Facebook   Twitter   LinkedIn   Youtube   Wikipedia
Day 14
অ্যাডভান্সড বেস ক্যাম্পের সঙ্গে খাপ খেয়ে নেয়ার দিন
এপ্রিল ২১, ২০১০
১৪শ দিন

ভোর ৬টা:
এদিনও বেশ ভোরে, একই নিয়মে ঘুম ভাঙল। আর সকাল আটটার দিকে সোম বাহাদুর যখন জেগে উঠলেন, তার সঙ্গে ফের নতুন ঠাট্টা করি- আরে সোম জি, আপনাকে বেশ চেনা চেনা লাগছে! কোথায় যেন দেখেছি আপনাকে? শুনে তিনি হাসেন। বলেন- গুড গুড, সকাল বেলাতেই আবার ঠাট্টা।

তাকে আবার খোচা দেই- সোম জি, ওঠেন। উঠে দাঁত মেজে নেন। কারণ একটু পরই বেড-টি দিয়ে যাবে। তাকে খোচানোর উদ্দেশ্য হলো- দাঁতা মাজা না মাজা নিয়ে গত পরশুই তিনি এক বাণী দিয়েছেন। বেস ক্যাম্প বা অ্যাডভান্সড বেস ক্যাম্পে দাঁত মাজলে নাকি দাঁত পাতলা হয়ে যায়। কথাটা মনে হলেই হাসির দমক ঠেকানো দায় হয়ে পড়ে। বলি- সোম জি, আপনি কয়েকদিন পর হয়তো বলবেন যে বেস ক্যাম্প থেকে এভারেস্ট চূড়া পর্যন্ত ব্রিজ বানিয়ে দেয়া উচিত।

সকালে নাশতা সেরে নেয়া হলো। এদিন অবশ্য ডায়নিং টেন্টে গিয়ে নাশতা সেরেছি। মেন্যু আগের মতোই- শুরুতে চা বা হট চকোলেট ড্রিঙ্ক। পরে পরিজ দিলে তাতে মধু যোগ করে খেয়েছি। এরপর এবিসিতেই বানানো ব্রেড দিয়ে টোস্ট, ডিম, প্যানকেক ইত্যাদি দিয়ে বাকি নাশতা সারা হয়। এ সময় চলে প্রচুর চা কিংবা গরম পানি পান। উচ্চতার সমানুপাতিক তরল পানের তত্ত্ব বেশ মেনে চলছি এখনও- ৪ হাজার মিটার উচ্চতায় থাকলে দ্রুততম সময়ে ৪ লিটার পানি বা তরল, ৫ হাজার মিটার উচ্চতায় থাকলে ৫ লিটার পানি বা তরল তখনও পান করেছি দিনের বেলা।

সকাল ৯টা:
এদিন সকালে বেশ কাজের কাজ করা হলো। আইসবুট, ক্র্যাম্পন, হারনেস, ক্যারাবিনার, জুমার ইত্যাদি পরীক্ষা করে ঠিকঠাক করে নিলাম। কিন্তু এরপর তো আর কোনো কাজ নেই। তখন সেভেন সামিট গ্রুপের শেরপাদের কর্মকাণ্ড ফের পর্যবেক্ষণ করছি। তারা পর্বতারোহীদের তাঁবু স্থাপনের জন্য ফের জায়গা বানিয়ে নিচ্ছে। তাদের কাছ থেকে জানতে পারলাম- সেভেন সামিট গ্রুপের পর্বতারোহীরা আর দুয়েকদিনের মধ্যেই এবিসিতে এসে পৌঁছাবেন।

এরপর ফের ডুবে গেলাম তেনজিঙ নোরগের বইয়ে। জানতে পারলাম- তাঁর জন্মের কয়েকদিন পরেই নাকি জ্যোতিষিরা ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন তাঁকে নিয়ে যে- তিনি ভবিষ্যতে মনুষ্যজাতির জন্য বিশেষ একটা কাজ করবেন। কিন্তু নেপালের সোলুখুম্বু হিমালয়ের প্রায় চোদ্দ হাজার ফুট উচ্চতায় গড়ে ওঠা এক গ্রাম্য পরিবারে জন্ম নেয়া তেনজিং আসলে মনুষ্যজাতির জন্য বিশেষ কি করবেন- তা নিয়ে তাঁর বাবা-মা একটু দ্বিধাদ্বন্দ্বে ছিলেন। থাকলেও তেনজিংয়ের বিশেষ যত্ন নিতে ভোলেননি তারা। তেনজিং ছোটবেলায় বাড়ির ভেড়ার পাল চরাতেন। এই ভেড়ার উল দিয়ে তৈরি হতো তাদের গরম কাপড়। ঘরেই মা-বোনরা এসব তৈরি করতেন। এছাড়াও ইয়াক ছিল তাদের। এই ইয়াকের দুধ খেয়ে বড় হয়েছেন তিনি। আর ইয়াকের বাটার ছিল খাদ্যে অন্যতম স্নেহ-উতস। আর ইয়াকের চর্বি দিয়ে শীতের দিনে আগুন জ্বালিয়ে উষ্ণতার ব্যবস্থা করতে হতো তাদের।

তিনি ছোট থেকেই তার পাশেই মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা এভারেস্টকে পর্যবেক্ষণ করতেন। আর ছোট থেকেই তিনি বিশ্বকে নিজ চোখে দেখার একটা ইচ্ছা পোষণ করতেন। কিন্তু কিভাবে, সেটা তাঁর জানা ছিল না। তাই তার গ্রামের কয়েকজনকে যখন দেখলেন যে তারা দার্জিলিং থেকে ফিরে এসেছে, সেটাকেই তার গন্তব্য ধরে একদিন পালিয়ে গেলেন সেখানে। এ সময় তাঁর পরিবার ধরে নিয়েছিল যে তিনি হারিয়ে গেছেন। কিন্তু তাদেরকে অবাক করে দিয়ে একদিন ফিরেও আসেন। কিন্তু বিশ্বকে নিজ চোখে দেখার আগ্রহ তাকে ঘরে বসে থাকার ফুরসত দেয়নি কখনোই। এই পোকা তাঁকে তাড়িয়ে নিয়ে বেড়িয়েছে সারাক্ষণ। তাই ফের তিনি বাড়ি থেকে পালালেন। দার্জিলিংয়ে গিয়ে তিনি এবার উঠলেন টুনসুন বস্তিতে। সেখানে থেকে সহিসের কাজ নিলেন তিনি। সারাদিন ঘোড়ার ঘাস কাটতেন। আর বিকালে বাজারে মালিকের গরুর দুধ বিক্রি করতেন। এভাবেই চলছিল তাঁর জীবন। তখন দার্জিলিং থেকেই এভারেস্ট বা সিকিম হিমালয়, কুমায়ুন হিমালয়, গাড়োয়াল হিমালয় ইত্যাদি অংশে পর্বতে অভিযান পরিচালনা করা হতো। এখান থেকেই শেরপাদের বাছাই করা হতো। পোর্টার বা মালামাল পরিবহনের জন্য কুলিও বাছাই করা হতো এখান থেকেই। অভিযানের রসদ কেনাকাটা ইত্যাদি সবকিছুই ছিল তখন দার্জিলিংকেন্দ্রিক। কাজের ফাঁকে তিনি এ ধরনের আয়োজনের মাঝে গিয়ে হাজির হন- যদি কোনো দলের সঙ্গে যোগ দেয়ার কোনো সুযোগ এসে যায়!

তেনজিং নোরগের এই বই পড়ছি আর জানতে পারছি তাঁর সম্পর্কে। কিন্তু কৈলাস আর লাকপাকে দেয়া কথা তখন বেমালুম ভুলে বসে আছি।

বেলা ১২টা:
এর মধ্যেই তারা দু'জন এবিসি ফিরে এলেন। এসে দেখেন যে আমরা আগের মতোই তাঁবুর মধ্যে সময় কাটাচ্ছি। দেখে তারা- বিশেষ করে কৈলাস মাথা দু'দিকে নাড়িয়ে বুঝিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে যে তোমাকে দিয়ে কিচ্ছু হবে না। কিন্তু যতোক্ষণ পর্যন্ত না কোনো ব্যাখ্যা চাইছে, ততোক্ষণ পর্যন্ত আমিও তার সঙ্গে এ নিয়ে কোনো কথা বলি না। তবে তাকে আর লাকপাকে সাধুবাদ জানাতে ভুলি না নর্থ কোলে ক্যাম্প ওয়ান সেট করে আসার সাফল্যে। খেয়াল কের দেখলাম যে তাদের- বিশেষ করে কৈলাসের চোখ-মুখ বেশ ফুলে গেছে। একটু কালোও হয়ে গেছে। ফেরার পর তারা শুধু ক্রমাগত গরম পানি, চা ইত্যাদি পান করে চলেছেন। আসলে এটা ছিল উচ্চতাজনিত চাপের তারতম্যে শারীরিক সাযুজ্যতা।

আমার আলস্যের আরেকটা কারণও ছিল। কারণটা হলো- সোম বাহাদুর নিজে থেকে নর্থ কোলের ক্যাম্প ওয়ানে যাওয়ার কোনো তাড়া দেন না। তিনি মিড ক্যাম্প থেকে এবিসিতে আসার সময় সেই যে পেটের অসুখে পড়েছিলেন, তা সারতে গতকাল পর্যন্ত সময় লেগে গেছে। সুতরাং স্বাভাবিকভাবেই তিনি একটু কাবু। ফলে তিনি শারীরিকভাবে কাহিল। তিনি শরীরের পুরো শক্তি ফিরে পেতে যে সময় নিচ্ছেন, সেই সুযোগটা নিচ্ছি আমি। আমিও এই আলস্যভরা সময়টা বই পড়ে বেশ কাটিয়ে দিচ্ছি। আর শারীরিকভাবে আমিও এবিসির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিচ্ছি ধীরে ধীরে।

দুপুরের খাবার খেয়ে নিলাম এর মধ্যেই।

বিকাল ৩টা:
এ সময়ে হঠাত করেই জোর হাওয়া বয়ে যাওয়া শুরু হয়। বাতাসের পাগলামি তখন দেখার মতো। আর রংবুক গ্লেসিয়ার পাড়ি দিয়ে আসার ফলে বাতাস বেশ ঠাণ্ডা। তখন ঠাণ্ডা থেকে বাঁচতে ফের হয় তাঁবুর মধ্যে গিয়ে সেধিয়ে পড়ি, নয়তো গায়ে ডাউন জ্যাকেট, হাতে গ্লভস, মাথায় ক্যাপ ইত্যাদি চাপিয়ে নেই।

পানি বা চা পান চলতে থাকে পা।লণা দিয়ে। আর এ সময়ে কৈলাস আর লাকপা গিয়ে তাঁবুতে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে।

সন্ধ্যা ৬টা:
তারা সন্ধ্যার ঠিক আগ দিয়ে ঘুম থেকে উঠে পড়ল। এরপর সবাই ঠাণ্ডা থেকে বাঁচতে ডায়নিং টেন্টে রাখা গ্যাস-হিটারে ওম পাওয়ার চেষ্টা করছি। কিন্তু তাতে কি আর রংবুক গ্লেসিয়ারের ওপর দিয়ে বয়ে চলা বাতাসের ঠাণ্ডা মানে? মানে না। আর গ্যাস-হিটার থেকে যারা দূরে বসে, তাদের শরীরকে গরম রাখতে বেশ কসরত করতে হচ্ছে। এর মধ্য দিয়েই এগিয়ে চলে রাতের খাবার-দাবারের পর্ব। রাতের খাওয়া শেষ হলে তাঁবুতে ফিরে ঘুমিয়ে পড়ি আমি আর সোম বাহাদুর।

আজকে রাতে মনে হলো যেন একটু আরাম পেলাম। রাতে একবার উঠেছি পানি পানের জন্য। কিন্তু মাথা ব্যথা আর করলো না।
« Day 13  Day 15 »
Welcome Message
Mountaineering Biography
Personal Biography
Photo Gallery
Video Gallery
Musa Ibrahim's official website (www.musaibrahim.com.bd) launched on December 03
DU authority conferred 'Blue' award to Musa Ibrahim
Musa Ibrahim accorded DU Alumni Association reception
Musa Ibrahim's photo exhibition titled 'Bangladesh on top of the Everest'
Institute of Education & Research (IER), University of Dhaka is conferring reception to Musa Ibrahim
Musa Ibrahim's photo exhibition titled 'Bangladesh on top of the Everest'
Home About Musa Gallery You can do it Press Release Blog Forum FAQ Contact