিল না অসুস্থ শরীরে আরও উচ্চতা পেরোতে, সেই ঘটনা মনে করেই আসলে রাগটা হচ্ছে বেশি। তাই আর্নিকে পানির যোগান নিশ্চিত করতে যেই একটু চাপ দিয়েছি, সে যেন তেড়ে উঠল এবার। তার চোখেমুখে অনাবশ্যক উপেক্ষা বেশ স্পষ্ট। যাদেরকে এ ক?দিনে আপন করে নিয়েছি, তাদেরই একজন কি না এমন আচরণ করছে? এই আর্নিকে আমরা চিনি না। সে সাফ জানিয়ে দিল, বারাফু ক্যাম্পে পানির জন্য সে ফের পোর্টারদেরকে কারাঙ্গা ভ্যালিতে পাঠাতে পারবে না।
এ নিয়ে আর কোনো কথা হলো না। মাথা ঠান্ডা রাখলাম। আর্নিকে বোঝালাম যে, তার কথা মেনে নিয়েছি। মনে মনে সিদ্ধান্ত নিয়ে রাখলাম, যদি পানির কারণে কোনোভাবেই অভিযান ভেস্তে যায়, তাহলে এর জন্য আর্নিকে চরম মূল্য দিতে হবে। অবশ্য, শেষ পর্যন্ত প্রয়োজনীয় পানির সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছিল, সে গল্প পরে।

আর্নির এমন আচরণে নিয়াজ আর আমি মুখ চাওয়াচাওয়ি করছি আর খাবার খাচ্ছি। এবার ক্যাম্পের পরিবেশ একেবারে ঠান্ডা। কেউ কোনো কথা বলছি না। খাওয়া শেষ হতেই কোনো কথা না বলে বোতলে পানি ভরে নিয়ে যেই না চড়াই পার হওয়া শুরু করবো, চারদিক হোয়াইট আউট হয়ে গেল। আর সঙ্গে ঠান্ডা বাতাস। ঠান্ডা ঠেকাতে এবার উইন্ডব্রেকার চাপাতে হলো।। কিন্তু সাবলীল চড়াই ধরে মিনিট দশেক হাঁটার পরই একেবারে ঘেমে গেলাম। তারপরও গা থেকে উইন্ডব্রেকার খুলছি না।
এ পথে বড় বড় বোল্ডার। গাছের চিহ্নমাত্র নেই। চারদিক একেবারে খা খা করছে। হঠাৎ খেয়াল হলো এক-দু?ফোটা করে তুষার পড়ছে। এবার সত্যিকারই বোঝা গেল যে তাপমাত্রা ঠিক কতোখানি নেমে গেছে। মাল্টিফাংশন ঘড়িতে তাপমাত্রা দেখাল নয় ডিগ্রি সেলসিয়াস। সেটা তো শরীর ও বাইরের মিলিত তাপমাত্রা। শুধু বাতাসের তাপমাত্রা নিশ্চয়ই আরও কম হবে।

এ যাত্রা রিজে ওঠার আগ পর্যন্ত পুরো পথ বোল্ডারের মধ্য দিয়ে। এর তেমনকিছু ক্যামেরায় তোলার আগ্রহ না পাওয়ায় এবার নিজ গতিতে একটানা এগিয়ে চলেছি। তাতে নিয়াজ পিছিয়ে পড়েছেন খানিকটা। তার থেকে আমার দূরত্ব মিনিট দশেকের হাঁটা পথ। আমার সঙ্গে এবার আর্নি। কিন্তু দুপুরের ঘটনার পর তার সঙ্গে একান্ত প্রয়োজন না হলে কোনো কথা হচ্ছে না। তার কথায় যে আমরা আহত হয়েছি, তা হয়তো সে কিছুটা আঁচ করতে পেরেছে।
কারাঙ্গা ভ্যালি থেকে বারাফু হাট-এ পৌঁছার আগে মোট তিনটি রিজ পার হতে হয়। এসব রিজ সাবলীল উচ্চতায় গিয়ে শেষ হয়েছে। কোনোটাই তেমন খাড়া নয়। শুধু বারাফু হাট-এর আগেরটা ছাড়া। বারাফু ক্যাম্পলাগোয়া রিজের আগের রিজে পৌঁছতে ঘড়িতে প্রায় সাড়ে তিনটা হয়ে গেল। এখান থেকে বারাফু ক্যাম্প স্পষ্ট দেখা যায়। এমনকি ক্যাম্পে লোকজনের চলাফেরাও সহজেই নজরে আসে। যদিও তাদের আকার খুব বেশি বড় নয়।

এ সময় নিয়াজের জন্য অপেক্ষা করছি। কিন্তু তার দেখা নেই। এর ভেতর বোতল বের করে কিছু পানি খেতেই ফের আর্নির ঘটনাটা মনে পড়ে যায়। আর মনটাও খারাপ হতে থাকে। অল্প কিছুক্ষণের মধ্য নিয়াজ এসে পড়লেন। এবার তাকে বিশ্রাম নিতে দিয়ে পথ এগোনো শুরু হলো। এখান থেকে বারাফু ক্যাম্প পর্যন্ত পথ পুরোটাই চোখে ভাসে। সুতরাং নিয়াজকে রেখে গেলেও আমাদের অবস্থান বুঝতে তার কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়।
বারাফু ক্যাম্পের চড়াইটার ঠিক সামনে থেমে গেলাম। নিয়াজসহ একই সঙ্গে চড়াই পার হবো - এ চিন্তায়। কিন্তু হাঁটা বন্ধ করতেই ঠা-া লাগতে শুরু করে। এ সময় মুখে চিনির লজেন্স পুরে তা চিবাতে শুরু করেছি। মিনিট সাত-আটেকের মধ্যে নিয়াজ চলে আসার পর একটু পানি খেয়ে নিয়ে সেই চড়াই পার হওয়ার তোড়জোড় শুরু হলো। নিয়াজের হাতে ওয়াকিং স্টিক। কাজেই তিনি বেশ এদিক ওদিক স্টিক লাগিয়ে উঠছেন। আর আমি খালি হাতেই পর্বতের গায়ের এবড়ো খেবড়ো গা ধরে উঠছি। এ পর্যায়ে কিলিমানজারো পর্বতচূড়া একেবারে সামনে হাজির হয়েছে। কিন্তু সেই চূড়ায় পৌঁছানোর জন্য যে ঢালটা বেয়ে উঠতে হবে, সেটা বেশ মারাত্মকরকম ঢালু বলে মনে হলো। তবে সেটা নিয়ে চিন্তা না করে এখন ক্যাম্পে পৌঁছানোর দিকেই মনোনিবেশ করলাম।

বারাফু ক্যাম্পের আগের রিজটা পার হতেই জোরালো বাতাস মুখে ঝাপটা মারলো। এখানেই আবার কন্টিনেন্টাল ক্যাম্প থেকে আসা রুট আমাদের রুটের সঙ্গে মিলেছে। ফলে বারাফু ক্যাম্পমুখী পর্বতারোহী, গাইড ও পোর্টারদের মিছিলটা বেশ পোক্ত দেখাচ্ছে। ক্যাম্পের তাঁবুর সমাবেশ তখন বেশ জোরালো।
এখান থেকে ক্যাম্পে পৌঁছাতে মিনিট দশেকের মতো লাগলো। আমাদের তাঁবু ফেলা হয়েছে ক্যাম্পের ঢালের সবচেয়ে নিচে। ফলে সামিট পুশের সময় আমাদেরকে আগে এই তাবুরণ্য পার হতে হবে। আর ক্যাম্পের সবচেয়ে ওপরে যারা তাঁবু করেছে, তারা সামিট পুশের সময় একটা ?টেকনিক্যাল বেনিফিট? পাবেন আগেভাগেই এগিয়ে থাকার কারণে।
আমাদের তাঁবুও ওপরের দিকে করা হলো না কেন? অ্যান্টিকে এবার জিজ্ঞেস করলেন নিয়াজ। জবাবে তিনি জানালেন, পোর্টাররা পৌঁছাতে দেরি করে করায় ওপরের দিকে জায়গা পাওয়া যায় নি। ফলে নিচের দিকে তাঁবু ফেলতে হয়েছে।

যাই হোক। ব্যাগ রেখে এবার চললাম বারাফু ক্যাম্পে রেজিস্ট্রেশন বুথে। এখানে সব পর্বতারোহী ও গাইডকে কিলিমানজারো আরোহণের আগে শেষবারের মতো নাম নিবন্ধন করতে হয়।
ততোক্ষণে আলো পড়ে এসেছে। সূর্য প্রায় ডুবি ডুবি করছে। সেই সঙ্গে বাতাসও বইছে প্রচন্ড। ফলে ঠান্ডায় তখন হি হি করে কাঁপছি। রেজিস্ট্রেশন শেষে দ্রুতই তাঁবুর দিকে ফিরে চললাম। ফিরেই ঠান্ডা ঠেকানোর প্রস্তুতি নেয়াতে ব্যস্ত হয়ে পড়লাম দু?জনে। ততোক্ষণে সূর্য একেবারে ডুবে গেছে। ফলে হেডল্যাম্প লাগিয়ে কাজ সারছি তখন। এরই মধ্যে পূব দিগন্তে আবার চাঁদ উঠে গেল। একেবারে পূর্ণিমা। এই আলোয় দূরের তাঁবু সহজেই চোখে পড়ে।

ঠান্ডার প্রস্তুতি নেয়া শেষ হতেই অ্যান্টিপাস এসে জানালেন যে রাতের খাবার দেয়া হয়ে গেছে। তাই এবার চললাম ডায়নিং টেন্টের দিকে। এই টেন্টটা একটা ঢালু জায়গায় করা হয়েছে। ফলে বসার যে ফোল্ডিং চেয়ার দেয়া হয়েছে, তাতে বেশ কসরৎ করে বসতে হচ্ছে। একটু পর খেয়াল হলো ঢালে বসার কারণে পিঠ ব্যথা শুরু হয়েছে। তাই এবার জায়গা বদলে আরাম করে বসার জায়গা খোঁজা শুরু হলো। খাবার খেতে খেতেই আর্নি, অ্যান্টিপাস, নিয়াজ ও আমার মধ্যে সামিট পুশের আগে সর্বশেষ আলোচনা করা হলো।
আর্নি তাঁবুতে ঢুকেই জানালেন, এমএ সাত্তারকে নিয়ে ডেভিড আর আরেকজন পোর্টার বিকেল বেলাতেই মোশি শহরে পৌঁছে গেছেন। আইজ্যাক সে সময়ই তাকে নিয়ে এক ডাক্তারের কাছে গিয়েছিলেন। ডাক্তার তার শরীর পরীক্ষা করে জানিয়েছেন যে তিনি শঙ্কামুক্ত। কাজেই তাকে নিয়ে আর কোনো ভয় নেই। সন্ধ্যাবেলা দুরাইয়া ও আকবর এমএ সাত্তারকে তাদের বাসায় নিয়ে গেছেন। সেখানে তিনি বেশ ভালোই সময় কাটাচ্ছেন। এসবই আর্নি বারাফু ক্যাম্পে পৌঁছে আইজ্যাককে ফোন করে জেনেছেন। শুনে চিন্তার পাথর যেন মাথা থেকে নেমে গেল।
এবার আর্নি বললেন, তার মতে রাত এগারটার দিকেই সামিট পুশ শুরু করা উচিত। কারণ ১৫,০৮৮ ফুট উচ্চতার বারাফু হাট থেকে প্রায় ৪,২৫২ ফুট পেরিয়ে ১৯,৩৪০ ফুট উচ্চতার কিলিমানজারোর উহুরু পিক-এ পৌঁছাতে ছয় থেকে সাত ঘণ্টা সময় লাগবে। আর ভোরের ঠিক পরপরই সামিটে পৌঁছাতে পারলে সেটা হবে সবচেয়ে ভালো। ক্যাম্পের সবাই মোটামুটি সেটাই করবেন - রাত এগারটার দিকে সামিট পুশ শুরু করবেন।

কিন্তু নিয়াজ জানালেন, আমরা বরং মধ্যরাত বারোটার দিকে ঘুম থেকে উঠে সাড়ে বারোটার দিকে রওয়ানা হবো। কারণ হিসাবে তিনি বললেন - আজ প্রায় পুরো দিনই ট্রেকিং করার ফলে শরীরের ওপর বেশ ধকল গেছে। সেটা রাত বারোটা অবধি ঘুমিয়ে পুষিয়ে নেয়ার চেষ্টা করবো। আর রাতের বেলা সামিট পুশ থেকে শুরু করে পরদিন যেহেতু প্রায় সারাদিন ট্রেইলে কাটাতে হবে, কাজেই শরীরকে এ বেলা বিশ্রাম দেয়া ভালো।
আমি যেকোনো সময়েই রওয়ানা দিতে পারি। কিন্তু দলনেতা হিসাবে টিমমেট-এর দিকেও আমার খেয়াল রাখতে হবে। সেজন্য নিয়াজের মতামতের ভিত্তিতেই আমার সিদ্ধান্ত জানালাম। সেই হিসাবে রাত বারোটার সময় আমাদের ?ওয়েক আপ কল? বা ঘুম থেকে ডাকা হবে। এরপর পুরো প্রস্তুতি নিয়ে খানিকটা চা-পানি আর বিস্কুট খেয়ে সামিট পুশ শুরু করবো।

অবশ্য আরেকটা সিদ্ধান্তও নেয়া হলো। যেহেতু ডেভিড নেই, কাজেই অ্যান্টিপাস তার চলতি দায়িত্বের চেয়ে আরেকটা বাড়তি দায়িত্ব পালন করবেন। তা হলো তিনি সহকারী গাইড হিসাবে সামিট পুশে দলের সঙ্গে যাবেন। অবশ্য এর জন্য তাকে বাড়তি ভাতা দিতে হবে। হলেও একজনের বদলে দু?জন গাইড থাকা সবদিক থেকেই ভালো। কারণ বিপদ তো আর বলে কয়ে আসে না। সেজন্য সব ধরনের প্রস্তুতি থাকা ভালো।
এ সময় এমএ সাত্তারের কথা আলোচনায় এলো। নিয়াজ বলছিলেন, আজ যে পরিমাণ সময় ধরে দীর্ঘ ট্রেকিং করা হলো, যে পরিমাণ চড়াই-উৎরাই পার হতে হলো, অসুস্থ শরীর নিয়ে এমএ সাত্তার এই পথে আজ এলে নির্ঘাত আরও কোনো বিপদের মুখোমুখি হতে হতো। যদিও পর্বতারোহণে কেউই হলফ করে বলতে পারে না যে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে পড়বেন, তারপরও এমএ সাত্তার আজ তার দুর্বল শরীরে এই বারাফু ক্যাম্প পর্যন্ত আসতে গতদিনের চেয়েও বড় কোনো বিপদে পড়তে পারতেন।

এ সময় আর্নি রাত বারোটায় ঘুম থেকে উঠে সামিট পুশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত মেনে ডায়নিং টেন্ট ছেড়ে বেরিয়ে গেলেন। অ্যান্টিপাসকে পানির জন্য অনুরোধ করতেই তিনি কিচেন টেন্ট থেকে পুরো ফ্লাস্ক ভরে গরম পানি নিয়ে এলেন। আমাদের বোতল ভরে দেয়া সম্ভব কি না - এই অনুরোধ করতেই তিনি দু?বোতল পানি ভরে নিয়ে এলেন। তাহলে দুপুরে আর্নি যে পানির অভাব নিয়ে ভয় দেখালেন, তার মানেটা কি? নিয়াজের উদ্দেশ্যে প্রশ্নটা রেখে খাওয়া শেষ করে বোতলে নিয়ে তাঁবুতে চললাম। তার আগে শরীরে প্রচুর পরিমাণে পানি চালান করা হলো। যাতে সামিট পুশের আগে কোনো ধরনের মাউন্টেন সিকনেসে শরীর বেঁকে না বসে।
পুরো এলাকা জ্যোৎস্নায় ভেসে যাচ্ছে। আশা করছি সামিট পুশের সময়ও চাঁদের এই আলো বেশ সহায়তা করবে।
তাঁবুর ভেতর ঢুকে সবার আগে ক্যামেরা চার্জে লাগিয়ে দিলাম। এবার শুরু হলো প্রস্তুতি নেয়ার পালা। আমি কোনো ব্যাগ নিচ্ছি না। বরং আমার ব্যাগপ্যাক খালি করে সেটা অ্যান্টিপাসকে দিব। সেটায় কিলিমানজারো চূড়ায় পৌঁছে ছবি তোলার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যানার এবং পানির বোতল রাখা হবে। আর ফেরার সময় যদি বেশি গরম লাগে, তাহলে তাতে অতিরিক্ত গরম কাপড়ও ভরে নেয়া যাবে। সামিট পুশ শুরু করতে গিয়ে যাতে খুব বেশি সময় না লাগে, সেজন্য এ বেলাতেই গায়ে প্রয়োজনীয় গরম কাপড় পড়া হলো।

হাফস্লিভ টি-সার্ট, তার ওপর ফুল স্লিভ টি-সার্ট, এর ওপরে একটা বিশেষ পলিস্টার কাপড়ে তৈরি টি-সার্ট, তার ওপরে ডাউন জ্যাকেট এবং সবার ওপরে উইন্ডব্রেকার জ্যাকেট - মনে মনে এই ক্রম মেনে রাতের বেলা সামিট পুশ করার সিদ্ধান্ত নিলাম। কোমরের নিচে থাকবে দু?টা ইনার এবং তার ওপর ট্রেকিং প্যান্ট, পায়ে দু?জোড়া একেবারে শুকনো মোজা, হাতে দু?জোড়া গ্লভস, মাথায় দু?টো মাঙ্কিক্যাপ। এই হলো প্রস্তুতি। এ সময় হেডল্যাম্পের ব্যাটারিও বদলে নেয়া হলো যাতে সামিট পুশ শুরু করার পর একটানা পাঁচ-ছ?ঘণ্টা কোনো সমস্যা না করে আলো দিয়ে যায়।
নিয়াজ এবার জিজ্ঞেস করলেন, রাতের বেলা সামিট পুশ কেন করা হয়? সূর্য ওঠার সময় চূড়ার দিকে রওয়ানা দিলে ক্ষতি কোথায়?

বললাম, অনেকগুলো কারণে রাতের বেলাতেই সামিট পুশ করা হয়। প্রথমত, এভারেস্ট অভিযানের উদাহরণ দিয়ে বলি, বিষয়টা মনস্তাত্ত্বিক। রাতের বেলা হেডল্যাম্পের আলোয় সামনের যতোটুকু পথ আলোকিত হয়, শুধু সেটুকু দেখে যখন পথ চলেন, তখন চূড়ান্ত লক্ষ্যের পথ আসলেই কতোটা দুর্গম বা কতোটা দূরে, এ নিয়ে কোনো ধরনের মনোদ্বন্দ্ব তৈরি হয় না। আপনি একটানা পথ চলতে থাকেন। কিন্তু দিনের বেলা সেই একই পথ পার হওয়ার চেষ্টা যদি করেন, তখন পর্বতের বিভিন্ন অবয়ব, পথের বিশালত্ব ও দুর্গমতা ইত্যাদি মনের ভেতর এক ধরনের চাপ তৈরি করে। সেই চাপ সামলানো অনেকের জন্যই কঠিন হয়ে পড়ে। এজন্য রাতের বেলা সামিট পুশ করে ভোর নাগাদ চূড়ায় পৌঁছে ফিরতি যাত্রা করার একটা অলিখিত নিয়ম চালু আছে উঁচু পর্বতে। দ্বিতীয়ত, দিনের বেলা সামিট পুশ শুরু করলে পর্বতের প্রকৃতি কখন বদলে যাবে, আবহাওয়া কখন প্রতিকূলপরায়ণ হয়ে উঠবে, তা সম্পর্কে কেউই ভবিষ্যদ্বাণী করতে পারে না। এই বিষয়গুলো চূড়ায় পৌঁছানোর সাফল্যের ব্যাপারে অনেক সময় খুবই মুখ্য হয়ে ওঠে। কিন্তু রাতের দিকে পর্বতে আবহাওয়ার পাগলামি অনেকটাই কম থাকে। ফলে প্রায় সব পরিস্থিতিই তাকে অনুকূলে। যা কি না পর্বতারোহী ও গাইড বা শেরপাদের মধ্যে এক ধরনের মানসিক প্রশান্তি এনে দেয় যুদ্ধস্থলের সবচেয়ে কঠিন অংশে। এটা খুব বেশি জরুরি। তৃতীয়ত, রাতের বেলা সামিট পুশ করলে যেহেতু কোনো সূর্য থাকছে না, কাজেই সূর্যের কঠিন তাপও সহ্য করতে হচ্ছে না। পর্বতের চরম ঢাল বেয়ে ওপরের দিকে ওঠার সময় এক ধরনের কঠিন পরিশ্রম তো রয়েছেই, রাতের বেলাতেও যেখানে ঘেমে পরিশ্রান্ত হওয়াটা শুধু সময়ের ব্যাপার। সেখানে সূর্যের একেবারে সরাসরি আলোর সংস্পর্শে সামিট পুশ করা হলে পর্বতারোহী ও গাইড বা শেরপারা রাতের চেয়ে পঞ্চাশগুণ দ্রুত পরিশ্রান্ত হয়ে পড়েন। ফলে চূড়ায় পৌঁছানোটা অনেক সময় স্বপ্নই থেকে যায়। এজন্যই রাতের বেলা সামিট পুশ করা হয়।

এসব আলোচনার মধ্য দিয়ে প্রস্তুতি শেষ হতে হতে সন্ধ্যা রাত তখন সাড়ে সাতটা। ততোক্ষণে পুরো বারাফু ক্যাম্পে মৃত্যুর নিস্তব্ধতা নেমে এসেছে। পিন পতনের শব্দও তখন হয়তো ড্রাম পেটানোর আওয়াজের মতো প্রকট হয়ে কানে বাজবে। মূলত সামিট পুশের জন্য সবাই খুব দ্রুতই ঘুমিয়ে পড়েছেন। স্লিপিং ব্যাগের মধ্যে ঢুকতেই আমরাও ঘুমে তলিয়ে গেছি।
« Day 11 
Welcome Message
Mountaineering Biography
Personal Biography
Photo Gallery
Video Gallery
Musa Ibrahim's official website (www.musaibrahim.com.bd) launched on December 03
DU authority conferred 'Blue' award to Musa Ibrahim
Musa Ibrahim accorded DU Alumni Association reception
Musa Ibrahim's photo exhibition titled 'Bangladesh on top of the Everest'
Institute of Education & Research (IER), University of Dhaka is conferring reception to Musa Ibrahim
Musa Ibrahim's photo exhibition titled 'Bangladesh on top of the Everest'
Home About Musa Gallery You can do it Press Release Blog Forum FAQ Contact