Facebook   Twitter   LinkedIn   Youtube   Wikipedia
Day 11
ঝড়ঝঞ্ঝার মধ্যে এবিসি
এপ্রিল ১৮, ২০১০
১১শ দিন

ভোর ৬টা:
এদিন শুরু হলো এ যাত্রায় সবচেয়ে লম্বা ট্রেকিং। রংবুক গ্লেসিয়ারের ওপরেই গড়ে তোলা হয়েছে মিড ক্যাম্প। আর এই গ্লেসিয়ার ধরেই ডায়নামিক মোরেইনের ওপর দিয়ে ট্রেইল চলে গেছে এবিসি পর্যন্ত। এদিন শুধুই মোরোইনের ওপর দিয়ে উচ্চতা পেরোনোর পালা। সকাল সাতটায় শুরু করে তাই দল বেধে একের পর এক ভাজ পার হচ্ছি। কিন্তু এভারেস্টের দেখা নেই। ট্রেইল একেবারে সোজা বহুদূর চলে গিয়ে একবার বাম দিকে মোড় নিয়েছে। এরপর ফের বাম দিকে রংবুক গ্লেসিয়ার আর ডান দিকে সুউচ্চ পর্বতের রিজকে রেখে ট্রেইল চলছি। কিন্তু হাঁটার গতি অনেক ধীর। আমি একবার থামি তো সোম বাহাদুর আরেকবার। ফলে দুপুর গড়িয়ে কখন যে বিকাল হয়ে গেছে তার টের পেলাম না। মাঝে শুধু একবার দুপুরের খাবার জুস, বিস্কুট, চকলেট, টোস্ট আর ডিম দিয়ে। সেটা ছিল নির্ধারিত। কিন্তু কতো যে অনির্ধারিত বিরতি করেছি তার কোনো ঠিকঠিকানা নেই।

ফলে বিকাল গড়িয়ে যাচ্ছে, তারপরও এবিসি?র দেখা নেই। এ সময় আকাশে ইয়েলো-বিলড্ চাফ দেখা গেল একপাল। দেখেই বুঝলাম যে এবিসি আর খুব বেশি দূরে নয়। কিন্তু একের পর এক ট্রেইলের মার্কিং (যদিও তা নিজের মতো তৈরি করে নেয়া। যেমন, ওই পাথরটা পার হলে এবিসি আরও খানিকটা কাছে চলে আসবে। এর পরের আইস পিকটা পার হলে এবিসি তেমন একটা দূরে থাকবে না) পার হচ্ছি, কিন্তু এবিসি তো আর আসে না। এমন সময় আলো পড়ে এল। বহু আগেই সূর্য পর্বতের রিজের ওপাশে চলে গেছে। কিন্তু একেবারেই যখন অন্ধকার হয়ে এল, তখন মনে ভয় ঢুকল। এবিসিতে পৌঁছাতে পারবো তো?

এর মধ্যেই সোম বাহাদুরের পেট নেমে গেছে। সুতরাং অনির্ধারিত বিরতির পরিমাণ বেড়েই চলল প্রতিনিয়ত। অন্ধকার হওয়ার পরই শুরু হয়েছে তীব্র বাতাস। একটু পর বাতাসের সঙ্গে বয়ে এল মেঘ। তার পর তুষারপাত। সবমিলিয়ে ঠাণ্ডা একেবারে চামড়া ভেদ করে শরীরে ঢুকে যাচ্ছে। ফলে কাঁপছি হি হি করে। এর ওপর হোয়াইট আউটের কারণে সামনে আর কিছুই দেখা যাচ্ছে না। যেন পরিস্থিতি হঠাত করেই উল্টে গেছে। হারিয়ে দিতে চাইছে সবকিছু। এর মধ্যেই একটা জায়গা পেলাম যেখানে মনে হল যেন আগের মৌসুমে তাঁবু টানানো হয়েছিল। তখন মনে একটু সাহস এলো।

সোম বাহাদুর যেন হাঁটার শক্তি হারিয়ে ফেলেছেন। বুঝলাম ঠান্ডা তাকে কাবু করে ফেলেছে। তাকে বললাম- সোম জি, আপনার ব্যাগপ্যাক আমি নিচ্ছি, আপনি একটু দ্রুত হাঁটার চেষ্টা করুন। কিন্তু সোম তার ব্যাগ দিতে নারাজ। যদিও এ সময় তিনি হাঁটছেন না, যেন হামাগুড়ি দিয়ে এগিয়ে চলেছেন। এমন সময় হঠাত ভোজবাজির মতো হাজির হলেন লাকপা। আমাদের দেরি দেখে তিনি হট লেমন জুস নিয়ে এগিয়ে এসেছেন।

লাকপাকে দেখে যেন গায়ে এক অজানা শক্তি চলে এল। দ্রুতই পা চালিয়ে মাত্র দশ মিনিটে পৌঁছে গেলাম ক্যাম্প সাইটে। অর্থাত মিড ক্যাম্প থেকে এবিসি পৌঁছতে এদিন প্রায় বার ঘণ্টা সময় লাগল (যদিও পরের দিকে সময় লেগেছিল মাত্র পাঁচ ঘণ্টা)। এর মধ্যেই ঠান্ডায় হাত যেন জমে গেছে। হাতের চামড়া ফুলে উঠেছে। আমাকে বসানো হলো কিচেন টেন্টের চুলার পাশে। আর লাকপা সোম বাহাদুরকে তাঁবুতে স্লিপিং ব্যাগের ভেতর ঢুকিয়ে দিলেন। সোম জানিয়ে দিয়েছেন তিনি আর রাতে খাওয়া-দাওয়া করবেন না। তাই তাকে প্রচুর হট লেমন জুস খাওয়ানো হলো। এরপর শ্রান্ত দেহে স্লিপিং ব্যাগে ঢুকতেই ঘুমিয়ে পড়লেন তিনি।

কোনো মতে রাতের খাওয়া সেরে আমিও ছুট লাগালাম তাঁবুর উদ্দেশ্যে। স্লিপিং ব্যাগ খুলে তার ভেতর ঢুকেছি ঠিকই। কিন্তু ঠান্ডা মানছে না। স্লিপিং ব্যাগের ডাউন ফেদার ভেদ করে শরীরে পৌঁছে যাচ্ছে। এ সময় হেডল্যাম্পের আলোয় পরীক্ষা করে দেখলাম যে তাঁবুর কোথাও খোলা আছে কি না। কিন্তু তেমন কিছু চোখে পড়ল না। আর এমন ঠান্ডা লাগার কোনো কারণও খুঁজে পাচ্ছি না। এক পর্যায়ে ঠান্ডা যখন একেবারে অসহ্য হয়ে পড়ল, লাকপাকে চিতকার করে ডাকা শুরু করলাম। তাঁবুতে ঢোকার আগেই দেখেছিলাম যে পাশের তাঁবুতেই লাকপা আর কৈলাসের রাত কাটানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিন্তু চিতকার করে ডাকলেও তার কোনো সাড়া নেই।

অনেকক্ষণ পর সে হন্তদন্ত হয়ে এল। শেরপা ভাষায় জিজ্ঞেস করল- কি হয়েছে? যদিও তার কথার ক-বর্ণও বুঝলাম না, তাকে বলতে লাগলাম আমার ঠান্ডা ঠেকানোর কাপড়চোপড় লাগবে। বড় ব্যাগে সেই কাপড় রয়েছে। সেগুলো এনে দাও। লাকপা আমার ভাষা বোঝে নি এটা নিশ্চিত। কিন্তু ঠান্ডায় হি হি করে কাঁপতে দেখে সব গরম কাপড় এনে হাজির করল। সেগুলো পরার পর যেন ঠান্ডা থেকে মুক্তি পেলাম। এবার স্বস্তিতে ঘুমাতে গেলাম।

এ রাতে এগারটার দিকে গরমে ঘেমে অস্থির হয়ে ঘুম থেকে উঠে পড়লাম। ঘেমে পানির তেষ্টায় যেন বুকের ছাতি ফেটে যাচ্ছে। অতিরিক্ত গরম কাপড় গায়ে চড়ানোর ফল। এ অবস্থায় হাসি পেল। ঠান্ডায় সন্ধ্যাবেলা কি না করেছি। আর এখন? এরপর এক এক করে অতিরিক্ত কাপড় গা থেকে খোলা শুরু হলো। স্বস্তিদায়ক পর্যায়ে পৌঁছতেই পানি খেয়ে ফের ঘুমানোর আয়োজন করলাম।

ঘুমিয়ে পড়েছি ঠিকই। এবার রাত তিনটার দিকে ঘুম ভাঙল মাথা ব্যথায়। সেই আগের মতোই একটা সরলরেখা বরাবর ব্যথা। আবার পানি খেয়ে বসে আছি যে কখন এর উপশম হবে। ব্যথা সামান্য কমতেই গড়াগড়ি শুরু করলাম। এবার ঘুম ভাঙল একেবারে ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে।
« Day 10  Day 12 »
Welcome Message
Mountaineering Biography
Personal Biography
Photo Gallery
Video Gallery
Musa Ibrahim's official website (www.musaibrahim.com.bd) launched on December 03
DU authority conferred 'Blue' award to Musa Ibrahim
Musa Ibrahim accorded DU Alumni Association reception
Musa Ibrahim's photo exhibition titled 'Bangladesh on top of the Everest'
Institute of Education & Research (IER), University of Dhaka is conferring reception to Musa Ibrahim
Musa Ibrahim's photo exhibition titled 'Bangladesh on top of the Everest'
Home About Musa Gallery You can do it Press Release Blog Forum FAQ Contact