Facebook   Twitter   LinkedIn   Youtube   Wikipedia
Day 2
কাঠমান্ডুতে এভারেস্ট অভিযানের প্রস্তুতি
এপ্রিল ০৯, ২০১০
দ্বিতীয় দিন
ভোর ৫টা:
ঘুম থেকে উঠে পড়লাম। কারণ সোম বাহাদুরকে দেয়া কথা মতো ভোর ৬টার মধ্যেই বুদ্ধনাথ টেম্পলে হাজির হতে হবে। সোম বাহাদুর বুদ্ধ ধর্ম অনুসারী। তার ভাতিজা কৈলাসও তাই। সুতরাং তারা এভারেস্ট অভিযানে যাওয়ার আগে বুদ্ধের কাছে অভিযানের সাফল্যের জন্য প্রার্থনা করবে। কিন্তু এখানে আমি কেন? সোম বাহাদুরের উত্তর হলো- যেহেতু এভারেস্ট অভিযানে সাফল্যলাভের বিষয়টায় টিমওয়ার্ক একটা মুখ্য বিষয়, কাজেই প্রথম থেকেই সব কাজে একাট্টা থাকা ভালো। বিষয়টা যেহেতু ধর্মীয় এবং স্পর্শকাতর একটা বিষয়, তাই আর প্রশ্ন না বাড়িয়ে ভাবলাম- সোম বয়স্ক ব্যক্তি। তার সঙ্গে তর্ক বাড়ানো কেন?

বিছানা ছেড়ে ফ্রেশ হয়ে সোয়া ৫টায় হোটেল থেকে বের হয়েই ভাবলাম- এই সকালে ট্যাক্সি না নিয়ে একটু হাঁটা যাক। কারণ সকালের আলো ভালো করে ফুটলে এক ট্যাক্সি ভাড়া এক ধরনের- সাধারণ ভাড়া। আর এর আগে ট্যাক্সি নিলে প্রায় দেড়গুণ ভাড়া - প্রায় ৩শ রুপি - দিতে হবে। কিন্তু যতোটা সম্ভব টাকা বাঁচাতে হবে। অনর্থক কোনো খরচ করা চলবে না। আর পুরো সকাল হতে আর মাত্র আধ ঘণ্টা বাকি। তাই হেঁটে সময় কিছুটা পার করা যাক। এমন ভেবে হেঁটে থামেল পার হয়ে এলাম। রাণীপোখরি পার হতেই সময় প্রায় ৫টা ৩৫ মিনিট হয়ে এল। এবার ভাবলাম ট্যাক্সি নেয়া যাক। কিন্তু কোনো ট্যাক্সি চোখে পড়ছে না। এদিকে বুদ্ধনাথ মন্দিরে সোম বাহাদুরের সঙ্গে ঠিক ৬টায় দেখা করার আশ্বাস দিয়েছি। ভাবছি এই প্রতিশ্রুতি না আবার ভঙ্গ হয়। আর যদি ভঙ্গ হয়ই, তাহলে বাংলাদেশীদের সম্পর্কে তার একটা অযথাই খারাপ ধারণা জন্মাবে। এমনিতেই তার কাছে বাংলাদেশী পর্বতারোহীদের পোর্টফোলিও বেশি সুবিধার নয়। এরা জাত শেরপা। কাজেই তারা সব পর্বতারোহীকেই এক পাল্লায় মাপতে চায়। সুতরাং সময় মেনে চলার দিক থেকে তারা ইউরোপীয় পর্বতারোহীদের মতোই আচার-আচরণ আমার কাছেও আশা করে।

এদিক-ওদিক ঘোরাঘুরি করতে করতে দেখি রাস্তার ওপরেই খোলা আকাশের নিচে চায়ের দোকানের সামনে একটা ট্যাক্সি দাঁড়ানো। ভাবলাম এটাকেই কব্জা করতে হবে। নয়তো সোম বাহাদুরের কাছে ৬টার মধ্যে পৌঁছানো যাবে না। তাই ট্যাক্সি ক্যাবের কাছে গিয়ে ড্রাইভারকে না পেয়ে গাড়ি পর্যবেক্ষণ করা শুরু করলাম। উদ্দেশ্য- ড্রাইভার যেখানেই থাকুক, তার দৃষ্টি আকর্ষণ। আমার ইতি-উতি চাউনি দেখে ঠিকই ড্রাইভার বিষয়টা খেয়াল করলো এবং তার গাড়ির কাছে এসে জানতে চাইলো- আমি ট্যাক্সি খুঁজছি, না কি অন্য কোনো মতলব?

ড্রাইভারকে জানালাম গন্তব্যের কথা। কিন্তু ভাড়া সাড়ে ৩শ রুপি। বিস্ময়ে ভাবলাম- বলে কি? তাকে বললাম- সকাল হওয়ার আগেই না ভাড়া ৩শ রুপি। কিন্তু এই সকালেও তিনি এতো বেশি চাইছেন কেন? এর জবাবে তিনি কোনো কথা না বাড়িয়ে বললেন- ঠিক আছে, ৩শ রুপিই যদি তাকে দেয়া হয়, তাহলে তিনি আমাকে পৌঁছে দিবেন। না হলে নয়। দেখলাম যে ভাগে পেয়ে বেশ দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। আর কিছু করারও নেই। তাই যেই না রাজি হয়েছি, তখনি ফের তিনি বললেন- ১ মিনিট অপেক্ষা করো, চা শেষ করেই আসছি। শুনে আমি হতভম্ব। তাড়া থাকার কারণে তার চাওয়া মতো রাজি হলাম। এখন আবার চা পানের বিলম্ব।

১ মিনিট নয়, পাক্কা ৩ মিনিট শেষে ড্রাইভার যখন এলেন, তখন মেজাজ চড়তে শুরু করেছে। কিন্তু প্রতিজ্ঞা করেছি- অযথা কারো সঙ্গে রাগ নয়। তাই চুপচাপ ট্যাক্সিতে উঠে বসলাম। ড্রাইভারকে জিজ্ঞাসা করলাম- ৬টা বাজার আগে বুদ্ধনাথ টেম্পলে পৌঁছাতে পারবো তো? তিনি বিষয়টা হেসেই উড়িয়ে দিয়ে বললেন- এর অনেক আগেই সেখানে পৌঁছে যাবো। সুতরাং কোনো দুশ্চিন্তা করার দরকার নেই।

সকাল বেলা রাস্তা ফাকা। সুতরাং ঝড়ের বেগে গাড়ি চালিয়ে যখন বুদ্ধনাথ টেম্পলের ফটকে পৌঁছেছি, দেখি সোম বাহাদুর তখনো হাজির হননি। ভাবলাম- যাক, বাঁচা গেল। ট্যাক্সি বিদায় করে দেয়ার আরো মিনিট দশেক পর সোম এলেন। কিন্তু তার ভ্রাতুষ্পুত্র কৈলাসের তখনো দেখা নেই। তার জন্য বেশ অনেকক্ষণ অপেক্ষা করা হলো। এক সময় দেখি যে রাজপুত্র হেলেদুলে আসছেন।

কৈলাস পৌঁছাতেই সোম বাহাদুর চললেন কাঠমাণ্ডুর এক বুদ্ধ লামার সঙ্গে দেখা করতে। তার মতে এভারেস্ট অভিযানের আগে তার কাছ থেকে শুভকামনা নিয়ে যাওয়া উচিত। বুদ্ধ মন্দিরে লামা?র সঙ্গে দেখা করে সোম বাহাদুর, কৈলাস আর আমি ফিরলাম থামেলে। এখানে কৈলাসকে তার জন্য নিয়ে যাওয়া ক্রিকেট ব্যাট উপহার হিসাবে দিলাম।

সকাল ৯টা:
কোমল অরিয়ালকে অনুরোধ করলাম গত অন্নপূর্ণা ফোর পর্বতাভিযানে যারা আমার কাছে অর্থ পাওনা ছিলেন, তাদের সঙ্গে লেনদেন চুকিয়ে ফেলতে। তিনি এ বিষয়টি দেখবেন বলে এ নিয়ে চিন্তা করতে মানা করলেন।

এরপর অভিযানের খরচ কমাতে নেপালে পর্বতারোহণের সরঞ্জাম বিক্রয়কারী পরিচিত এক প্রতিষ্ঠানের কর্ণধারকে অনুরোধ করলাম পর্বতারোহণের কিছু সরঞ্জাম স্পন্সর করার জন্য। এ সময় তিনি যা বললেন, তাকে সরল করলে এর অর্থ দাঁড়ায়- ?তোমার অভিযান আয়োজনের জন্য অন্তত ছয় মাস আগ থেকে এসব সরঞ্জামের অর্ডার দেয়া উচিত ছিল। এভাবে তো কিছুই হয়তো এখন আর সংগ্রহ করতে পারবে না।?

তার কথা শুনে সোম বাহাদুর বললেন, মুসা চলো, আমরা প্রয়োজনীয় সব সরঞ্জাম কিনেই ফেলি। দরকার নেই আর কারো কাছে যাওয়ার। মূলত, তখন থেকেই শুরু হয়ে গেল প্রকৃত অভিযান। ঢাকা থেকে সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিলাম সাধারণ ডাউন জ্যাকেট, জুমার, ক্যারাবিনা, হারনেস, গগলস ইত্যাদি। এটুকু জানিয়ে সোম, লাকপা আর কৈলাসের সঙ্গে গেলাম পর্বতারোহণের সরঞ্জাম কিনতে। দোকানে গিয়েই জানা গেল- বাংলাদেশ থেকে এর আগে আরও একজন সরঞ্জাম কিনে গেছেন। সব ধরনের আধুনিক সরঞ্জাম তিনি সংগ্রহ করেছেন প্রায় লাখ পাঁচেক টাকায়। শুনে ভাবি যে, একেবারে স্বচ্ছন্দে গেলে আমিও হয়তো এমন কেনাকাটা করতাম।

এর আগের পর্বতাভিযানগুলোতে - বিশেষ করে অন্নপূর্ণা ফোর পর্বতাভিযানে সবাই পর্বতারোহণের সরঞ্জামর কিনে তবেই অভিযানে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। কারণ ২৪,৬৮২ ফুট বা ৭,৫২৫ মিটার উঁচু অন্নপূর্ণা ফোর পর্বতাভিযানে নতুন সরঞ্জাম নিয়েই যাওয়ার নিয়ম। কিন্তু অর্থকড়ির টানাটানি থাকায় সেটা আর পারা যায় নি। প্রতিবারই গিয়েছিলাম এসব সরঞ্জাম ভাড়া নিয়ে। এবারই প্রথম অভিযানের জন্য সরঞ্জাম কিনছি।

হেডটর্চ, ব্যাটারি, মাঙ্কিক্যাপ, লিপজেল, বিশেষ ধরনের কাপড়ের তৈরি হাফ ও ফুলস্লিভ টি-সার্ট, আপাদমস্তক ডাউন জ্যাকেট, পাতলা কাপড়ের এবং দুস্তরবিশিষ্ট হাতমোজা, বিশেষ ধরনের পায়ের মোজা, পানি গরম রাখার ফাস্ক, পানির বোতল, আইসএক্স, আইসবুট, ক্র্যাম্পন, বরফ থেকে গ্লেয়ার ঠেকানোর বিশেষ ধরনের চশমা ইত্যাদি কেনা হলো। সবমিলিয়ে খরচের রাশ টেনে ধরা হলো পঁচানব্বই হাজার রুপির মধ্যে। তবে বাংলাদেশ থেকে আগেই যাওয়া আরেকজন কেনাকাটা করেছেন এর পাঁচগুণ অর্থ খরচে। দোকানি আমার এমন কৃচ্ছসাধন দেখে অবাক। তিনি জিজ্ঞেস করেন, ডাউন স্লিপিং ব্যাগ তো নিলেন না। তাহলে রাতে ঘুমানোর সময় এভারেস্টের ঠাণ্ডা ঠেকাবেন কিভাবে? হেসে বলি, কোনো বিখ্যাত ব্র্যান্ডের জিনিস কেনার সামর্থ নেই। তাই নেপালে স্থানীয়ভাবে তৈরি করে এমন একটা ডাউন স্লিপিং ব্যাগ সংগ্রহ করেছি একেবারে নামমাত্র দামে। এটা দিয়েই কাজ চালাতে হবে। শুনে তিনি বুদ্ধের কাছে আমাদের সবার সর্বাঙ্গীন মঙ্গল কামনা করলেন। এ সময় অন্য শেরপাদেরকেও কিছু গ্লভস, ব্যাটারি, পানির ফ্লাস্ক, হেডটর্চ ইত্যাদি কিনে দিলাম। এখানে কেনাকাটা করতে করতেই সময় গড়িয়ে বেলা ১২টা ছুঁই ছুঁই।

বেলা ১২টা:
বুঝতে পারলাম লাকপা'র সঙ্গে এই অভিযানে খুব বেশি আলাপ হবে না। কারণ ভাষা সমস্যা। সে তার শেরপা ভাষা ছাড়া নেপালি ভাষা বা ইংরেজি'র এক বর্ণও বোঝে না। কিন্তু সোম বা কৈলাসকে বললে তারা অনুবাদ করে বোঝায় লাকপাকে।

কেনাকাটা শেষে কোমলের সঙ্গে চললাম এভারেস্ট অভিযান আয়োজক প্রতিষ্ঠান হিমালয়ান গাইডস-এ। সেখানে পরিচিত হলাম কর্ণধার ঈশ্বরী পাড়ওয়ালের সঙ্গে। তিনি এর মধ্যেই তিব্বতে যাওয়ার চীনা ভিসাসহ সব আয়োজন করে রেখেছেন। আগামীকালই সবাই রওয়ানা দিতে পারবো। তিনি জানালেন তার ছোট ভাই ভোলা এর মধ্যেই তিব্বতে এভারেস্ট বেস ক্যাম্পে পৌঁছে গেছে। সেখানে সে বেস ক্যাম্প ম্যানেজার হিসাবে কাজ করছে। তিনি আরো বললেন, আমার জন্য সব ধরনের আয়োজন বেস ক্যাম্পে করে রাখা হয়েছে। এখন যতো দ্রুত সেখানে পৌঁছাবো, ততো দ্রুত অন্যদের সঙ্গে পর্বতারোহণ শুরু করতে পারবো। মনে মনে ভাবছিলাম- পারলে তো এখনই উড়ে যাই। কারণ প্রতিযোগিতায় হেরে গেলে চলবে না।

আয়োজক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে জানা গেল আমি যে পরিমাণ অর্থ জমা দিয়েছি, তাতে আমার জন্য সাত সিলিন্ডার (প্রায় চার লিটার করে প্রতি সিলিন্ডার) অক্সিজেন বরাদ্দ করা হয়েছে। নিরাপত্তার জন্য কেনা হয়েছে নতুন অক্সিজেন মাস্ক। আর শেরপাদের জন্য থাকছে তিনটি করে সিলিন্ডার। কাইম্বার আর শেরপাদের জন্য এটাই স্ট্যান্ডার্ড কি না, এর চেয়ে বেশি প্রয়োজন হলে তখন কি হবে? জানতে চাইলাম তার কাছে। ঈশ্বরী পাড়ওয়াল বললেন, ?সাধারণত ক্যাম্প ওয়ান (প্রায় ২৩ হাজার ফুট) থেকে অক্সিজেন ব্যবহার শুরু করে পর্বতারোহীরা। আর এখান থেকে যখন সবাই ওপরের দিকে যায়, সে সময়ে প্রতিদিনই একটু একটু করে চূড়ার দিকে এগিয়ে যায় সবাই। ক্যাম্প ওয়ান থেকে হিসাব করলে তৃতীয় দিনের মাথায় অভিযাত্রীরা চূড়ায় গিয়ে পৌঁছায়। সে হিসাবে একজন অভিযাত্রীর জন্য সাত সিলিন্ডার অক্সিজেন যথেষ্ঠ। এর চেয়ে বেশি প্রয়োজন হলে চিন্তা কোরো না। আমার ভাই ভোলা রয়েছে সেখানে। সে সব ব্যবস্থা করে দেবে।?

ঈশ্বরী পাড়ওয়ালের কাছে এ কথা শোনার পর নিজেকে নির্ভার লাগছিল অনেকটাই। এভারেস্ট অভিযান যতো না শারীরিক দক্ষতায় এগিয়ে যাওয়ার ব্যাপার, তার চেয়েও বেশি আসলে মনস্তাত্ত্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা। এ ধরনের বহু বিষয় তখন সামনে এসে হাজির হচ্ছে। সবকিছু তখন ভাগ করে নিতাম সঙ্গীদের সঙ্গে, বিশেষ করে সোম বাহাদুর মানসিক দৃঢ়তা বাড়াতে সহায়তা করেছেন অনেক। তার বয়স প্রায় ষাটের কাছাকাছি। এই বয়সে তার সমস্ত প্রজ্ঞা, মেধা ও মনন দিয়ে সহায়তা করেছেন আমার এভারেস্ট অভিযানে।

দুপুর ৩টা:
পরদিন তিব্বতের দিকে রওয়ানা দেয়ার জন্য আর কিছু কি বাকি থাকল? জিজ্ঞেস করলাম কোমল আর শেরপাদের। তারা হেসে বললেন এখন এভারেস্টে রওয়ানা দেয়া আর এভারেস্ট জয় করাই বাকি। আর কিছু নয়। মনকে যথাসম্ভব হালকা রাখার চেষ্টা করছি সে সময়ে।

এসব করতে গিয়ে কখন সময় পার হয়ে গেছে টেরই পাইনি। সন্ধ্যার এক খন্ড অবসরে দেশের কথা মনে পড়ছে। মনে পড়ছে রিমি আর রাইদের কথা। রাইদের হাসিমুখ আর রিমি?র ভারাক্রান্ত মন। আমি একা কিছু চিন্তা করছি, এটা মনে হয় চেহারায় ফুটে উঠেছিল। সেটা দেখে কোমল রিমিকে ফোনে ধরিয়ে দিল। রিমিকে অভিযানের অগ্রগতি জানালাম। বললাম, সব কিছু ঠিক থাকলে আগামীকাল সকালে তিব্বতের দিকে রওয়ানা দিব। আমাকে নিয়ে দুশ্চিন্তা করতে মানা করলাম।

এ সময়ে নেপালে এক বন্ধু জিয়াউল হক খালেদ এলো কোমলের ব্যবসায়িক কার্যালয়ে দেখা করতে। তার সঙ্গে দেখা হলে সবাই হই হই করে উঠলাম। সে অন্নপূর্ণা ফোর পর্বতাভিযান শেষে তার কার্যালয়ে অভিযাত্রীদের ভুরিভোজ করিয়েছিল। নেপালে বসে দেশী খাবার খাওয়ার সুযোগ ছিল সেবারই প্রথম। কুশলাদি বিনিময়ের পর তাকে এভারেস্ট অভিযানের আদ্যোপান্ত জানালাম। খালেদের সঙ্গে কথাবার্তায় কার্টুনিস্ট মানিক-রতনের কথা উঠে এল। এনএসিবি?র অভিযাত্রী দল অন্নপূর্ণা ফোর পর্বতাভিযানে অংশ নিতে যখন কাঠমান্ডুতে ছিলাম, সে সময়ে তারা কাঠমান্ডুতে গিয়েছিলেন নেপালে কার্টুন আঁকিয়েদের একটা সম্মেলনে অংশ নিতে। মানিক-রতন যমজ ভাই। নির্দিষ্টভাবে চিনিয়ে না দিলে তাদের আলাদা করা খুবই কঠিন। একই কার্টুন দু?জন একই সঙ্গে এঁকে তারা সেবার সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিল। খালেদ এ সময়ে জানাল, পরদিন সকালে সে হোটেলে চলে আসবে বিদায় জানাতে।

সন্ধ্যা ৬টা:
সন্ধ্যা গড়িয়ে তখন থামেলে রাত। দোকানপাট বন্ধ হতে শুরু করেছে। কিন্তু রাতের থামেল উঠছে জেগে। বহু রেস্টুরেন্টে ব্যান্ডের আসর বসেছে। তাদের বাজনার তালে নাচছে থামেল। এসব দেখে হোটেলে ফিরে ব্যাগ গুছিয়ে ফেললাম। কারণ পরদিন সাতসকালে রওয়ানা দিব সবাই।
« Day 1  Day 3 »
Welcome Message
Mountaineering Biography
Personal Biography
Photo Gallery
Video Gallery
Musa Ibrahim's official website (www.musaibrahim.com.bd) launched on December 03
DU authority conferred 'Blue' award to Musa Ibrahim
Musa Ibrahim accorded DU Alumni Association reception
Musa Ibrahim's photo exhibition titled 'Bangladesh on top of the Everest'
Institute of Education & Research (IER), University of Dhaka is conferring reception to Musa Ibrahim
Musa Ibrahim's photo exhibition titled 'Bangladesh on top of the Everest'
Home About Musa Gallery You can do it Press Release Blog Forum FAQ Contact