Facebook   Twitter   LinkedIn   Youtube   Wikipedia
Day 15
এভারেস্ট পানে চেয়ে থাকলাম
এপ্রিল ২২, ২০১০
১৫শ দিন

ভোর ৬টা:
আগের মতোই অনেক ভোরে ঘুম ভেঙ্গে গেল। গতরাতে বেশ বয়ে গেছে বাতাস। শব্দ শুনে মনে হয়েছে যেন কান্নার আওয়াজ ভেসে আসছে। গোঙানির আওয়াজে যেন বেদনার ছাপ। কিন্তু এতো রাতে কার জন্য বাতাসের এই বেদনা, তা বোঝা মুশকিল। এই রাতে মাথা ব্যথা করেনি ঠিকই, কিন্তু বাতাসের এই গোঙানির শব্দে বেশ কয়েকবার ঘুম ভেঙে গেছে। দুয়েকবার তো মনেই হয়েছে- বাতাসের স্রেফ তাণ্ডব বয়ে যাচ্ছে অ্যাডভান্সড বেস ক্যাম্পের ওপর দিয়ে এবং তাঁবুর ওপর কেউ যেন বাতাসের চাবুক আছড়ে মারছে। ভোর হতে হতে যখন এই তাণ্ডব কিছুটা কমে এলো, মনে হলো- যাক, বড় বাঁচা বেঁচে গেছি। অদ্ভুত পরিস্থিতি। এর কোনো নিয়ন্ত্রণ কারো হাতে নেই। সোম বাহাদুর তো হর-হামেশাই বলেন- এভারেস্ট অভিযানে আবহাওয়ার কোনো ভবিষ্যদ্বাণী খাটে না। আমার একটা পর্যবেক্ষণ হলো- দিনের বেলা বারোটা বাজার সঙ্গে সঙ্গে পর্বতে আবহাওয়ার বারোটা বাজে। পর্বতারোহণে আবহাওয়া সম্পর্কে দিনের বেলা কোনো ভবিষ্যদ্বাণী করা যায় না। কিন্তু তাই বলে রাতের বেলা? রাতে এবিসিতে বাতাসের এমন অস্থিরতা অসহ্য হয়ে উঠছে দিনকে দিন। তাই ভোরবেলা তাঁবু ছেড়ে বের হওয়ার সাহস করলাম না। গ্যাট হয়ে শুয়ে থাকলাম। এরপর ধীরে ধীরে এবিসি'র আকাশে সূর্য যখন পূর্ণরুপে হাজির হলো, তাতে তাঁবু যখন একটু ওম পেল, সে সময়ে দেখলাম সোম বাহাদুর একটু নড়েচড়ে বসা শুরু করেছেন। তিনি চোখ মেলতেই বললাম- সোম জি, আপনাকে দিয়েই হবে। আপনার যে ঘুম, যদি এবিসিতে ভূমিকম্পও হয়, তাহলেও সেই সময়ে আপনার ঘুম ভাঙবে কি না, সন্দেহ আছে। শুনে তিনি হাসেন। এমন ঘুমের পর তাকে জিজ্ঞাসা করার কোনো মানে নেই, তবুও জিজ্ঞাসা করলাম- রাতে কোনো সমস্যা হয় নি তো ঘুমের? ভাবটা এমন যেন কোনো সমস্যা হলো তা জানালে যেন তাতক্ষণিক সমাধান আমার হাতে আছে। আসলে নেই, কিন্তু জিজ্ঞাসা করছি অন্য কারণে। ঘুম ঠিক মতো হওয়া মানে তার শরীরের ওপর দিয়ে যে চরম এক ধকল গেছে এবিসিতে পৌঁছার সময়, এখন ভালো খাওয়া-দাওয়া, ঘুম, বিশ্রাম ইত্যাদি তাকে সেই ধকল পুষিয়ে নিতে সহায়তা করবে। আর আমিও দিনকে দিন একটানা ২১ হাজার ফুট উচ্চতার এবিসিতে আসার শারীরিক ঘাটতিটা পুষিয়ে নিতে শুরু করেছি। এর প্রথম লক্ষণ- এখন আর মাথা ব্যথা করছে না।

এইবার তাঁবু ছেড়ে বাইরে এলাম। দেখি যে এবিসি জেগে উঠেছে। কিচেনের স্টাফরা বেশি সরগরম। দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে নর্থ কোলের ওপর বাতাসের কর্মকাণ্ড দেখছি, কখনও এভারেস্ট পানে তাকিয়ে থাকছি, এ সময় একজন কিচেন বয় এসে হাতে চায়ের মগ ধরিয়ে দিল। চুমুকে চুমুকে সেটা শেষ হয়ে আসতেই আরেকবার মগ ভরে দিল সেই কিচেন বয়। তাদের এমন যত্নআত্তি করার বিষয়টা বেশ দেখার মতো। সকাল হলে পর্বতারোহীদের কি লাগে, কোন্ খাবারটা এখন ভালো, দুপুরের খাবারটা কেমন হলো, বিকালে কিছু স্পেশাল দেয়া যায় কি না, রাতে সবাই ঠিকঠাক খেলো কি না, সবাই তাদের তদারক করা চাই। চা খেতে খেতে আমি এভারেস্ট পানে ফের অনেকক্ষণ ধরে তাকিয়ে রয়েছি। এবিসি থেকে শুধু এর চূড়া দেখা যায়। সেই চূড়ায় ক্রমাগত প্লুম (পর্বতের চূড়া বা রিজের ওপর বাতাসের তোড়ে বরফ থেকে সৃষ্ট মেঘ) তৈরি হচ্ছে। এর উত্তর রিজেও একই অবস্থা। ভাবছি যে এই সেই এভারেস্ট। যার জন্য কতোই না ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে। কতো মানুষকে না বোঝাতে হয়েছে- এই অভিযানের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে গিয়ে। বাংলাদেশ থেকে আরেকজন পর্বতারোহী রয়েছে এ মুহুর্তে এবিসিতে। কিন্তু তিনি সহজেই স্পন্সর যোগাড় করে এসেছেন। আমার পরিস্থিতি ভিন্ন। আমাকে বোনের কাছ থেকে অর্থ ধার করে আসতে হয়েছে। যদি এই আবাহাওয়ার কারণে আমাকে ফিরে যেতে হয়, তাহলে এর চেয়ে দুর্ভাগ্যজনক আর কি হতে পারে। তবে আবহাওয়া ঠিক থাকলে 'বিনা যুদ্ধে নাহি দেব সূচাগ্র মেদিনি'- এমন পণ করে বসে আছি। মনকে বলছি- এই মৌসুমে যদি কোনো একজনও এভারেস্ট জয় করতে পারেন, তাহলে আমিও সেই কাজটা করতে পারবো, আমার জন্যও সেটা অসম্ভব কিছু হবে না। যদিও সমতল থেকে আমি এই অভিযানে গিয়েছি। একটা জিদ চেপে বসে মনের ভেতর। পারতেই হবে। যেতেই হবে। জয় করতেই হবে ওই চূড়া। এর বিকল্প এখন পর্যন্ত কিছু নেই। এর মধ্যে চায়না-তিব্বত মাউন্টেনিয়ারিং অ্যাসোসিয়েশনের শেরপারা নর্থ কোল থেকে খানিকটা ওপর পর্যন্ত, প্রায় ২৪ হাজার ফুট উচ্চতা পর্যন্ত রুট ওপেন করেছেন। নতুন করে রোপ লাগিয়েছেন রুটে। ভালো আবহাওয়া পেলে তাদের কাজ দ্রুতই এগিয়ে যাবে- এমনটাই জানতে পেরেছি। সুতরাং, এই আবহাওয়া শুধু আমার জন্যই বাধা নয়, সবাইকেই এই আবহাওয়া অন্তত একটা নির্দিষ্ট মাত্রায় একই কাতারে এনে দিয়েছে। ভাবতে বেশ ভালোই লাগছে। এসব ভাবনার ফাঁকে নাশতা করার জন্য ডাক পড়ল। হট চকোলেট ড্রিঙ্ক, মধুসহ পরিজ, টোস্ট-ডিম, কমলা ইত্যাদি দিয়ে সেরে নেয়া হলো নাশতা। সঙ্গে চলল প্রচুর গরম পানি পান।

সকাল ৯টা:
এদিন নর্থ কোল যাওয়ার কথা আমার আর সোম বাহাদুরের। তাই নাশতা শেষে তার কাছে জানতে চাইলাম তিনি প্রস্তুত কি না? অর্থাত, শারীরিকভাবে তিনি পুরো ফিট কি না? উত্তরে তিনি হেসে মাথা ঝাকালেন। অর্থাত, আজও নর্থ কোলে যাওয়া হচ্ছে না। কিন্তু কৈলাসের কাছে মুখ বাঁচাতে এদিন একাই নর্থ কোলের দিকে যাত্রা করলাম- অবশ্য কোনো টেকনিক্যাল সরঞ্জাম না নিয়েই। কারণ উদ্দেশ্য ছিল- শুধু ক্র্যাম্পন পয়েন্ট পর্যন্ত ঘুরে আসা এবং শরীরকে উচ্চতার সঙ্গে আরও খাপ খাওয়ানো। সেই সঙ্গে শরীরে আর যাতে কোনো ধরনের উচ্চতাজনিত সমস্যা না দেখা দেয়। একাই ঘুরে আসতে এদিন আগেরবারের চেয়ে সময় কম লাগল। কিন্তু বাতাস ছিল প্রচন্ড। ক্র্যাম্পন পয়েন্ট থেকে এভারেস্ট চূড়া দেখা যায়। সেদিকে তাকিয়ে দেখি প্রচন্ড বাতাসের কারণে এভারেস্ট চূড়া থেকে প্লুম (প্রচন্ড বাতাসের কারণে কোনো পর্বতের চূড়া বা রিজের বরফ থেকে সৃষ্ট মেঘ) তৈরি হয়েই চলেছে। কিছুক্ষণ ক্র্যাম্পন পয়েন্টে থেকে সেখানে পর্বতারোহী ও শেরপাদের যাওয়া-আসা পর্যবেক্ষণ করলাম। এরপর ফিরে চললাম এবিসি'র দিকে।

ক্র্যাম্পন পয়েন্ট থেকে ফিরে এসে আজও তেনজিং নোরগের অটোবায়োগ্রাফিই ভরসা। জেমস রামসে উলম্যানের লেখা (যেহেতু তেনজিং নোরগে লিখতে পড়তে জানতেন না) তার অটোবায়োগ্রাফি বইতে তিনি বলেছেন- এভারেস্ট জয়ের পর বহুবার তিনি ক্যাম্প নাইনের কথা ভেবেছেন। এই সময়টা তাঁকে বারবার নাড়া দিয়ে যায়। এখানে হিলারি ও তিনি ছোট্ট এক তাঁবুতে প্রায় ২৮ হাজার ফুট উঁচুতে এক রাত কাটান। তিনি বর্ণনা করেছেন- এটাই হচ্ছে এমন এক সর্বোচ্চ উচ্চতা যেখানে মানুষ কখনও ঘুমিয়েছিল। রাতে এতো ঠাণ্ডা ছিল যে হিলারির বুট জমে গিয়েছিল। তারাও প্রায় জমে গিয়েছিলেন। কিন্তু পরদিন সকালে যখন তারা ঘুম থেকে উঠলেন ধূসর আলোয়, তাঁবু থেকে বের হয়ে এলেন, তখন বলতে গেলে পাগলা বাতাসের কোনো চিহ্ন ছিল না। আকাশ একেবারে ঝকঝকে এবং স্থির ছিল। এটাই ছিল পর্বতারোহণের জন্য উপযোগী পরিস্থিতি। তিনি আরও বলেছেন- আমরা ওপরের দিকে তাকিয়ে থাকতাম। দিনের পর দিন, সপ্তাহের পর সপ্তাহ, মাসের পর মাস এটাই আমরা করতাম- ওপরের দিকে তাকিয়ে থাকা। কারণ এভারেস্টের চূড়া ছিল সেখানে। কিন্তু এখন পরিস্থিতি ভিন্ন। এভারেস্ট চূড়া এতো কাছে, এতো আপন যে আমাদের চেয়ে আর মাত্র এক হাজার ফুট ওপরে রয়েছে। ফলে এটাকে আর স্বপ্ন বলে মনে হচ্ছে না। আকাশের সুউচ্চ কোনো স্বপ্ন বলে এটা ধরা দিচ্ছে না। মনে হচ্ছে যেন একটা বাস্তব ও কঠিন জিনিস- পাথর আর বরফের। এটা মানুষ আরোহণ করতে পারবে। তারা তৈরি হলেন। তৈরি হয়ে তেনজিং সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করলেন- তারা যেন এর শেষ পর্যন্ত আরোহণ করতে পারেন।

তিনি বলে গেছেন- এ সময় তিনি নিচে তাকালেন। পুরো বিশ্ব তখন তাদের নিচে। পশ্চিমে নুপসে, দক্ষিণে লোতসে, পূর্বে মাকালু- সব বড় বড় পর্বতচূড়া তখন তাদের নিচে অবস্থান করছিল। তেনজিংয়ের চোখের দৃষ্টি এতোই তীক্ষ্ণ ছিল যে তিনি সেখান থেকে যখন নিচে তাকালেন, তার বাড়ি- থ্যাংবোচে পার হয়ে সোলু খুম্বু এলাকার সব উপত্যকা আর গ্রাম, যেখানে তিনি জন্মেছেন এবং বড় হয়েছেন- তার নজরে এলো। তিনি এক ঝলকে প্রায় ১৬ হাজার ফুট নিচের থ্যাংবোচের বহু পুরাতন মনাস্ট্রিও দেখলেন। এ সময় তারা অক্সিজেন ট্যাঙ্ক বেধে নিয়ে চললেন চূড়ার দিকে। আরোহণ শুরু হলো। তেনজিংয়ের ভাষায়- "বহু মাইল পথ পাড়ি দিয়ে, বহু বছর পার করার পর আমি আজ এখানে।"

তিনি নিজেকে ভাগ্যবান মনে করেছিলেন। কারণ তার স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে, আর এটা এমন নয় যে সবসময় কোনো মানুষের কাছে এসে ধরা দেয়। তিনি সারাজীবন ধরে চেয়েছিলেন এই এভারেস্ট আরোহণ করতে। এটা ছিল তার সপ্তমবারের প্রচেষ্টা। তিনি বারবার ফিরে এসেছেন ঠিকই, কিন্তু চেষ্টা করে গেছেন- কোনো গৌরবের জন্য নয়, কোনো শক্তি দিয়ে নয়, কোনো শত্রুর সঙ্গে যুদ্ধ করার মতো নয়, কিন্তু তিনি ভালোবেসেই এভারেস্ট জয় করতে চেয়েছিলেন- শিশুরা যেমন মায়ের কোলে গিয়ে উঠে পড়ে। আর এবার তিনি সাফল্যের দেখা পেলেন। তার ভাষায়- তাকে সাফল্যমন্ডিত করা হলো। কিন্তু এর জন্য তিনি সবার কাছে কৃতজ্ঞ। শেরপাদের ভাষায় 'থুজি ছে'- অর্থাত তিনি বলেছেন 'আমি কৃতজ্ঞ'। হতেই হবে। যে দলে কিনা বাঘা বাঘা সব পর্বতারোহীরা ছিল। যে দলে কিনা প্রথম গ্রুপ ব্যর্থ হয়েছে, ২৭ হাজার ফুট উচ্চতা থেকে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন বর্ডিলন এবং ইভান্স- খারাপ আবহাওয়া এবং প্রচন্ড ঠান্ডার কারণে, ফলে দলনেতা কর্ণেল হান্টকে বাধ্য হয়েই দ্বিতীয় পছন্দ- হিলারি আর তেনজিংকে বেছে নিতে হয়েছিল। আর এর জন্যই তো তেনজিংয়ের জন্ম- এভাবেই তিনি নিজেকে চিত্রায়িত করেছেন তার বইয়ে। অসাধারণ। অসাধারণ তার বর্ণনা আর কাজটা তো বটেই।

বেলা ১২টা:
বাতাস তার কাজ শুরু করে দিয়েছে। মনে হচ্ছে যেন উড়িয়ে নিয়ে যাবে। এর মধ্যেই অ্যাডভান্সড বেস ক্যাম্পের বাকি কাজগুলো চলছে। বরফ ভাঙ্গা, কিচেনে নিয়ে গিয়ে পানি তৈরি করা, খাবার-দাবার রান্না করা, পর্বতারোহী আর শেরপাদের পিলপিল করে এবিসিতে আগমণ, ইয়াকের দলের ঢং ঢং ঘণ্টা বাজিয়ে মাল বয়ে আনা, কারো কারো নর্থ কোল যাত্রা এবং ফিরে আসা- এসবই তাঁবুর চেইন একটু খুলে দিয়ে তাঁবুর ভেতর বসে বসে দেখছিলাম। একটু পর খাওয়া-দাওয়ার ডাক পড়ল। ডায়নিং টেন্টে গিয়ে দুপুরের খাবার সারতেই ঘটল বিপত্তি। ঘটনা হলো- এ কয়দিন খাওয়া-দাওয়া ছিল বেশ উপভোগ্য। দলে ইউরোপীয় আর তাইওয়ানিজ পর্বতারোহীরা সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়ায় দুপুরে যদি ইউরোপীয় ধাঁচের খাবার রান্না হতো, তাহলে রাতে রান্না করা হতো চায়নিজ খাবার। প্রথম প্রথম বেশ আগ্রহ করে খেয়েছি এসব খাবার। কিন্তু দিন পাঁচেকের মধ্যেই যেন হাপ ধরে গেল। এসব খাবার আর ভালো লাগে না। তখন বহু পরিচিত ডাল-ভাতের জন্য মনটা আকুপাকু করে। কি করা যায়? বিষয়টি নিয়ে সোম বাহাদুরের সঙ্গে আলাপ হলো। ভোলাকে জানাতেই তিনি বললেন, ?আরে, এটা কোনো সমস্যাই নয়। আপনি কোনো দুশ্চিন্তা না করে কিচেন টেন্টে শেরপাদের সঙ্গে ভিড়ে যাবেন। তাদের জন্য প্রতি বেলাতেই ডাল-ভাত-সবজি সহ একটা প্রাণীজ আমিষের ব্যবস্থা থাকে। আপনার ভালো লাগবে নিশ্চয়ই।? তার কথায় মনে হলো যেন বেঁচে গেলাম সাহেবী খানার হাত থেকে।

এ সময় জানতে পারলাম সার্বিয়ার ডাক্তার ড্রাগুটিন, মন্টেনেগ্রোর জোকো, ব্লেকা ও স্ল্যাগি আগামীকাল নর্থ কোলে যাবেন এবং সেখানে এক রাত কাটিয়ে পরদিন ফিরবেন। সুতরাং মনে মনে একটা চাপ অনুভব করলাম- যেতে হবে, এগিয়ে যেতে হবে। এবিসি থেকে এভারেস্ট অনেকটা কাছে। কিন্তু ২১ হাজার ফুট উচ্চতা থেকে ২৯,০৩৫ ফুট উঁচু এভারেস্টকে দেখতে হলে ঘাড় উঁচিয়ে দেখতে হয়। ২৩ হাজার ফুট উচ্চাতার নর্থ কোল থেকে নিশ্চয় এতো ঝকমারি করে এভারেস্টকে দেখতে হবে না। সহজেই দেখা যাবে। মনে হয় যেন এখনই দৌড় দেই- ছোটবেলায় যেমন কাটাকাটির সময় ঘুড়ি লাটাইছাড়া হয়ে গেলে তাকে ধরতে ছোট্ট ছেলের দল হুট করে দৌড় লাগাতাম, তেমন করে। কিন্তু এটা তো নিয়ন্ত্রণহীন ঘুড়ি নয়, এভারেস্ট নিজেই সবাইকে নিয়ন্ত্রণ করে।

বিকাল ৩টা:
বাতাস তেমনি আছে। আকাশে প্রচন্ড রোদ। এমন সময় তাঁবুর ভেতর থাকলে মাথা ব্যথা করে গরমে। তাই মাথায় গামছা পেঁচিয়ে রাখি। এখন আর ঠান্ডায় কাবু হচ্ছি না তাঁবুর ভেতর- মূলত এই রোদের কারণে, এমন নয় যে এই ক'দিনে প্রচন্ড শক্তিশালী হয়ে উঠেছি ঠান্ডাকে ঠেকানোর জন্য। ঠাণ্ডা লাগলে গায়ে স্লিপিং ব্যাগ চাদরের মতো করে চাপিয়ে নেই, কিন্তু গরমে সেটাও প্রয়োজন হয় না। তবে এটা ঠিক- শরীরের ঠাণ্ডা সহ্য করার ক্ষমতা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি। কিন্তু কিছুক্ষণ পর রিজের ওপাশে সূর্য চলে যেতেই ঝুপ করে এবিসিতে ঠাণ্ডা নেমে এলো।

সন্ধ্যা ৬টা:
একটা দিন বেশ নিস্তরঙ্গ কেটে গেল। শুধুই চিন্তা হয়- যে কাজে এসেছি, তাতে সফল হবো তো? এখন পর্যন্ত তো সবকিছু ঠিকঠাকই আছে- ক্যাম্প ওয়ান স্ট্যাব্লিশ করা হয়ে গেছে। চায়না-তিব্বত মাউন্টেনিয়ারিং অ্যাসোসিয়েশনের শেরপারা রুট ওপেন করে চলেছেন। সবাই সুস্থ আছি। কারো কোনো শারীরিক সমস্যা নেই। শুধু আবহাওয়া মাঝেমধ্যে পাগলা ঘোড়ার মতো আচরণ করে। কিন্তু সেটাও সহ্যের মধ্যেই থাকছে। রাতে খেয়ে ঘুমিয়ে পড়তে পড়তে মনে মনে আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলাম।
« Day 14  Day 16 »
Welcome Message
Mountaineering Biography
Personal Biography
Photo Gallery
Video Gallery
Musa Ibrahim's official website (www.musaibrahim.com.bd) launched on December 03
DU authority conferred 'Blue' award to Musa Ibrahim
Musa Ibrahim accorded DU Alumni Association reception
Musa Ibrahim's photo exhibition titled 'Bangladesh on top of the Everest'
Institute of Education & Research (IER), University of Dhaka is conferring reception to Musa Ibrahim
Musa Ibrahim's photo exhibition titled 'Bangladesh on top of the Everest'
Home About Musa Gallery You can do it Press Release Blog Forum FAQ Contact