Facebook   Twitter   LinkedIn   Youtube   Wikipedia
Day 52
বাংলাদেশের প্রথম এভারেস্ট জয়: দেশে প্রত্যাবর্তন
(এখান থেকে আর কোনো দিনের হিসাব রাখা হয় নি। কিন্তু ঘটনা পরম্পরা বর্ণনা করা হয়েছে)

১ জুন ফিরে যাওয়ার দিন ধার্য করা হলো। ইয়ংওয়ান বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও সিইও কিহাক সাং এদিন তাঁর ব্যক্তিগত প্লেন পাঠিয়েছেন দেশে ফিরিয়ে নিতে। এই প্লেনে করে এদিন উড়ে এল রিমি, রাইদ, বোন নূর আয়েশা, বোন-জামাই রাশিদুল হাসান ও তাঁদের শিশুপুত্র আরিয়ান। বেলা ১১টার দিকে ত্রিভুবন বিমানবন্দরে গিয়ে হাজির হলাম। একটু পর সবাই এসে হাজির হলেন। রিমি আর রাইদের সঙ্গে দেখা হলো প্রায় দুই মাস পর। আরেকবার আনন্দের ক্ষণ এসে হাজির। তখন যেন আরেকবার আনন্দের সাগরে ভেসে গেলাম।
কিছুক্ষণের মধ্যে ইয়ংওয়ানের প্রধান পাইলট আহমেদ আমার পুরো পরিবার, এটিএন বাংলার সিনিয়র রিপোর্টার মানস ঘোষ ও ইত্তেফাক-এর অপর এক রিপোর্টার এবং এনএসিবির সভাপতি আনিসুল হককে নিয়ে উড়লেন বাংলাদেশের দিকে। ঘণ্টা খানেকের মধ্যেই পৌঁছে গেলাম প্রিয় মাতৃভূমিতে। বিমানবন্দরে সবাই হাজির হয়েছেন অভিনন্দন জানাতে। আব্বা-আম্মা, প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান, চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর, রাজনীতি বিশ্লেষক সৈয়দ আবুল মকসুদ, নর্থ আলাপাইন ক্লাব বাংলাদেশের সব সদস্য, এক্সট্রিম বাংলার কর্ণধার কাজী হামিদুল হক, রাজনৈতিক নেতা-কর্মী প্রমুখ।
এখান থেকে প্রথম দিন প্রথম আলোর কার্যালয়ে গিয়ে দেখি, সবাই যেন মঞ্চ তৈরি করে রেখেছেন তাঁদের ঘরের ছেলেকে বরণ করে নিতে। এখানে এদিন উপস্থিত ছিলেন প্রিয় শিক্ষক ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী, প্রথম আলোর পুরো বাহিনী এবং আশ্চর্যজনকভাবে ইনাম আল হক। এবার আমার মূল ঠিকানা ডেইলি স্টার-এর কার্যালয়ে গেলে প্রথমেই চিফ নিউজ এডিটর সৈয়দ আশফাকুল হক বুকে জড়িয়ে ধরলেন। দেখি, ডেইলি স্টার-এর সবাই তাঁদের সহকর্মীকে বরণ করে নিতে ভবনের সামনে হাজির হয়েছেন। অফিসে ঢুকতেই সম্পাদক মাহফুজ আনাম অভিনন্দন জানালেন। এরপর চ্যানেল আই কার্যালয় ঘুরে চলে গেলাম প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনে। তিনি ব্যক্তিগত বার্তা পাঠিয়েছেন, যাতে তাঁর সঙ্গে সে রাতেই দেখা করি। তাঁর বাসভবনে তখন সরকার, আওয়ামী লীগসহ অন্যান্য দলের প্রায় সব বড় বড় নেতা সভায় বসেছেন। সভা শেষ হতেই সেখানে আমার মা-বাবা, বোন, বোন-জামাই, রিমিসহ অনেকেই গিয়ে উপস্থিত হলাম। শেখ হাসিনা এ সময় বুকে টেনে নিলেন এবং সবার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিলেন। তিনি পূর্বাপর পরিস্থিতি জেনে দীর্ঘায়ু কামনা করে আশীর্বাদ করলেন। এরপর সেখান থেকে বিদায় নিয়ে ফিরলাম বাসায়। দেখি যে দাদাবাড়ি ও নানাবাড়ির অনেকেই এসে হাজির। চাচা, মামা, খালা?সবাই বাসায় এসেছেন তাঁদের ছেলেকে দেখতে।
একদিন বিরোধীদলীয় নেত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াও ডেকে পাঠালেন। সপরিবারে তাঁর সঙ্গে গিয়ে দেখা করে এলাম।
এর পরের কয়েক দিন কেটে গেল দেশের মানুষের ভালোবাসা আর অভিনন্দন নিতে গিয়ে। তখন ভেবে নিয়েছি, পরিস্থিতির সঙ্গে চলে পুরো সময়টাকে উপভোগ করতে হবে। এ সময় উপলদ্ধি করেছি যে এভারেস্ট চূড়ায় বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা পৌঁছে দেওয়ার যে একটা প্রতিযোগিতা ছিল, সেই প্রতিযোগিতায় সফল হওয়ার পর যে অর্জনটুকু হয়েছে বাংলাদেশের, তা এ দেশের প্রত্যেক মানুষ উদ্যাপন করছে। প্রত্যেক মানুষ এ ধরনের সাফল্যে নিজেকে বাংলাদেশি হিসেবে ভাগ্যবান মনে করছে। সবাই ই-মেইল, ফেসবুক, মোবাইল ফোনে তাঁদের শুভেচ্ছাবাণী পাঠিয়েছেন।
এরপর সময় গড়াল। লালমনিরহাট, ঠাকুরগাঁও ও বগুড়ায় তাদের সন্তানকে একসময় বরণ করে নিল। সেখানে আনন্দের রোশনাই বয়ে গেল। বিশেষ করে লালমনিরহাটে দাদাবাড়িতে গ্রামকে গ্রাম মানুষ এদিন রাস্তায় নেমে এসেছিল তাদের সন্তানকে একনজর দেখতে। ঠাকুরগাঁওকে আমি আরেক বাড়ি মনে করি। সেখানে ঠাকুরগাঁও সুগার মিলস হাইস্কুলসহ সর্বস্তরের মানুষ একেবারে আপন করে নিল। এরপর বগুড়ায় নানিবাড়িতেও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটল। এরপর দেশে যত জায়গায়, যত অনুষ্ঠানে গেছি, দেখেই বুঝেছি যে এ অর্জন সাধারণ মানুষের মনকে কতখানি উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
এ অভিযান আয়োজনে বাবা মো. আনসার আলী, মা বিলকিস বেগম, বোন নূর আয়েশা, ভাই শোয়েব হারুন, বোন-জামাই রাশিদুল হাসান, স্ত্রী উম্মে সরাবন তহুরা ও ছেলে ওয়াসি ইব্রাহীম রাইদসহ সব আ?ীয়স্বজনের কাছে এ সময় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছি।
প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান, চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর, সামিট গ্রুপের চেয়ারম্যান মুহম্মদ আজিজ খান, নাভানা গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম, কোহিনূর কেমিক্যালসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রেজাউল করিম, ইয়ংওয়ান বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও সিইও কিহাক সাং, মাত্রার পরিচালক সানাউল আরেফিন, ডেসটিনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল আমিন, মহাব্যবস্থাপক মো. সাইফুর রহমান চৌধুরী ও ডিএসডিসির সিও মো. আশরাফুল আমিন, আর এম সিস্টেমস লিমিটেডের কর্ণধার আলী আশফাক প্রমুখ এ অভিযানে সহায়তা করেছেন।
নর্থ আলপাইন ক্লাব বাংলাদেশ - এনএসিবির উপদেষ্টা ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী, ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল, বাংলাদেশ মনিটর-এর সম্পাদক কাজী ওয়াহিদুল আলম, লে. কর্নেল (অব.) এম এম ইকবাল আলম, ফিউচার লিডার্স অ্যান্ড কনসালট্যান্টের সিইও কাজী এম আহমেদ, উইং কমান্ডার (অব.) শাহবাজ ইমতিয়াজ খান, ডেপুটি কমিশনার অব পুলিশ (হেড কোয়ার্টার) মাসুদুর রহমান ভূঁইয়া, স্কোয়াড্রন লিডার (অব.) রাশিদুল হাসান, প্রখ্যাত পাখি বিশেষজ্ঞ ও নেচার ফিল্ম মেকার ডা. রোনাল্ড হালদার, এনাম তালুকদার, নিত্য উপহারের কর্ণধার বাহার রহমান প্রমুখ আমাকে কৃতজ্ঞতার বন্ধনে জড়িয়েছেন।
এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক তাঁদের শিক্ষার্থীকে ক্রীড়াঙ্গনে সর্বোচ্চ পদক ?ব্লু? তুলে দিলেন। রোটারিয়ানে সর্বোচ্চ পদক পল হ্যারিস ফেলোশিপ দিয়ে ভূষিত করলেন রোটারি ঢাকা ওয়েস্টের রোটারিয়ান ফারুক রশীদ চৌধুরী ও রোটারিয়ান জেনারেল আমিন আহমেদ চৌধুরী বীরবিক্রমসহ অন্য সদস্যরা। এ ছাড়াও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও এর পাঠক ফোরাম, বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্যশিল্পসহ বহু প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন শুভেচ্ছায় ও কৃতজ্ঞতায় জড়িয়েছে আমাকে।
এ ছাড়াও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্ট ও সাবেক প্রধান বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান, ডেইলি স্টার-এর সম্পাদক মাহফুজ আনাম, চিফ নিউজ এডিটর সৈয়দ আশফাকুল হক ও ডেইলি স্টার-এর সব কর্মী, রায়ান?স কম্পিউটারের কর্ণধার আহমেদ হাসান, ইভিস্তা টেকনোলজিস লিমিটেডের প্রশান্ত রায়, কম্পিউটার প্রকৌশল মানিক-রতন প্রমুখের কাছে আমি ঋণী।
এনএসিবির সভাপতি আনিসুল হক, সহসভাপতি মুনির হাসান, ফখরুল আবেদিন মিলন ও পল্লব মোহাইমেন, কোষাধ্যক্ষ মোস্তাফিজুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক এম এইচ জায়েদী, যোগাযোগ ও প্রকাশনা সম্পাদক রাফেহ উদ্দীন সিরাজী, নির্বাহী সদস্য তৌহিদ হোসেন ও মাহবুবা রহমান টুলটুল, সাধারণ সদস্য ধ্র?ব জ্যোতি ঘোষ মুকুল, তানিয়া, আবদুল হালিম, ওমর, পারভেজ, স্বপন, মেসবাহ, শাওন, মাহবুব আলম জুয়েল, নওরোজ ইমতিয়াজ, জিয়া ইসলাম, সিমু নাসের, নাসিরুদ্দিন মাহমুদ, আসিফ এন্তাজ রবি, জিয়াউল হক খালেদ, আকতার হোসেনসহ অনেকেই এ অভিযান আয়োজনে সহায়তা করেছেন।
সেই সঙ্গে এক্সট্রিম বাংলা, জাহাঙ্গীরনগর অ্যাডভেঞ্চার ক্লাব, নেচার অ্যাডভেঞ্চার ক্লাব বিয়ন্ড অ্যাডভেঞ্চার ক্লাবসহ বেশ কিছু সংগঠন এনএসিবির এভারেস্ট অভিযান আয়োজনে সহায়তা করেছে।
এ ছাড়াও বোনের কাছে ধার করা অর্থ পরিশোধে কিছুটা সহায়তার হাত বাড়ালেন ঢাকা ব্যাংক, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক, জেএএন অ্যাসোসিয়েটসের কর্ণধার আবদুল্লাহ এইচ কাফি, সুপ্রভাতী সংঘের সদস্যরা ও এর সভাপতি হাজি সেলিম।
এভারেস্ট জয়ের উদ্দীপনায় এবার দেশের দিকে ফিরে তাকানোর পালা। দেশের সবাইকে নিয়ে গাছ লাগানো, দেশের তরুণদের নিয়ে শিক্ষার উন্নয়নে কাজ করা, তাদের নানামুখী অ্যাডভেঞ্চারের সুযোগ করে দেওয়ার জন্য এবার নিজেকে নিবেদিত করার প্রয়াস খুঁজে পেয়েছি। এখন দেশের তরুণ-তরুণীরা যদি উজ্জীবীত হয়ে এ ধরনের অ্যাডভেঞ্চারে নেমে নিজেদের দক্ষতা বাড়িতে তোলে, তাহলে এটাই হতে পারে এভারেস্ট জয়ের সবচেয়ে বড় সাফল্য।
« Day 51  Day 53 »
Welcome Message
Mountaineering Biography
Personal Biography
Photo Gallery
Video Gallery
Musa Ibrahim's official website (www.musaibrahim.com.bd) launched on December 03
DU authority conferred 'Blue' award to Musa Ibrahim
Musa Ibrahim accorded DU Alumni Association reception
Musa Ibrahim's photo exhibition titled 'Bangladesh on top of the Everest'
Institute of Education & Research (IER), University of Dhaka is conferring reception to Musa Ibrahim
Musa Ibrahim's photo exhibition titled 'Bangladesh on top of the Everest'
Home About Musa Gallery You can do it Press Release Blog Forum FAQ Contact