Facebook   Twitter   LinkedIn   Youtube   Wikipedia
Day 18
শেরপা, পর্বতারোহীরাও নেমে এলেন বেস ক্যাম্পে
এপ্রিল ২৫, ২০১০
১৮শ দিন

ভোর ৬টা:
হঠাত ঘুম ভেঙ্গে গেল। ঘড়িতে দেখি প্রায় সোয়া পাঁচটা বাজে। কিন্তু এতো সকালে, সূর্য ওঠার প্রায় আধ ঘণ্টা আগে, ঘুম ভাঙ্গার কারণ কি? কানে এল ?হিমালয়ান কক?-এর ডাক। তার মানে এই পাখির একটানা কক্ কক্ করে ডেকে চলার কারণেই ঘুম ভেঙেছে। ভাবলাম- যাই, এর ছবি তুলে আসি। এটা ভেবে শোয়া থেকে উঠতেই দেখি যে সোম বাহাদুর তখনও ভোস ভোস করে ঘুমাচ্ছেন। তাকে আর ডাকলাম না। বেচারা গতকাল অনেক পথ পেরিয়ে বেস ক্যাম্পে পৌছেঁছেন। পানি খেয়ে তাঁবুর চেইন খুললাম। তাঁবুর আউটার শেল-এর ভেতরে (কিন্তু ইনার শেল-এর বাইরে) রাখা ট্রেকিং জুতা টেনে নিয়ে তাতে পা গলিয়ে যেই না এক পা এগিয়েছি আওয়াজের উতস সন্ধানে, তখনই বুঝলাম ঠাণ্ডার দাপট। তাঁবু থেকে একেবারে বের হয়ে আসতেই ঠাণ্ডার হারটা আরও স্পষ্ট হলো। একেবারে যেন হাড়ে গিয়ে ঠেকছে ঠাণ্ডা। গায়ে ডাউন জ্যাকেটের ওপর উইন্ডব্রেকার জ্যাকেটও আছে। হাতে পাতলা ইনার গ্লভস থাকলেও ঠান্ডায় যেন তা অসার হয়ে এলো। দ্রুত হাত জ্যাকেটের পকেটে ঢোকালাম। মাথায় চড়িয়েছি মাঙ্কি ক্যাপ। তারপরও যেন ঠাণ্ডা ঠেকে না।

তাঁবু থেকে বের হয়ে দেখি এতো সকালে কেউই ঘুম থেকে ওঠেনি, তাঁবু থেকে বের হয় নি। শুধু আমি একা জেগে উঠে পাগলের মতো ঠাণ্ডা বাতাসের মধ্যে চলেছি হিমালয়ান কক-এর ছবি তুলতে। মিনিট পাঁচেক হাঁটার পরই পেয়ে গেলাম হিমালয়ান কক। চায়নিজ সেনাবাহিনীর অধীন শেরপাদের দল যে জায়গাটায় ক্যাম্প করার পর একটা ঢিবিকে উচ্ছিষ্ট খাবার ফেলে রাখার জন্য ব্যবহার করছে, সেখান থেকে খাবার খুটে খাচ্ছে চারটা হিমালয়ান ককের দল। চারদিক ফর্সা হয়ে এলেও তখনও সূর্যের আলো এসে পৌঁছায়নি। আবার ফ্ল্যাশ দিয়ে ছবি তুলতে গেলে পাখিগুলোও চমকে উঠে উড়ে পালাবে। তাই ফ্ল্যাশ ছাড়াই প্রায় বিশ মিটার দূরত্ব বজায় রেখে ছবি তুললাম সেই পাখির। মানুষ দেখে ভয় পায় না। তবে কাছে গেলে দৌড়ে পালায়। আরও কাছে গেলে উড়ে চলে যায়।

পাঁচ-সাতটা ছবি মনে হয় তুলেছি, তাতেই ঠান্ডায় হাতের আঙ্গুল নীল হয়ে গেল। ব্যথায় ককিয়ে উঠলাম। ছবি তোলা বাদ দিয়ে ক্যামেরা শরীরের মধ্যে ঢুকিয়ে তাঁবুর দিকে ফিরে চললাম। তখনও কেউ ঘুম থেকে ওঠেনি। এমনকি সোম বাহাদুরও না। সুতরাং কোনো কাজও নেই। তাই তাঁবুতে স্লিপিং ব্যাগের মধ্যে ঢুকে চলল তেনজিং নরগের বই পড়া।

এর এক ফাঁকে কিচেন টেন্ট থেকে হাড়িপাতিলের টুংটাং আওয়াজ ভেসে আসতে থাকল। বুঝলাম কিচেন স্টাফরা জেগে উঠে কাজে নেমে পড়েছেন। কাজ বলতে গত রাতের এঁটো বাসনকোসন ধুয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা। পানি নিয়ে আসা। নাশতা বানানোর প্রস্তুতি নেয়া। পানি জ্বাল দিয়ে ফুটিয়ে ফ্লাস্কে চা, দুধ ইত্যাদি বানিয়ে কিচেন টেন্টে রাখা। নাশতা বানানো শেষ হওয়ার ঠিক আগ মুহুর্তে পর্বতারোহী আর শেরপাদের ঘুম থেকে ডেকে তুলে বেড-টি দিয়ে আসা। শুধু চিন্তা করি যে- জীবন এখানে কতো কঠিন। এই সাতসকালে দুই জন ছেলে জীবন সংগ্রামে নেমে পড়েছেন। এই কিচেন স্টাফরা ঠান্ডা পানিতেই সবকিছু ধুয়ে পরিষ্কার করছেন। ঠান্ডায় আমার হাতের আঙ্গুল নীল হয়ে যায়, সহ্য করতে না পেরে আমি তাঁবুতে ফিরে স্লিপিং ব্যাগের ভেতর আশ্রয় খুঁজি। আর এরা হিম ঠাণ্ডা পানিতেই তাদের কাজ সারছেন। সামান্য ক'টা অর্থের জন্য এতো কষ্ট। এদের একজন শুনেছি মাত্র কয়েক মাস আগে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। তিনি নববধূকে নিয়ে আগামীতে ভালো একটা জীবন কাটাতে এখানে কিচেন স্টাফ হয়ে কাজ করছেন। তার আশা- সামান্য কিছু অর্থ হাতে এলেই সে জায়গা-জিরাত ইত্যাদি কেনাকাটার দিকে মন দিয়ে পুরো গৃহস্থী জীবন কাটাবেন। সেটাও কোনো পাহাড়-পর্বতের কোলে। অদ্ভুত কষ্টের জীবন এখানে। এর সঙ্গে কোনো কিছুর মিল নেই।

সকাল ৯টা:
নাশতা শেষ করে ডায়নিং টেন্টে বসেই সময় কাটাচ্ছি। সময় কাটানো মানে মন্টেনেগ্রিন পর্বতারোহীদের সঙ্গে আনা তাদের ভাষায় একটা ফ্যাশন ম্যাগাজিন আর ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের একটা ম্যাগাজিন। যদিও তাদের ভাষার 'ক' বর্ণও বুঝি না। তাই শুধু ছবি দেখেই ম্যাগাজিনের পাতা উল্টিয়ে চলি।

এদিন সোম বাহাদুর চললেন সাকাং বাজারের আগে জা রংবুক মনাস্ট্রিতে লামার সঙ্গে দেখা করতে। এই প্রথম নাকি তিনি পর্বত অভিযানে এসে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন (মিড ক্যাম্প থেকে অ্যাডভান্সড বেস ক্যাম্পে যাওয়ার সময় তিনি যে অসুস্থ পড়েছিলেন, তার জের তিনি তখনও বয়ে চলেছিলেন।)। এর আগে কখনো না কি এমন হয় নি। তাই লামার সঙ্গে দেখা করে তার কাছে নিজের ভূত-ভবিষ্যত বোঝার চেষ্টা করবেন। এই লামা হচ্ছেন সেই লামা, যিনি আমাদের বেস ক্যাম্প থেকে এবিসি'র দিকে যাওয়ার আগে বুদ্ধের কাছে প্রার্থনা করার জন্য বেস ক্যাম্পে এসেছিলেন।

আর আমি ডুবে থাকলাম তেনজিং নরগের আত্মজীবনীমূলক বই ?ম্যান অব এভারেস্ট?-এ। জানতে পারলাম- রাধানাথ শিকদারের মাপামাপির একশ বছর পর মানুষ এভারেস্টকে মাথা নোয়াতে সক্ষম হয়। কিন্তু এর তোড়জোড় শুরু হয়েছিল সেই ১৯২০ শতকের গোড়াতেই। জর্জ লেই ম্যালরি?র হাত ধরে তখন এভারেস্ট জয়ের প্রচেষ্টা ১৯৫৩ সালে জন হান্টের নেতৃৃত্বে এভারেস্টে ব্রিটিশদের নবম অভিযানের মধ্য দিয়ে সফল হয়। এর আগে প্রায় বিশটি অভিযান হয়েছিল এভারেস্ট জয়ের জন্য।

১৯৫০ সালের আগ পর্যন্ত এভারেস্ট অভিমুখে যতগুলো অভিযান পরিচালিত হয়েছিল, তার সবই ছিল তিব্বতের নর্থ ফেস রুট ব্যবহার করে। কিন্তু ১৯৫০ সালে তিব্বত চীনা শাসনের অধীনে চলে গেলে এভারেস্ট জয়ের অভিযান এক ধরনের হুমকির মধ্যেই পড়ে যায়। কারণ চীন ততোদিনে নর্থ রুট অভিযানের জন্য বন্ধ করে দিয়েছে। আর ১৯৫০ সালের আগ পর্যন্ত পর্বতারোহীরা নেপালের সাউথ ফেস দিয়ে অভিযান পরিচালনা করার কথা চিন্তাও করে নি। কারণ এ সময়ে নেপাল শাসন করতো যে ?রানা পরিবার?, তারাও এ ধরনের অভিযানের অনুমতি দেয়ার ব্যাপারে ছিল খুবই কঠোর। এই শাসকদের ধারণা ছিল, পর্বতে অভিযানের নামে দেশে বিদেশী গুপ্তচরের আবির্ভাব ঘটবে এবং হয়তো তাদের শাসন ব্যবস্থায় তখন সমস্যা হতে পারে এবং ক্ষমতাও হারাতে হতে পারে। তবে এ সময়ে অর্থাত ১৯৫০ সালে ঘটে গিয়েছিল আরেকটা ঐতিহাসিক ঘটনা। চীন তিব্বত দখল করে নেয়ার পর কাকতালীয়ভাবে বিদেশী চাপে, বিশেষ করে ভারতের, রানা পরিবার নেপালের শাসনভার রাজা ত্রিভূবনের কাছে হস্তান্তর করে আত্মগোপনে চলে যায়। আর সে সময়ে রাজা ত্রিভূবন ছিলেন রানা পরিবারের তুলনায় অনেক উদার। তিনি বিদেশী মেহমানদের কখনোই বিমুখ করেননি এবং নেপাল দিয়ে এভারেস্ট জয়ের সুযোগ সবার জন্য অবারিত করে দেন। ফলে চীন তিব্বত দিয়ে এভারেস্ট পর্বতাভিযান বন্ধ করার পর কিছুদিন এভারেস্ট অভিমুখে অভিযান শঙ্কার মুখে থাকলেও নেপাল দিয়ে এই সুযোগ খুলে যায়। তবে সে সময়ে প্রতি বছর একটি করে দেশকে এভারেস্ট অভিযানের অনুমতি দেয়া হতো।

কিন্তু যেই পর্বতারোহীরা এতোদিন নর্থ ফেস দিয়ে এভারেস্ট জয় করার চেষ্টা চালিয়ে গেছেন, তারাই যখন সাউথ ফেস দিয়ে এভারেস্ট জয় করতে এলেন, এভারেস্ট তাদের কাছে হাজির হয়েছিল একেবারে নতুন এক পর্বত হিসাবে। বিশেষ করে শেরপাদের কাছে। কারণ এই রুটটা তাদের জানা ছিল না। নতুন করে প্রতিটি পদক্ষেপ জেনে নিয়ে, চিনে নিয়ে তাদেরকে এগোতে হয়েছে।

১৯৫০ সালে এইচ ডব্লিউ টিলম্যান এবং আমেরিকান চার্লস হাস্টন কাঠমান্ডু থেকে রওয়ানা দিয়ে নেপাল বেস ক্যাম্প পর্যন্ত পৌঁছাতে পেরেছিলেন। পরের বছর এরিক শিপটন এদিক দিয়ে এভারেস্ট জয় করা যায় কি না, তা পরখ করে দেখতে একটা পূর্ণ মাত্রার অভিযান পরিচালনা করেছিলেন। কিন্তু কেউই খুব বেশি দূর এগোতে পারেননি। টিলম্যান ও হাস্টন কেউই সামান্য মাত্রার আরোহণ করার জন্যও প্রস্তুত ছিলেন না। আর শিপটন ও তার দলের লোকজনকে খুম্বু গ্লেসিয়ারে একটা বিশাল ক্রেভাসের মুখে পড়ে ফিরতে হয়েছিল। আর প্রথম দল বহু বছর আগে তিব্বত রুটের পুরনো লো লা ফেস থেকে এই সাউথ ফেস দেখে একবার মন্তব্য করেছিলেন, যা কি না ম্যালরি?র সঙ্গে মিলে গিয়েছিল, যে এই সাউথ ফেস নর্থ ফেসের চেয়ে বহু গুণে কঠিন। হয়তো বা অসম্ভবও।

১৯৫২ সালটা ছিল সুইজারল্যান্ডের জন্য বরাদ্দ। সে বছর মার্চ-এপ্রিল-মে মৌসুমে সুইস পর্বতারোহী রেমন্ড ল্যাম্বার্ট আর তেনজিং নরগে সাউথ ফেস দিয়ে এভারেস্টের ২৮,২৫০ ফুট পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিলেন। কিন্তু বিরূপ আবহাওয়ার কারণে তাদেরকে ফিরতে হয়েছিল। এর পরের মৌসুমেও সুইসরা ছিল মরিয়া। কারণ ১৯৫৩ সালটা নেপাল সরকার ততোদিনে শুধু বৃটিশদের অভিযান পরিচালনা করার জন্য কথা দিয়ে রেখেছে। কাজেই এভারেস্ট চূড়ায় প্রথম মানব- এই গৌরবের অধিকারী হতে হলে সুইসদের সামনে তখন একটাই পথ খোলা ছিল- শীত মৌসুমে ফের চেষ্টা করা। কারণ তখন সবার ধারণা ছিল, প্রযুক্তিগত দিক থেকে বৃটিশরা যেভাবে এগোচ্ছে, এবং তারা দলে এমন সব ঝানু পর্বতারোহীদের অন্তর্ভুক্ত করছে, তাতে বৃটিশরা একবার সুযোগ পেলে এভারেস্ট জয় করেই ছাড়বে। কাজেই সেপ্টেম্বর-অক্টোবর-নভেম্বর মৌসুমে সুইসরা ফের সাউথ ফেস দিয়ে এভারেস্ট জয় করার জন্য দার্জিলিং আসে। এবারেও রেমন্ড ল্যাম্বার্ট দল বাঁধেন তেনজিং নরগে?র সঙ্গে। দলনেতা ছিলেন ডা. গাব্রিয়েল শ্যাভেলরি। এবারও তারা প্রায় একই উচ্চতা পর্যন্ত ক্যাম্প নাইন স্থাপন করেন। কিন্তু শীতকালে ছিল এটাই প্রথম কোনো এভারেস্ট অভিযান এবং সেবার এতই ঠান্ডা ছিল যে তাদের খাবারদাবার সবপাথরের মতো শক্ত হয়ে গিয়েছিল। মূলত ঠান্ডার কাছে পরাস্ত হয়েই তারা সেবারও ব্যর্থ হয়েছিলেন।

এর পরের বছর রচিত হয়েছে ইতিহাস। ১৯৫৩ সালটা ছিল বৃটিশদের। তারা দার্জিলিং গেলেন এভারেস্ট অভিযান আয়োজনের জন্য। প্রায় সাড়ে ছয়শ জন মালবাহক নিয়ে তারা রওয়ানা দিলেন এভারেস্টের উদ্দেশ্যে। কর্ণেল জন হান্টের দলের প্রথম জোড় ২৬ মে টম বর্ডিলন ও চার্লস ইভান্স খারাপ আবহাওয়া, প্রচন্ড ঠান্ডা ও ত্রুটিপূর্ণ অক্সিজেন সরঞ্জামের কারণে ২৮,৭৫০ ফুট উচ্চতা থেকে (চূড়া থেকে ৩০০ ফুটেরও কম দূরত্ব থেকে) ফিরতে বাধ্য হন। এর তিনদিন পরই সৃষ্টি হয়েছিল ইতিহাস। প্রথম দল চূড়ায় উঠতে ব্যর্থ হলে এরপর দ্বিতীয় ও শেষ জোড়া পর্বতারোহী তাদের অভিযান শুরু করে তিনদিন পর। সেই ২৮,৭৫০ ফুটের পর একটা প্রায় ২০-২৫ ফুট খাড়া বরফের দেয়াল পার হতে হয়েছিল হিলারি ও তেনজিংকে। এটাই এখন হিলারি স্টেপ নামে পরিচিত। এরপর এভারেস্ট চূড়ার প্রায় ২০০ ফুট ঢালে রোপ ফিক্স করে তারা ২৯ মে স্থানীয় সময় ১১:৩০ মিনিটে প্রথম এভারেস্ট চূড়ায় উঠতে সক্ষম হন। প্রথম মানব হিসাবে এভারেস্টে পা রাখেন নিউজিল্যান্ডের এডমন্ড হিলারী (পরে বাংলাদেশে রাষ্ট্রদূত ছিলেন) ও নেপালের তেনজিং নোরগে শেরপা। সেই থেকে এরই মধ্যে অনেকে এভারেস্টে নিজেদের জাতীয় পতাকা নিয়ে গেছেন।

বেলা ১২টা
সোম বাহাদুর নেই। অন্য কোনো শেরপাও নেই। কাজেই কোনো বিষয়ে কাজের কোনো তাড়া নেই। অলস সময় কেটে যাচ্ছে। একটু পর দুপুরের খাওয়ার সময় হয়ে এলো। আগের মতো নিয়ম মেনে মেন্যু থাকলো খাবারে। ডাল-ভাত-সবজি। সঙ্গে ডিম ভাজা।

খাওয়া শেষে ডায়নিং টেন্টেই বসে সময় কাটাতে লাগলাম। আবারও নিয়ম মেনে পানি আর চা পান করছি। এর মধ্যে সোম বাহাদুর ফিরে এলেন। তাকে দুষ্টামি করে জিজ্ঞাসা করলাম- কি সোম জি? কিছু পাওয়া গেল? কিছু জানতে পারলেন যে অ্যাডভান্সড বেস ক্যাম্পের ওপরে যেতে পারবেন কি না? নাকি লামা মশায় নিষেধ করে দিলেন? এসব প্রশ্নের জবাবে তিনি হাসেন। বলেন- "এবার কেন যেন আমার মন সায় দিচ্ছে না। তাই আর ওপরে যেতে চাচ্ছি না।" শুনে তাকে বলি- হুমম, তাহলে আমার অভিযানের কি হবে? উত্তরে তিনি বলেন- আরে হবে, হবে। তিনি নাকি লামার কাছ থেকে আমাদের অভিযান সম্পর্কেও জেনে এসেছেন। বুঝতে পারলাম, এসব শুনে আর কাজ নেই। কর্মেই সবকিছুই পরিচয়। লামা মশায় কি বললেন, তা দিয়ে কি আর এভারেস্ট জয় হবে?

বিকাল ৩টা:
একটু পর হিমালয়ান গাইডসের সব পর্বতারোহী আর শেরপারা বেস ক্যাম্পে নেমে এলেন। কৈলাস আর লাকপাও চলে এসেছেন ভালো ঘুম ঘুমানোর আশায়। বেশি বেশি করে খেয়ে শক্তি সঞ্চারের উদ্দেশ্যে। তারা এবিসি থেকেই বেস ক্যাম্পে আসার কথা জানিয়ে দিয়েছিলেন। তাই এসেই খাবার-দাবার রেডি পেলেন। তবে তাদের বেস ক্যাম্পে নেমে আসতে আমার চেয়ে প্রায় ঘণ্টাদুয়েক সময় কম লাগলো। বুঝতে পারলাম আমার ঘাটতিটুকু। মনে মনে সিদ্ধান্ত নিলাম, নিজের এই অপূর্ণতাকে পূরণ করতে হবে। জয় করতে হবে নিজেকে। আর এটা করতে হবে নিজের দক্ষতা বাড়ানোর মধ্য দিয়ে। এ সময় সব শেরপা আর পর্বতারোহীরা সবাই তাঁবুতে গেলেন বিশ্রাম নিতে। আবারও একা হয়ে পড়লাম। আবারও রাইদ আর রিমির কথা মনে পড়ছে। তখন ভাবছিলাম- লজ্জার মাথা খেয়ে ভোলাকে আবার অনুরোধ করবো কি না যে তার স্যাটেলাইট ফোন ব্যবহার করে ঢাকায় ফোন ব্যবহার করা যায় কি না। কিন্তু আবার তার কাছে ছোট হতে হবে না তো?

সন্ধ্যা ৬টা:
দিনটা মোটামুটি নিস্তরঙ্গ কেটে যাচ্ছিল। কিন্তু সন্ধ্যার দিকে শুরু হলো প্রচন্ড বাতাস আর তুষারপাত। এ দুয়ের যৌথ তত্পরতায় ঠান্ডা বেড়ে গেল বহুগুণ। ঠান্ডা থেকে বাঁচতে একবার ডায়নিং টেন্ট, আরেকবার কিচেন টেন্ট নয়তো নিজের তাঁবুতে গিয়ে ঢুকছি। রাতে এদিন বেশ দ্রুতই খাবার দিয়ে দেয়া হলো। সবাই মোটামুটি গোগ্রাসে খাবার খেয়ে নিলাম।

রাতে বেশ ভালোই ঘুম হলো। একেবারে নির্ঝঞ্ঝাট ঘুম যাকে বলে।
« Day 17  Day 19 »
Welcome Message
Mountaineering Biography
Personal Biography
Photo Gallery
Video Gallery
Musa Ibrahim's official website (www.musaibrahim.com.bd) launched on December 03
DU authority conferred 'Blue' award to Musa Ibrahim
Musa Ibrahim accorded DU Alumni Association reception
Musa Ibrahim's photo exhibition titled 'Bangladesh on top of the Everest'
Institute of Education & Research (IER), University of Dhaka is conferring reception to Musa Ibrahim
Musa Ibrahim's photo exhibition titled 'Bangladesh on top of the Everest'
Home About Musa Gallery You can do it Press Release Blog Forum FAQ Contact