Facebook   Twitter   LinkedIn   Youtube   Wikipedia
Day 12
আলস্যে এবিসি'র প্রথম দিন
এপ্রিল ১৯, ২০১০
১২শ দিন

ভোর ৬টা:
এদিন অনেক তাড়াতাড়ি ঘুম ভেঙেছে ঠিকই। কিন্তু শরীরকে কোনো কথা শোনাতে পারছি না। বারবারই মনে হচ্ছে তাঁবু থেকে বের হওয়া দরকার। কিন্তু শরীর যেন অচল হয়ে আছে। আসলে গতদিন দীর্ঘ সময় ধরে রংবুক গ্লেসিয়ার আর ডায়নামিক মোরেইনের ওপর দিয়ে হাঁটা এবং ঠাণ্ডায় কাবু হয়ে যাওয়ায় শরীর এখন একটু বিশ্রাম চাইছে। সেই সঙ্গে রয়েছে অক্সিজেন স্বল্পতা। ফলে স্বাভাবিক চিন্তা করা যেমন যাচ্ছে না, তেমনি যেকোনো কাজেই আলসি লাগছে। সোম বাহাদুরকেও দেখলাম পড়ে থেকে ঘুমাচ্ছেন।

সকাল আটটার দিকে কিচেন স্টাফ এসে যখন ডাকাডাকি শুরু করল, সে সময় আর শুয়ে থাকা গেল না। তাঁবু থেকে বের হয়ে পড়লাম। তার আগে সোম বাহাদুরকে ডেকে তুলে জিজ্ঞেস করলাম তার এখন কি অবস্থা। তিনি জানালেন, ভালোই আছেন। পরিচ্ছন্ন হয়ে ডাইনিং টেন্টে গিয়ে সকালের নাশতা সারলাম ডিম, টোস্ট, চা, হট চকলেট, মধু ইত্যাদি দিয়ে।

এরপর তাঁবু থেকে বের হয়ে এবিসিতে লোকজনের কর্মকান্ড দেখছি। এমন সময় একজন এভারেস্ট দেখিয়ে দিলেন। বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতকে এখন ঘাড় উঁচিয়ে দেখতে হয়। কিন্তু পূর্ণ অবয়ব এখান থেকে দেখা মুশকিল। চূড়ার মুকুটটুকুই কোনোমতে দৃশ্যমান। ক্যাম্প টু?র পরে যে পর্বতের রিজ রয়েছে, সেটাই আড়াল করে রেখেছে পূর্ণ শক্তির এভারেস্টকে।

সকাল দশটার দিকে সোম বাহাদুর জানালেন এদিন ?গো হাই, স্লিপ লো? নিয়ম মানতে সবাই চলেছেন রংবুক গ্লেসিয়ারের ওপর ক্র্যাম্পন পয়েন্টের দিকে। এবিসি থেকে নর্থ কোলে অবস্থিত ক্যাম্প ওয়ানে যাওয়ার সময় বরফের ওপর দিয়ে হাঁটার আগে রংবুক গ্লেসিয়ারের যে জায়গায় আইসবুটে ক্র্যাম্পন লাগাতে হয়, সেটাই ক্র্যাম্পন পয়েন্ট। এই পয়েন্ট এবিসি থেকে প্রায় পাঁচশ ফুট উঁচু। আজ এ পর্যন্ত গিয়ে ফিরে এলে শরীর উচ্চতার সঙ্গে অনেকটাই খাপ খেয়ে যাবে।

এর মধ্যে সোম বাহাদুরের পেটের চিকিতসাও করেছি। বাংলাদেশ থেকে নিয়ে যাওয়া একটা ঔষধ তাকে খাইয়ে দিতেই ঘণ্টাখানেকের মধ্যে তার পেটের সমস্যা সেরে গেল।

কিন্তু সেই নাজুক শরীরেই চললাম ক্র্যাম্পন পয়েন্টের দিকে। এদিন সর্বোচ্চ দশ পা এগোই আর ন্যূনতম মিনিটখানেক জিরিয়ে নেই। এভাবে প্রায় ঘণ্টা দু?য়েক (পরে এ দূরত্ব পার হয়েছিলাম মাত্র আধঘন্টায়) হেঁটে পৌছলাম ক্র্যাম্পন পয়েন্টে। মিড ক্যাম্প থেকে রংবুক গ্লেসিয়ারের মূল বরফকে একপাশে রেখে এবিসিতে এসে পৌঁছতে হয়। এবিসি থেকে ক্র্যাম্পন পয়েন্টে যাওয়ার সময়ও বাম দিকে থাকে গ্লেসিয়ার। কিন্তু ক্র্যাম্পন পয়েন্টে যাওয়ার পর মনে হলো যেন গ্লেসিয়ারের একেবারে সমতলে এসে হাজির হলাম সবাই। এখানে বরফের ওপর বসে পানি, চকলেট, বিস্কুট ইত্যাদি খেয়ে শরীরে শক্তি যোগানোর চেষ্টা করলাম।

ট্রেকিং জুতা পরেই গ্লেসিয়ারের ওপর ট্রেইল ধরে ক্যাম্প ওয়ানের দিকে এগিয়ে গেলাম। বেশ কয়েকবার পা পিছলে গেল। কিন্তু সময়মতো ভারসাম্য রক্ষা করে চলায় কোনো বিপদ হলো না। আধ ঘণ্টা পর নামা শুরু হলো এবিসি?র দিকে। তখন মনে হলো এর চেয়ে ভালো কাজ যেন আর নেই। নামাটা মনে হচ্ছিল যেন সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত এক বস্তু। একটার মধ্যে এবিসিতে ফিরে দুপুরের খাবার খেয়ে দিলাম এক ঘুম রাতে ঘুমের সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা নিয়েই। শরীর চাইছে বিশ্রাম। সেই চাহিদা মেটাতেই এই দুপুরবেলা ঘুম। বাকি সময়টুকু কেটে গেল বেশ নিস্তরঙ্গ। রাতে ঘুম না হওয়ার ভয় থাকলেও ঘুমিয়ে পড়লাম দ্রুতই। এই রাতই ছিল শেষ রাত যখন সর্বশেষ মাথা ব্যথা অনুভব করেছিলাম। এর পরে আর কখনও মাথা ব্যথা করেনি। অর্থাত উচ্চতার সঙ্গে শরীর খাপ খেয়ে নিয়েছে। এটাকে একটা ভালো লক্ষণ হিসাবেই ধরে নিলাম।
« Day 11  Day 13 »
Welcome Message
Mountaineering Biography
Personal Biography
Photo Gallery
Video Gallery
Musa Ibrahim's official website (www.musaibrahim.com.bd) launched on December 03
DU authority conferred 'Blue' award to Musa Ibrahim
Musa Ibrahim accorded DU Alumni Association reception
Musa Ibrahim's photo exhibition titled 'Bangladesh on top of the Everest'
Institute of Education & Research (IER), University of Dhaka is conferring reception to Musa Ibrahim
Musa Ibrahim's photo exhibition titled 'Bangladesh on top of the Everest'
Home About Musa Gallery You can do it Press Release Blog Forum FAQ Contact