Facebook   Twitter   LinkedIn   Youtube   Wikipedia
Day 10
এগিয়ে যাওয়ার পালা: পরিশ্রান্ত দেহে মিড ক্যাম্প
এপ্রিল ১৭, ২০১০
১০ম দিন

ভোর ৬টা:
এদিন এবিসি?র উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিব- এমনটাই জানানো হয়েছিল আগেরদিন। সুতরাং আগের রাতেই ব্যাগ মোটামুটি গুছিয়ে রেখেছি। অন্যান্য দিন সকাল সাতটা বা সাড়ে সাতটার দিকে তাঁবু থেকে বের হতাম। কিন্তু এদিন ভোর ছ?টা বাজতেই তাঁবু ছাড়তে হলো। প্রাতরাশ সেরে সাতটার মধ্যেই সোম বাহাদুর আর আমি রওয়ানা হলাম এবিসি?র (উচ্চতা ২১ হাজার ফুট) উদ্দেশ্যে। অবশ্য এদিন পথিমধ্যে মিড ক্যাম্পে (উচ্চতা ১৯ হাজার ফুট) রাত কাটিয়ে তবেই পরদিন এবিসি যাবো সবাই। মিড ক্যাম্পের দিকে প্রথমেই একটা ক্রমেই ওপরের দিকে উঠে যাওয়া প্রায় সমতল ট্রেইল পার হয়ে এলাম ঘণ্টা দেড়েকের মধ্যে। এই সমতল পার হওয়ার সময় বাম দিকে থাকল পার্মাফ্রস্ট হয়ে যাওয়া একটা পর্বতের রিজ আর ডান দিকে গ্লেসিয়ার গলা স্বচ্ছ নীল পানির হ্রদ এবং ডায়নামিক মোরেইন।

ট্রেক করতে করতেই মনে পড়ছিল যে এভারেস্ট অভিযান আয়োজনের জন্য একদিন নর্থ আলপাইন ক্লাব বাংলাদেশ-এনএসিবিতে সভা ডাকা হয়েছিল। সেখানে বিশদ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করার পর সবাইকে জানালাম- নেপালের সাউথ ফেস দিয়ে এভারেস্ট অভিযানে নামা অপেক্ষাকৃত নিরাপদ। তিব্বতের নর্থ ফেস দিয়ে গেলে শরীর উচ্চতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে সমস্যা হয়। এছাড়াও প্রায় ১০০ কিলোমিটার বেগে বয়ে যাওয়া প্রচন্ড বাতাস, তুষারঝড় ইত্যাদি বাঁধা তো আছেই। তবে তিব্বত দিক থেকে এভারেস্ট অভিযানে খরচ কম। সভায় ঠিক হয়েছিল যে প্রাথমিকভাবে দশ জনের একটা দল গঠন করা হবে। এই দল থেকে পর্বতারোহী গ্রুপ চূড়ান্ত লক্ষ্য অর্জনের জন্য এগিয়ে যাবে। আরেকটি গ্রুপ সামলাবে বেস ক্যাম্প। সবাইকে জানিয়েছিলাম- ১৯৫৩ সালে প্রথম যেবার এভারেস্ট অভিযানে সফল হলেন পর্বতারোহীরা, এডমুন্ড হিলারী ও তেনজিং নরগেরা, তখন কিন্তু এভাবেই এভারেস্ট অভিযান পরিচালনা করা হয়েছিল। পুরো অভিযানে ছিল দু?টো দল- এক দল পর্বতারোহণে সফল না হলে আরেক দলকে পাঠানোর চিন্তা ছিল অভিযানের নেতা জন হান্টের। আর হিলারী ও তেনজিং ছিলেন তার দ্বিতীয় পছন্দ। প্রথম পছন্দের দল একেবারে কাছে গিয়ে ফেরত আসায় হিলারী-তেনজিংকে পাঠিয়েছিলেন এভারেস্ট জয় করতে। আর আরেক দল বেস ক্যাম্পে বসে আরোহণকারী দলের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে পুরো অভিযানে সামঞ্জস্য রেখেছে। আরও জানিয়েছিলাম- আমাদের দেশ থেকে যেহেতু এভারেস্ট অভিযান এই প্রথম আয়োজন করা হচ্ছে, কাজেই যদি আমরা সাফল্য চাই, তাহলে সর্বশক্তি নিয়ে এ অভিযানে নামা উচিত। আর কারা চূড়ান্ত অভিযানে থাকতে পারবে- এটা নির্দিষ্ট করতে সবাইকে একাট্টা হয়ে অনুশীলন এবং অভিযান আয়োজন করার সঙ্গে থাকার অনুরোধ করলাম। এসব বিবেচনায় এনে দেখা গেল পুরো অভিযানে খরচ হবে তিন কোটি টাকা। আকাশচুম্বী এ খরচের কথা শুনে সবাই বাকরুদ্ধ। অনেকে বলেন- সরকারি সহযোগিতা ছাড়া এটা অসম্ভব। কিন্তু আমি হাল ছাড়ি না। বলি- চেষ্টা করে দেখি। সরকারি বা বেসরকারি- যেকোনো সহযোগিতা পেলেই এটা করা সম্ভব। আর সহযোগিতা না পেলে তখন বিকল্প পরিকল্পনা নিয়ে এগোনো যাবে। কিন্তু তার আগ পর্যন্ত আশায় বুক বাঁধতে ক্ষতি কি? সে অনুযায়ী প্রাথমিকভাবে দল গঠন করার জন্য রমনা পার্কে প্রায় প্রতিদিন সকালে প্রস্তুতি নেওয়া শুরু হলো। এ সময় সুপ্রাভাতি সংঘের সভাপতি মোহাম্মদ সেলিমের তত্ত্বাবধানে এ সংগঠনের সকল সদস্য শারীরিক প্রস্তুতি নেয়ার ক্ষেত্রে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। এ সময়ে আগের মতোই প্রতিদিন দু?তিনটা করে প্রতিষ্ঠানের কাছে গিয়ে এনএসিবি?র পরবর্তী অভিযানই যে এভারেস্ট অভিযান, এ কথা জানাতে শুরু করেছিলাম। কেউ তখনই না করে দিয়েছিলেন। আবার কেউ আশ্বাস দিয়ে বিষয়টা ঝুলিয়ে রাখেন। কিন্তু চূড়ান্তভাবে সহযোগিতা করার কথা কেউই মুখ ফুটে বলেন না। কিন্তু এসবে দমে যাই নি। বরং নিজেকে বুঝিয়েছিলাম যে কেউ না কেউ তো অবশ্যই সহযোগিতা করবে। শুধু সেই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে খুঁজে বের করতে হবে।

কিন্তু বাস্তবতা হলো যে খুব কম প্রতিষ্ঠানই সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল। এবং আমি এভারেস্ট অভিযানে এসেছি তিব্বত রুট দিয়ে। বিখ্যাত নর্থ ফেস দিয়ে। নর্থ আলপাইন ক্লাব বাংলাদেশের নাম রাখা হয়েছিল এই নর্থ ফেসের জনপ্রিয়তার কারণেই। আর যদিও প্রাথমিকভাবে সাউথ ফেস দিয়ে এভারেস্ট অভিযান করার কথা ভেবেছি, তারপরও সব সমীকরণ শেষে সেই নর্থ ফেস ধরেই যাচ্ছি অভিযানে।

সকাল ৯টা:
ট্রেকিংয়ের শুরুতে একটু বুকে ব্যথা করছিল। বুঝতে পারলাম যে বহুদিন এ ধরনের পার্বত্য ট্রেইলে কোনো ট্রেকিং না করার ফল এটা। হয়তো আগামীতে এটা সেরে যাবে। এই সমতল পার হয়ে যাওয়ার পর যখন পর্বতের গা বেয়ে ওঠা শুরু হলো, তখন বুকের ব্যথা কিছুটা বেড়ে গেল। তবে প্রথম ঢালটা প্রায় ঘণ্টাখানেকের মধ্যে পার হয়ে যাওয়ার পর সব ঠিক হয়ে এল।

বেলা ১২টা:
এ পর্যায়ে এভারেস্টের লো লা ফেস চোখে পড়ে। এই ফেস দিয়েই জর্জ লেই ম্যালরি ১৯২২ সালে সর্বপ্রথম এভারেস্ট অভিযান পরিচালনা করার পর আরও কয়েকটি দলও এ রুটে এভারেস্টকে জয় করার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু রুটের ভয়াবহতার কারণে এ রুট তারা পরিত্যাগ করেছিলেন। পরে নর্থ ফেস দিয়ে এভারেস্টের দিকে অভিযান পরিচালনা শুরু হয়।

ট্রেক করতে করতে এক সময় এভারেস্ট চোখের সামনে থেকে হারিয়ে গেল।

বিকাল ৩টা:
এদিন নদীর খাড়া পাড়, পর্বতের ঢালু গা ধরে ডায়নামিক মোরেইনের উঁচু-নিচু ট্রেইলের ওপর দিয়ে ট্রেকিং করতে গিয়ে একেবারে পরিশ্রান্ত হয়ে গেলাম। ফলে যখন মিড ক্যাম্প চোখের একেবারে সামনে উদয় হলো, সেখান থেকেও মিড ক্যাম্পে পৌঁছতে সময় লাগল প্রায় পঁয়তাল্লিশ মিনিট। ঘড়িতে দেখি তখন বেলা চারটা। অর্থাত ন?ঘণ্টায় সবাই গিয়ে পৌঁছলাম মিড ক্যাম্পে (পরে এ সময় পাঁচ ঘণ্টায় নেমে এসেছিল)। দুপুরে প্যাক লাঞ্চ হিসাবে খেয়েছি জুস, বিস্কুট, টোস্ট আর ডিম। সঙ্গে ফ্লাস্কে ছিল এক লিটার পানি। কিন্তু মিড ক্যাম্পে পৌঁছানোর পরই সন্ধ্যার আগ দিয়ে রাতের খাবার দিয়ে দেয়া হলো। খেয়ে সন্ধ্যা হতেই ঘুম।
« Day 9  Day 11 »
Welcome Message
Mountaineering Biography
Personal Biography
Photo Gallery
Video Gallery
Musa Ibrahim's official website (www.musaibrahim.com.bd) launched on December 03
DU authority conferred 'Blue' award to Musa Ibrahim
Musa Ibrahim accorded DU Alumni Association reception
Musa Ibrahim's photo exhibition titled 'Bangladesh on top of the Everest'
Institute of Education & Research (IER), University of Dhaka is conferring reception to Musa Ibrahim
Musa Ibrahim's photo exhibition titled 'Bangladesh on top of the Everest'
Home About Musa Gallery You can do it Press Release Blog Forum FAQ Contact