Facebook   Twitter   LinkedIn   Youtube   Wikipedia
Day 3
তিব্বতে হাজির, গন্তব্য নায়ালাম
এপ্রিল ১০, ২০১০
৩য় দিন
ভোর ৫টা:
আজই পৌঁছাবো তিব্বতে। স্বপ্নের তিব্বত। স্বপ্ন, কারণ সেখানে এভারেস্ট আছে। ইনাম আল হক একদিন এসএমএস পাঠিয়ে আনিসুল হককে যে ৫টি কারণে যৌথ এভারেস্ট দলে আমাকে নিতে চাননি, তিব্বতে কোনো পর্বতাভিযানে অংশ না নেয়া ছিল তার একটি। সেই তিব্বতে আজ যাবো। দেখতে হবে কি আছে সেই তিব্বতে? যে কারণে ইনাম আল হক আমাকে নিবৃত্ত করতে চেয়েছিলেন এভারেস্ট অভিযানে যাওয়া থেকে! এই চ্যালেঞ্জ নিতে হবে। সবচেয়ে বড় কথা হলো এম এ মুহিতের চেয়ে ৬ দিন পিছিয়ে আছি। আজ সেই যাত্রায় যোগ দেয়ার প্রথম দিন। এখন থেকেই একটু একটু করে এগিয়ে যাবো সেই কাফেলায় সঙ্গী হতে।

কথা ছিল সাড়ে পাঁচটার দিকে কোমল অরিয়াল এসে পুরো দলের সঙ্গে আমাকে বিদায় জানাবেন। প্রস্তুতি ঠিকঠাক মতো নেয়ার জন্য ভোর ৫টার দিকেই ঘুম থেকে উঠে পড়লাম। গোসল করে নিতে পারতাম। কিন্তু ঠাণ্ডার কারণে আলসেমি ধরায় আর গোসল করা হলো না। কিন্তু কে জানতো যে আজ যে আধা-গোসল করে যাচ্ছি, এর ৪৬ দিন পর আবার গোসল করার সুযোগ মিলবে! এ সময়ই মনের পর্দায় ভেসে উঠছে রাইদের-রিমির মুখ। তাদের সঙ্গে ফের কবে দেখা হবে, কবে কথা হবে, কে জানে? আজ কি কথা বলা যাবে রিমির সঙ্গে? তাদেরকে ফেলে যাচ্ছি যে, কেমন হবে সেটা? শুধুই ভেবে নিচ্ছি- যাই হোক না কেন, সফল হয়েই ফিরতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই। যে পরিস্থিতিতে যাচ্ছি, ব্যর্থ হলে সেটা হবে এক ধরনের পয়েন্ট অব নো রিটার্ন।

এমন সব চিন্তার ফাঁকে কোমল এসে দরজায় কড়া নাড়লেন। তিনি বাসা থেকে দুটো পরোটা আর মিষ্টি নিয়ে এসেছেন আমার নাশতার জন্য। কোমল এবং তার পরিবারের সবাই আমাকে তাদের পরিবারের একজন মনে করতো সবসময়। এটা একটা বড় পাওনা ছিল আমার জন্য। এই নাশতা কোনোক্রমে গিলছি আর কাপড়চোপড়, জুতা পরে তৈরি হচ্ছি। আগের রাতেই ব্যাগ গুছিয়ে রেখেছিলাম বলে রক্ষা। নয়তো এই ভোর বেলা ঝক্কি পোহাতে হতো। সবকিছু চূড়ান্তভাবে ব্যাগে ঢুকিয়ে পুরো প্রস্তুত হয়ে নিলাম। দুটো বড় ডাফেল ব্যাগে পর্বতারোহণের সব সরঞ্জামাদি। আর একটা মাঝারি হ্যাভারস্যাকে টুকটাক সব জিনিস। কিছুক্ষণের মধ্যে সোম বাহাদুর, কৈলাস তামাঙ আর লাকপা নুরু শেরপা এসে হাজির। অর্থাত, যুদ্ধ জয়ের জন্য পুরো দল প্রস্তুত। এটাই ছিল এই মুহুর্তের একমাত্র আকাঙ্ক্ষা। সবাইকে বলেছিলাম যে আমরা এমনভাবে কাজ করবো যেন সবাই একটা হাতের আঙ্গুলের মতো মনে হয়। টিমওয়ার্ক হতে হবে অটুট। সেই মন্ত্রে সবাইকে উদ্বুদ্ধ করতে পেরেছি এবং সবাইকে সাফল্যলাভের ক্ষুধায় তাড়িয়ে নিতে পেরেছি, এটাই বড় অর্জন এ পর্যন্ত।

হোটেল থেকে চা আনিয়ে নিলাম। চা দিয়ে শুকনো পরোটা গলা দিয়ে নামালাম। এর পর হোটেলের রুম ছেড়ে দিয়ে ব্যাগ ধরাধরি করে সংলগ্ন বড় রাস্তায় নামিয়ে আনলাম। এর মধ্যে জিয়াউল হক খালেদ তার দুই বন্ধুসহ হোটেলে এসেছেন আমাকে শুভকামনা জানিয়ে বিদায় দিতে। পাড়ি দিতে হবে যোজন পথ। কিন্তু তার আগে কিছুক্ষণের মধ্যেই কেমন যেন বিদায় রাগিনী বেজে উঠল। পরিস্থিতি ভারি হয়ে ওঠার আগেই মুখে স্বভাবসুলভ হাসি ঝুলিয়ে রেখেছি। এর মধ্যে টুকটাক ফটোসেশন চলছে। খালেদ জানালো যে বন্ধু আকতার শুভকামনা জানিয়েছে। সেই সঙ্গে এটাও মনে করিয়ে দিল যে যেকোনো পরিস্থিতিতে নিজিরে নিরাপত্তা সবার আগে। কোনোরকম ঝুঁকি নেয়া চলবে না। আমি সম্মতি জানালাম।

এর মধ্যে লাল বাহাদুর জিরেল এসে হাজির। তিনি আমাদের যে আন্তর্জাতিক দল, সেই দলে একমাত্র নেপালী পর্বতারোহী। তিনি এভারেস্ট অভিযানে অংশ নিতে তার আয়ের সব অর্থ গচ্ছিত রেখে ব্যাংক থেকে অর্থ ঋণ করেছেন। নেপালে যে প্রায় ১০৩টি নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠী আছে, জিরেল তার একটি। এই গোষ্ঠীর জনসংখ্যা মাত্র ৫,৩১৬ জন। পরে তার কাছ থেকে জানতে পেরেছিলাম যে নেপালের খুম্বু এলাকায় এই সম্প্রদায় বাস করে। এই সম্প্রদায় থেকে এখনো কেউ এভারেস্ট জয় করেননি। তাই তিনি নর্থ ফেস বা চীনের তিব্বত দিয়ে এভারেস্ট অভিযানে যাওয়ার জন্য রওয়ানা দিয়েছেন। গত কয়েক বছর ধরে তিনি এজন্য নিজেকে প্রস্তুত করেছেন। তবে তার সম্প্রদায় থেকে নেপাল দিয়েও একজন এভারেস্ট অভিযানে নেমেছেন। সুতরাং এ মুহুর্তে লাল বাহাদুর জিরেলের পরিস্থিতিও আমার মতো। আমি যেমন একটা প্রতিযোগিতার মধ্যে রয়েছি, তার ক্ষেত্রেও একই পরিস্থিতি। এছাড়াও লাল বাহাদুর তার এভারেস্ট অভিযানের পুরো অর্থ যোগড় করতে পারেননি। কাজেই তিনি পর্বতারোহী হলেও প্রয়োজনীয় অর্থ না থাকায় তাকে শেরপাদের মতো কাজ করে প্রতিষ্ঠানটিকে সহযোগিতা করতে হবে। সবচেয়ে বড় কথা হল তার কোনো সহযোগী শেরপা থাকছে না। পরে অবশ্য আমরা একই দলভুক্ত হয়েছি এবং সোম বাহাদুর, কৈলাস, লাকপা, আমি আর লাল বাহাদুর ছিলাম পাঁচ হরিহর আত্মা।

কিছুক্ষণের মধ্যে মাইক্রোবাস এসে হাজির। আমার এভারেস্ট অভিযান আয়োজক প্রতিষ্ঠান হিমালয়ান গাইডস তার বৃটিশ দলের জন্য একজন কুক পাঠাচ্ছে। তার মানে সব মিলিয়ে ছয় জন যাচ্ছি এভারেস্ট বেস ক্যাম্পে। কিন্তু সেই কুককে ঠিক মতো ঠাহর করতে না পারায় মাইক্রোবাসের সামনের আসনে বসার যে একটা সুপ্ত ইচ্ছা ছিল, তা আর মুখ ফুটে না বলায় পুরো যাত্রায় সামনে আর বসা হলো না। গাড়িতে সব ব্যাগ তুলে দিলাম। বিদায়ের ক্ষণ ঘনিয়ে এলো। বুকে জড়িয়ে ধরে সবাইকে বিদায় জানাচ্ছি। এরপর গাড়িতে উঠে বসলাম। সাতটায় রওয়ানা দিয়ে কিছুক্ষণের মধ্যে গাড়ি কাঠমাণ্ডুর পরিচিত সব পথঘাট পেছনে ফেলে এগিয়ে যাচ্ছিল।

সকাল ৯টা:
এদিন সকাল সাতটায় মাইক্রোবাস চলছে পাহাড়ি আঁকাবাকা পথ ধরে। আর হাজারো চিন্তা মনের ভেতর ঘুরপাক খাচ্ছে। পারবো তো সফল হতে? পারবো তো প্রিয় বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা সেখানে স্থাপন করতে? নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারবো তো? এমন ভ্রমণের সময় বাস বা গাড়ির দুলুনিতে সাধারণত ঘুমিয়ে পড়ি। কিন্তু এসব চিন্তায় ঘুম এলো না। বরং মাইক্রোবাস রওয়ানা দেয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই বমি বমি ভাব শুরু হলো। কেন এমন হচ্ছে? মনে পড়ল সকাল বেলা পরাটা, চা খাওয়ার কথা। সেটাই এখন গলা দিয়ে উঠে আসতে চাইছে। সম্ভবত পরাটার তেল সমস্যা করছে। এক সময় যখন প্রায় অসহ্য হয়ে উঠল পরিস্থিতি, আল্লাহ যেন সহায় হলেন। ড্রাইভার গাড়ি থামাল দোলালঘাটের চেয়ে আগেই একটা জায়গায় নাশতা করার জন্য। এখানে কৈলাস দৌড় লাগাল স্যান্ডেল কেনার জন্য। বাকি সবাই চোখে মুখে পানি দিয়ে নাশতা করতে বসে গেলাম। মেন্যু থাকল বুট, আলু ভাজা ইত্যাদি। নাশতা শেষ হতে দেখি প্রায় সোয়া দশটা বাজে।

নাশতা শেষে ফের মাইক্রোবাসে উঠে পড়লাম সবাই। আর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে গাড়ি নামিয়ে দিলে কোদারি। এখানে নেপালের ইমিগ্রেশন, কাস্টমস ইত্যাদি কাজ হিমালয়ান গাইডসের লোকজনই করতে লাগল। এই ফাঁকে দুপুরের খাবারও চলে এলো। পেটে সকালের নাশতার মেন্যু এখনো সজাগ- এমনটাই জানান দিচ্ছে পেট। কিন্তু সবাই গোগ্রাসে গিলতে লাগলাম সেই খাবার। এর মধ্যে অর্থকড়ি বদলে চায়নিজ ইয়ান করে নিলাম সবাই। এরপরই পিঠে ব্যাগ ঝুলিয়ে আর হাতে পাসপোর্ট নিয়ে দৌড় লাগালাম সীমান্ত পার হওয়ার জন্য। কিন্তু হঠাত বৃষ্টি নেমে সব লণ্ডভণ্ড করে দিল। কিন্তু সেই বৃষ্টির মধ্যেই নেপাল-চায়না ফ্রেন্ডশিপ ব্রিজ পার হয়ে চায়না ইমিগ্রেশন কার্যালয়ে ঢুকে পড়লাম সবাই। অর্থাত তিব্বত। গলা ফাটিয়ে চিতকার করতে ইচ্ছা করছে যে আমি এখন তিব্বতে। দেখো সবাই- আমি এখন তিব্বতে। বাস্তবে ফিরলাম সোম বাহাদুরের কথায় তিনি জানালেন এখানে ইমিগ্রেশনের কাজ সহজ করতে একটা ফরম পূরণ করতে হবে। সেই মতে ফরম পূরণ করার কাজে লেগে গেলাম সবাই। কিন্তু যারা ব্যবসায়ী - ছেলে, বুড়ো, নারী - তাদের জন্য এই ইমিগ্রেশনের বালাই নেই। তারা কি একটা কার্ড দেখিয়ে এই ফাড়া পার হয়ে যাচ্ছে আবার আরেক দিক থেকে আরেকদল মালপত্র নিয়ে ফিরছে। যাচ্ছে সবাই খালি হাতে। কিন্তু ফিরছে বিশাল সব বাক্স বা ব্যাগ মাথায় বা পিঠে নিয়ে। তাদের কেনা পণ্যের মধ্যে নিত্য প্রয়োজনীয় নুন, তেল, চাল, ডাল থেকে হাল আমলের সব বাহারি জিনিসো রয়েছে। ইমিগ্রেশনে ব্যাগ খুলে দেখাতে হলো যে সঙ্গে তিব্বত বিরোধী কোনো কাগজপত্র বা কোনো বস্তু নিয়েছি কি না। যতোক্ষণ পর্যন্ত না চায়নার ইমিগ্রেশন পুলিশ সন্তুষ্ট হয়, ততোক্ষণ চলতে থাকে তল্লাশি।

বেলা ১২টা:
এই পর্ব শেষ হতেই দেখি বৃষ্টিতে চারদিকে ভেসে যাচ্ছে। তবে পাহাড়ি বৃষ্টি বলে রক্ষা। শুরু হতে যেমন সময় লাগে না, তেমনি শেষও হয় তাড়াতাড়ি। আর চায়না ইমিগ্রেশন শেষে সেই কার্যালয় থেকে বের হতেই দেখি গাড়ি রেডি। সেটায় উঠে বসতেই চললাম ঝংমুর উদ্দেশ্যে। কোদারি থেকেই দেখছিলাম যে পাহাড়ের গায়ে আঁকা ছবির মতো বাড়িঘর, দালান, গাছপালা ইত্যাদি লেগে রয়েছে। একবার আলস্যে পাহাড় আড়মোড়া ভাংলে সবকিছুই হুড়মুড়িয়ে পড়তে বাধ্য। ঝংমুতে তীব্বতীয়, চীনা ও নেপালি মানুষের সংমিশ্রণ। তাই এখানে প্রতিটি নির্দেশনা বা দোকানের গায়ে লেখা এ তিনটি ভাষায়। তবে কয়েকটা জায়গায় দয়া করে এরা ইংরেজিতে লিখেছে।

গত কয়েকদিন ধরে যে যাত্রা-দিনলিপি হাতে পেয়েছি, তাতে জানানো হয়েছে প্রথম দিন ঝংমুতে (৯,৮০৭ ফুট) রাত কাটাবো। অর্থাত কাঠমাণ্ডুর (৫,২৬৪ ফুট) চেয়ে আজ ৫,৫৪৩ ফুট উচ্চতা পাড়ি দিব। সাধারণত এ রুট দিয়ে যারা এভারেস্ট, চো য়ু, সিসাপাংমা বা অন্য কোনো পর্বত অভিযানে নামেন, তারা সবাই এই দিনলিপি অনুসরণ করেন। ঝংমুতে দু'রাত কাটিয়ে, একটা দিন বিশ্রাম করে যান নায়ালামে। তাতে করে শরীর উচ্চতার সঙ্গে খাপ খেয়ে নেয়। কিন্তু এদিন আমাকে অবাক করে দিয়ে গাড়ি চলল নায়ালামের উদ্দেশ্যে। কাঠমান্ডু থাকতেই জেনে এসেছি যে এদিন ঝাংমু?র হোটেলে রাত কাটিয়ে পরদিন যাবো নায়ালাম (উচ্চতা ১১,৮০৮ ফুট)। তার মানে এক দিনেই সাড়ে সাত হাজার ফুট উচ্চতা পাড়ি দিচ্ছি। এটা শরীরের ওপর আবার কোনো বিরূপ প্রভাব ফেলবে না তো? তখন মনে পড়ে গেল মেরা পর্বত অভিযানের গাইড দাওয়া?র কথা। তিনি বলেছিলেন, ?পর্বতারোহণে কিছু বিষয় উপেক্ষা করা উচিত। কিছু সমস্যায় পর্বতারোহী বা শেরপা কেউই এড়াতে পারেন না। এর মধ্যে একটি হলো উচ্চতাজনিত মাথা ব্যথা হওয়া। এই সামান্য সমস্যাকে পাত্তা দেয়া হলো অবচেতন মনে এসব সমস্যাকে আরও বেশি ডেকে আনা। তখন পর্বতারোহীরা আরও বেশি এসব সমস্যায় আক্রান্ত হয়। সবচেয়ে ভালো উপায় হলো এসব চিন্তাকে মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে অন্য কিছু নিয়ে চিন্তা করা।?

দাওয়া?র কথা মনে হতেই চিন্তাকে ঘুরিয়ে নিলাম অন্য দিকে। তখন ভাবছি এতে মনে হয় ভালোই হলো। কারণ প্রতিযোগিতায় তো আমি পাঁচদিন পিছিয়ে আছি, এম এ মুহিত আমার চেয়ে দিন পাঁচেক আগেই রওয়ানা দিয়েছে। আর তারা ঝাংমুতে একদিন যাত্রাবিরতি করেছিল। সেই একটা দিন এখন সরাসরি নায়ালামে চলে যাওয়ায় বেঁচে গেল। অর্থাত তাদের সঙ্গে এখন আমার ফারাক চার দিনের।

দুপুর ৩টা:
চীনারা তিব্বতে পথঘাট তৈরি করেছে অত্যন্ত উন্নতমানের। কোথাও কোনো ভাঙাচোরা নেই। পাহাড় কেটে, কোথাও পর্বতের রুক্ষ ফেসকে প্রয়োজন মতো ভেঙে নিয়ে সাবলীল পথ তৈরি করেছে তারা। কিছুদূর পার হতেই গাছের চিহ্ন উধাও হলো পর্বতের গা থেকে। এসব দেখে মনেই হচ্ছিল যে তিব্বতের হিমালয় নেপালের হিমালয়ের মতো নয়। ফলে এখানে অক্সিজেনস্বল্পতা ভোগাতে পারে। ভাবছিলাম পথের দু?পাশের দৃশ্য উপভোগ করতে করতে নায়ালাম পৌঁছে যাবো। কিন্তু কখন যে গাড়ির দুলুনিতে ঘুমিয়ে পড়েছি খেয়াল নেই। টের পেলাম একেবারে নায়ালামে পথের ধারে হোটেলের সামনে গাড়ি পৌঁছানোর পর।

সন্ধ্যা ৬টা:
তখন প্রায় সন্ধ্যা। ঠান্ডা জেঁকে বসেছে। পাথর, মাটি আর কাঠ দিয়ে তৈরি সাধারণ একটা হোটেলে থাকার ব্যবস্থা। ধরেই নিয়েছি বাকি সময়ে হয়তো ?সামর্থ অনুসারে সুবিধা?র সুযোগ রাখা হয়েছে। পৌঁছেই গরম কাপড় চড়ালাম গায়ে। সোম বাহাদুর বেশি করে তরল বা পানি পানের পরামর্শ দিলেন। রাতে খাবার খেলাম আরেকটা হোটেলের রেস্টুরেন্টে। এই দুই হোটেল রাস্তার বিপরীত দিকে। ফলে এক হোটেল থেকে আরেক হোটেলে যাওয়া-আসা করার সময় মনে হচ্ছিল যেন ঠান্ডায় এখনই জমে যাব।

রেস্টুরেন্টে সব পর্বতারোহীরা ?ইনজি? (অতিথি)। বাকি সব শেরপা গাইডরা সাধারণ(!) মানুষ। কিন্তু সবাই একই টেবিলে একই খাবার খেলাম। তবে তিব্বতীয় হোটেলের লোকজন ইনজি?দের একটা বাড়তি সেবা দিচ্ছে। তাদের রাতে থাকার ঘরও আলাদা।
« Day 2  Day 4 »
Welcome Message
Mountaineering Biography
Personal Biography
Photo Gallery
Video Gallery
Musa Ibrahim's official website (www.musaibrahim.com.bd) launched on December 03
DU authority conferred 'Blue' award to Musa Ibrahim
Musa Ibrahim accorded DU Alumni Association reception
Musa Ibrahim's photo exhibition titled 'Bangladesh on top of the Everest'
Institute of Education & Research (IER), University of Dhaka is conferring reception to Musa Ibrahim
Musa Ibrahim's photo exhibition titled 'Bangladesh on top of the Everest'
Home About Musa Gallery You can do it Press Release Blog Forum FAQ Contact