Facebook   Twitter   LinkedIn   Youtube   Wikipedia
16 Apr 2015
সেই বর্ষবরণ, এই বর্ষবরণ
সময়টা ছিল ৩১শে ডিসেম্বর, সিডনি'র অপেরা হাউস, অস্ট্রেলিয়া - আমরা বেশ কয়েকজন ইংরেজি নতুন বর্ষবরণ করতে সেদিন সকাল ১১টার মধ্যেই হাজির। সমুদ্রের পাশে গনগনে রোদের নিচে যে যার মতো বসে গেছি - মাঝেমধ্যে খাবারদাবার, পানিপান আর টয়লেটের জন্য জায়গা ছেড়ে ওঠা। নয়তো সবাই যে যার মতো করে সেই বিশেষ ক্ষণের জন্য অপেক্ষায়।

অপেরা হাউসের চারপাশে লাখো মানুষ হয় বই পড়ে, গান গেয়ে, গল্পগুজব করে সময় পার করছে। কিন্তু কারো মধ্যে কোনো তাড়াহুড়ো নেই, হুড়োহুড়ি নেই, কারো প্রতি কোনো ক্ষোভ নেই - কিন্তু আছে মুখে হাসি, কারো মুখোমুখি হলেই হাসি।এতো বিশাল মানুষের বহরকে সামলাতে ছিল পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দল, খাবারের দোকান, পানির সুব্যবস্থা, টয়লেটসহ সবকিছু। কাউকে কোনো অভিযোগ করতে শুনিনি।

বরং অপেরা হাউস এবং ডারলিং হারবর ব্রিজের চারদিককে ঘিরে মাঝেমধ্যেই জাহাজ থেকে জলকামান দাগানো, আকাশে ক্ষুদে উড়োজাহাজের কসরৎ, সন্ধ্যা নাগাদ অপেরা হাউজ ও ডারলিং হারবর ব্রিজে আলোর বিচ্ছুরণ এবং আতশবাজি - এসবকে ঘিরে দর্শনার্থীদের মধ্যে বিস্ময়ের আওয়াজে চারদিক ভেসে যাচ্ছিল।

তারপর সেই মাহেন্দ্রক্ষণ - সময় গণনা হলো শুরু - দশ, নয়, আট, সাত, ছয়, পাঁচ, চার, তিন, দুই, এক - চারদিক আতশবাজিতে দিনের আলোর মতো উজ্জ্বল হলো, চারদিক মাতিয়ে বেজে উঠল ফারেল উইলিয়ামসের 'হ্যাপি' গানটি।

বাবা-মা তাদের ছেলেমেয়েদের নিয়ে উল্লাস করলেন, প্রেমিক-প্রেমিকা একে অপরকে ভালোবাসায় জড়াজড়ি করলেন, বন্ধুবান্ধবরা চিৎকারে চারদিক মাতিয়ে তুললেন - সবমিলিয়ে কয়েক মিনিট স্থায়ী হলো সেই উল্লাস, উদ্দীপনা, উৎসাহ - নতুন বর্ষবরণ। সবাই আপ্লুত এমন আয়োজনে।

এবার বাড়ি ফেরার পালা। নিরানব্বই ভাগ মানুষের মাধ্যম হয় বাস, নয়তো ট্রেন। সবাই হেঁটে হেঁটে নিকটবর্তী বাস বা ট্রেন স্টেশনে পিলপিল করে এগিয়ে চলেছেন গন্তব্যে পৌঁছার জন্য। কারো মধ্যে কোনো হতাশা নেই। থাকলেও তার কোনো বাহ্যিক নোংরা প্রকাশ নেই। আর কাউকে ছোটো করার কোনো মনমানসিকতার তো কোনো প্রশ্নই আসে না।এই বর্ষবরণ উৎসবকে কেন্দ্র করে বিশ্বের বহু দেশ থেকে দর্শনার্থীরা এসেছেন - সেই সমাগমেই পরিচয় হয়েছিল তাদের সঙ্গে। সবাই খুশি মনে বাড়ি ফিরেছেন সেদিন। সারাদিন ধরেই সেসব ঘটনা লাইভ দেখানো হচ্ছিল টিভি'র পর্দায়।

কিন্তু বাংলা নববর্ষবরণ ১৪২২ উৎসবে আমরা দেখলাম, দেখালাম আমাদের কদর্য ও জংলি চেহারা, আমরা কতোটা নিচু সেটা প্রকাশ করলাম আবারো। নিজের প্রতি ঘৃণা বাড়ছেই। এসব ঘটনায় কেমন করে আমরা বাইরের দেশের মানুষকে মুখ দেখাবো? কবে আমরা আরেকজনকে শ্রদ্ধা করতে শিখবো? আরেকজনের মতামত বা দৃষ্টিভঙ্গীকে প্রাধান্য দিতে শিখাবো? কবে আমাদের এমন পশুবৃত্তিকে থামাতে শিখবো?

আমরা প্রতিবাদে ফেটে পড়ছি, ঘৃণা প্রকাশ করছি এই ঘটনায়। আসুন ভালোবাসি এই দেশটাকে, দেশের মানুষকে। যেখানে কোনো কমতি আছে, ভালোবেসে সমষ্টিগত উদ্যোগে সেটা পূরণ করার চেষ্টা করি। তাহলেই এমন সুন্দর বাংলাদেশ আবারো সুন্দরে মেতে উঠবে।
Write Comment Please Login
If you have something to say or share, blog is the right place for you. You don't need to be a BLOG member to contribute.
Please register here. It's Free!!
Username
Password
Forgot login info?
Welcome Message
Mountaineering Biography
Personal Biography
Photo Gallery
Video Gallery
Musa Ibrahim's official website (www.musaibrahim.com.bd) launched on December 03
DU authority conferred 'Blue' award to Musa Ibrahim
Musa Ibrahim accorded DU Alumni Association reception
Musa Ibrahim's photo exhibition titled 'Bangladesh on top of the Everest'
Institute of Education & Research (IER), University of Dhaka is conferring reception to Musa Ibrahim
Musa Ibrahim's photo exhibition titled 'Bangladesh on top of the Everest'
Home About Musa Gallery You can do it Press Release Blog Forum FAQ Contact