Facebook   Twitter   LinkedIn   Youtube   Wikipedia
Day 53
বাংলাদেশের প্রথম এভারেস্ট জয়: আমরা পারি, আমি পারি
সবশেষে
২০১০ সালের পুরোটাই বাংলাদেশের জন্য পয়মন্ত। এ দেশ থেকেই ড. মাকসুদুল আলম পাটের জিনোম আবিষ্কার করলেন। বহু শিশুর প্রাণ হন্তারক অসুখ কলেরার জীবাণু আবিষ্কারও হয়েছে বাংলাদেশ থেকে, করেছেন ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ডায়রিয়া ডিজিজেস রিসার্চ, বাংলাদেশরে (আইসিডিডিআরবি) মলিকিউলার জেনেটিকসের প্রধান ড. শাহ এম ফারুক ও তাঁর দল। এরপর বাংলাদেশ ক্রিকেট দল নিউজিল্যান্ড দলকে এক দিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচে হোয়াইটওয়াশ করেছে। সেই সঙ্গে আরেকটি অনন্য অর্জন হলো এই এভারেস্ট জয়। বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বত এভারেস্ট চূড়ায় আমরা লাল-সবুজ পতাকা উড়িয়েছি। এতে প্রমাণিত হয়েছে, লক্ষ্য স্থির করা হলে বাংলাদেশ সেই লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারে। শুধু প্রয়োজন অটুট পরিকল্পনা ও টিমওয়ার্ক।
কিন্তু এভারেস্ট জয় করে আসলে আমরা কী পেয়েছি? বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ এভারেস্ট চূড়ায় লাল-সবুজ পতাকা উড়িয়ে আমাদের লাভ হয়েছে কতটুকু?
এভারেস্ট জয়টা প্রতীকী। এটা আসলে বহু প্রতিকূলতা পার হয়ে যাওয়া তারুণ্যের জয়, ব্যক্তির নিজেকে জয়। কারণ, এভারেস্ট অভিযানের প্রতিটি পদেই যখন মৃত্যুর ঝুঁকি রয়েছে, এবং জেনেশুনেই মানুষ যখন এ অভিযানে নামে, তখন আসলে সেই দুয়ার থেকে ফিরে আসা মানে নিজের চূড়ান্ত ক্ষমতাকে কষ্টিপাথরে অনুপুঙ্খ যাচাই করে নেওয়া। উচ্চতাজনিত শারীরিক সমস্যা (হাই অলটিচ্যুড সিকনেস), অক্সিজেনস্বল্পতার কারণে মানসিক ভারসাম্যহীনতা (হাইপোক্সিয়া), আবহাওয়ার নিরন্তর চোখরাঙানি, সহযোগী আরোহী ও শেরপাদের সহযোগিতা, প্রকৃতির কৃপা ইত্যাদি বিষয়ই এভারেস্ট জয়ের ক্ষেত্রে মুখ্য বিবেচনায় আসে সব সময়। এত সব প্রতিকূলতার সাগর পার হয়ে বিশ্বের সর্বোচ্চ চূড়া জয় এ কারণেই প্রতিটি মুহূর্তে মহিমান্বিত।
আর বাংলাদেশি হিসেবে এর হিসাব-কিতাব আলাদা। কারণ, ২৩ মে ২০১০-এর বাংলাদেশ সময় ভোর পাঁচটা পাঁচ মিনিটের আগে এভারেস্টজয়ী দেশ ছিল না। এই দিনের পর থেকে বাংলাদেশ এভারেস্টজয়ী দেশ?এ এক নতুন পরিচয় আমার প্রিয় দেশটির জন্য। এদিন বাংলাদেশ পৌঁছে গেছে এক নতুন উচ্চতায়, যে সম্মানের দাবিদার এ দেশের ১৬ কোটি মানুষ।
কিন্তু সেই ১৯৫৩ সালের ২৯ মে এডমুন্ড হিলারি আর তেনজিং নোরগে শেরপা এভারেস্ট জয় করার পর পার হয়েছিল প্রায় ৫৭ বছর। তারপর ২০১০ সালে এসে বাংলাদেশ থেকে এভারেস্ট জয় হলো। এভারেস্টজয়ী দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বে ১৬৭তম।
কিন্তু আমাদের এত দিন কেন লাগল? ঝলমলে দিনে উত্তরবঙ্গবাসীর চোখের সামনে আবির্ভূত হয় বিশ্বের তৃতীয় সর্বোচ্চ পর্বত হিমালয়ের কাঞ্চনজঙ্ঘা। বাংলাদেশ থেকে কেন এভারেস্ট জয় করতে এত দিন লাগল? উত্তরটা সহজ। কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
অথচ পর্বতারোহণ যুগটা বাংলাদেশে শুরু হয়েছিল ২০০৪ সালে?পর্বতারোহণের প্রশিক্ষণ নেওয়ার মধ্য দিয়ে। এর আগেও গুটিকতক আগ্রহী পর্বতারোহণের প্রশিক্ষণ নিয়েছিল। কিন্তু অর্থপূর্ণ আকারে তা শুরু হয় ২০০৪ সালেই। পরের বছর থেকেই হিমালয়ের বিভিন্ন পর্বতচূড়ায় অভিযানে নেমে পড়েছি আমরা। বহু পথ পেরিয়ে আসে ২০০৭ সালের ২৯ অক্টোবর। এদিন নর্থ আলপাইন ক্লাব বাংলাদেশ চালু হয় বহু সমমনা পর্বতারোহী তরুণ-তরুণীর হাত ধরে। সংগঠনটি তার পথ চলার দিন থেকেই একটি স্লোগান সঙ্গী করে এগিয়ে গিয়েছিল - মিশন ২০১০, ভিশন এভারেস্ট: মেক ইট হ্যাপেন। যা-ই ঘটুক না কেন, এনএসিবি থেকে ২০১০ সালের মধ্যেই এভারেস্ট অভিযান পরিচালনা করার চেষ্টা অব্যাহত ছিল। সুতরাং, চেষ্টা শুরু হয়েছিল ২০০৪ সালে এবং সেই লক্ষ্য পূরণ হয়েছে ২০১০ সালে। অর্থাৎ, সাত বছরের মধ্যে বাংলাদেশ তার একটা লক্ষ্য অর্জন করেছে। আরও নির্দিষ্ট করে বললে ২০০৭ সালে লক্ষ্য নির্ধারণ করে সেখানে পৌঁছাতে সময় লেগেছে তিন বছর।
এ কথাগুলো বললাম এ কারণে যে, যেকোনো দেশেই এভারেস্ট জয়ের সময় সে দেশের সরকার পর্বতারোহীদের পাশে ছিল, থাকে। কিন্তু বাংলাদেশ এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। এ দেশে পর্বতারোহণে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা থাকলে বাংলাদেশ থেকে এভারেস্ট জয় অনেক আগেই হয়ে যেত - এটা নিশ্চিত করেই বলা যায়। তার পরও সরকারি উদ্যোগের বাইরেও তো অনেক কাজ হয়েছে। আমাদের এভারেস্ট জয় অনেকটাই সে রকম। আর এ জয়ের পর আমরা আরেক উচ্চতায় উঠে গেছি। এখন কিন্তু এর গুরুত্ব বিশাল। এখন অসম্ভবকে জয়ের স্বপ্ন তরুণদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে হবে।
কারণ, আমাদের বাড়ির এত কাছের এই প্রাকৃতিক চ্যালেঞ্জ বাংলাদেশিদের কাছে, লাল-সবুজ পতাকাবাহীদের কাছে হার মেনেছে। এ দেশের তরুণদের কাছে মাথা নুইয়েছে এভারেস্ট।
বলছিলাম, এভারেস্ট জয়টা আসলে প্রতীকী। এ এক অদম্য তারুণ্যের জয়। এ জয়ের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ প্রমাণ করেছে, এ দেশবাসীর পক্ষে সবই সম্ভব। এখন প্রয়োজন শুধু তরুণদের সামনে লক্ষ্য নির্ধারণ করে সে চ্যালেঞ্জ জয়ের ঝান্ডা তাদের হাতে তুলে দেওয়া। তাহলে আরও অনেক অসম্ভবকে সম্ভব করে তোলা নিত্যকার ঘটনা হয়ে দাঁড়াবে। আমরা দেশের ভেতরেই অনেক সমস্যা সমাধানের জীয়নকাঠি ভাবতে পারি এই এভারেস্ট জয়কে। প্রয়োজন শুধু সঠিক পরিকল্পনা এবং এর অনুপুঙ্খ অনুসরণ।
আর সবচেয়ে বড় জিনিসটি হলো?আমাদের সবাইকে মনে একটি বিশ্বাস স্থাপন করতে হবে - আমরা পারি, আমি পারি। এ বিশ্বাসটাই সবাইকে কোনো কাজের সাফল্যে পৌঁছাতে প্রচন্ড সহায়তা করে। কারণ, মানুষের অসাধ্য কিছুই নেই। সুতরাং, এখনই কাজে নেমে পড়া দরকার।
« Day 52  Day 54 »
Welcome Message
Mountaineering Biography
Personal Biography
Photo Gallery
Video Gallery
Musa Ibrahim's official website (www.musaibrahim.com.bd) launched on December 03
DU authority conferred 'Blue' award to Musa Ibrahim
Musa Ibrahim accorded DU Alumni Association reception
Musa Ibrahim's photo exhibition titled 'Bangladesh on top of the Everest'
Institute of Education & Research (IER), University of Dhaka is conferring reception to Musa Ibrahim
Musa Ibrahim's photo exhibition titled 'Bangladesh on top of the Everest'
Home About Musa Gallery You can do it Press Release Blog Forum FAQ Contact