Facebook   Twitter   LinkedIn   Youtube   Wikipedia
30 Dec 2014
স্কুলে যেতে চাই
[মূল লেখা: https://www.facebook.com/notes/musa-ibrahim/%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%95%E0%A7%81%E0%A6%B2%E0%A7%87-%E0%A6%AF%E0%A7%87%E0%A6%A4%E0%A7%87-%E0%A6%9A%E0%A6%BE%E0%A6%87/10155375505837355]

( ঠাকুরগাঁও সুগার মিলস হাইস্কুলের সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে প্রকাশিত "শুক" ম্যাগাজিনে আমার লেখা)

বন্ধু পর্ব
ক্লাস এইটের বার্ষিক পরীক্ষা শেষ, স্কলারশিপের পরীক্ষাও শেষ। নতুন ক্লাস শুরু হতে দেরি আছে, সেটাও নতুন বছর না এলে হচ্ছে না। আর নতুন বছর এলেও বছরের শুরুর দিকে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আছে। সুতরাং হাতে বেশ অবসর। কাজেই আমরা বন্ধুরা মোটামুটি গায়ে হাওয়া লাগিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছি। এমন সময় প্রস্তাব এলো - পিকনিক করতে হবে। যেমন ভাবনা, তেমন কাজ। সবাই উঠে পড়ে লেগে গেলাম।
ঠাকুরগাঁও সুগার মিলস কলোনি এলাকা বা এর আশপাশেই সব বন্ধুবান্ধবীদের বাসা। ফলে কারো খবর পেতে দেরি হলো না। আশরাফ ইবনে সিদ্দিক রানা, তৌফিক ই এলাহী বুলেট, দেওয়ান সিরাজুল ইসলাম টিটু, দেওয়ান লালন আহমেদ বাপ্পি, সাজ্জাদ আলম নিপুণ, এ এইচ এম মাসুম, রশিদুল আলম সুমন, আবু লাইশ কুরাইশী, মো. গোলাম রব্বানী লিপু, হুমায়ুন কবির মিলন, আবুল কালাম আজাদ, মো. রুস্তম আলী, মো. আব্দুল জব্বার, মো. মাহবুবুল করিম মাহবুব, মুকুট, মশিউর, মো. আসাদুজ্জামান হাসমত, মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, মো. নাজমুল ইসলাম সাজু, রফিকুল ইসলাম, গোলাম কিবরিয়া সোহাগ, মো. হারুনুর রশীদ, মো. আলমগীর কুমকুম, মিঠু, হক, বান্ধবীদের মধ্যে রোকসানা, নূরনাহার, মুন্না, বিউটি, শিরিন, সোনালী, ইয়াসমিন, লাকী, মাকরুমা দেওয়ানসহ আরও অনেকেই যুক্ত হয়ে গেলাম এই আয়োজনে।
পিকনিক করা হবে শুক নদীর পাশে কালো পাহাড়ে। চাঁদা তোলো, বাজার করো, পিকনিকের দিন কারো বাসা থেকে বড় হাড়ি-পাতিল নিয়ে চলো, নিজের প্লেট আর গ্লাস দখলে রাখো আর সকাল থেকেই শব্দের সর্বোচ্চ মাত্রায় মাইক বাজিয়ে পুরো এলাকাবাসীকে জানিয়ে দাও যে পিকনিক চলছে, দুপুরে পেট ভরে খাওয়া শেষে বিকালের দিকে নিজেদের হেড়ে গলায় গানের প্রতিযোগিতা, নাচের আয়োজন, সবশেষে মিছিল সহকারে কলোনির মধ্য দিয়ে নিজ বাসায় ফিরে যাও - এমন হাজারোটা ব্যস্ততার মাঝে পিকনিক শেষ হয়ে যায়।


পিকনিকের মজাটাকে ছাপিয়ে গিয়েছিল আরেকটি অভিযান। তখন আমরা ক্লাস নাইনে উঠেছি। ক্লাস শুরু হওয়ার বেশ কিছুদিন পর গ্রীষ্মকালীন ছুটি চলছে। ততোদিনে বন্ধুদের প্রায় সবার কাছেই বাইসাইকেল চলে এসেছে। সাইকেল আছে, কাজেই চারদিক নিজের মতো করে ঘুরে বেড়ানো যায়। আর এই সুযোগ কেউই আমরা হেলায় হারাতে চাই না। যেদিন স্কুল ছুটি হলো, সেদিনই পরিকল্পনা করা হলো অভিযানের। সেই পরিকল্পনা মাত্র কয়েকজনকে জানানো হলো। সবাইকে জানালে পাছে যদি বাসায় জেনে যায়, তাহলে আবার অভিযান ভন্ডুল হয়ে যাবে। কারণ আমাদের প্রায় সবার বাসা এতো কাছাকাছি যে এতোগুলো ছেলেপেলে সাইকেল নিয়ে একখানে কেন হয়েছে, এটা নিয়ে গবেষণা হবেই। আর তা হলে বাসায় জানবেই। তখন আর অভিযানটায় যাওয়া হবে না। কাজেই এবার একটু স্বার্থপর হতে হলো। দিনটা শুরু হয়েছিল একেবারে নিরসভাবে।
রানার বাসা: সকালে ঘুম থেকে উঠেই বাধ্য ছেলের মতো পড়তে বসে গেছে রানা। অন্য দিনের চেয়ে আজ মনোযোগ একটু বেশি। খানিকটা শুনিয়ে শুনিয়ে বইয়ের পড়া পড়ে চলেছে। এক ফাকে নাশতার ডাক এলো। নাশতা খেয়ে ইংরেজি বইটা নিয়ে বেশ গুতোগুতি চলল। সে বাবা-মাকে বুঝতে দিয়ে চায় না যে, আজকে যে মিশনটা রয়েছে, সে ব্যাপারে ঘুণাক্ষরেও কেউ কিছু টের পাক।

বাপ্পির বাসা: সমস্যাটা হলো বাপ্পির বাসায় সাইকেল একটা। আর তারা তিন ভাইবোন একই ক্লাসে পড়ে - সে আর টিটু আর মাকরুমা। মাকরুমাকে তো এখানে নেয়ার প্রশ্নই আসে না। এখন বাপ্পি এই অভিযানে গেলে টিটুর যাওয়া ফরজ। কিন্তু সাইকেল একটা। তাহলে? বাপ্পি খানকা?য় এক স্যারের বাসায় দেখা করতে যাবে - এই বলে তার বাবার কাছ থেকে সাইকেল ম্যানেজ করলো ঠিকই, কিন্তু সেটা আবার তার বাবা সুগার মিলে কাজে যাওয়ার পর অফিস থেকে নিয়ে আসতে হবে। সেটাও কোনো সমস্যা নয়, পুরো ব্যাপারটা প্রায় সমাধানের পথে। কিন্তু টিটু যদি বাসায় বলে দেয়? কাজেই তাকে অন্য একটা বুদ্ধিতে মুখ বন্ধ করতে হবে। সেটা হলো টিটু যদি পরের শুক্রবার মাহবুবদের সঙ্গে সিনেমা দেখতে যায়, বাপ্পি তখন বাসা সামলাবে।
বুলেটের বাসা: বুলেটের বাবা মো. গোলাম মোস্তফা স্কুলে ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষক। কিন্তু বাবাকে পটানো বুলেটের হাতের মোয়া। বড় ভাই বা ছোট বোন তার দখলেই। সমস্যা হলো মা। আর তাদের আত্মীয়স্বজনও সব চারদিকে। কাজেই বাসায় বুলেটকে একটু কৌশলে ম্যানেজ করতে হবে। সে এবার গল্প ফেঁদে বসল - লাহিড়ীতে তাদের এক আত্মীয়ের বাসায় বেড়াতে যাবে।
নিপুনের বাসা: বাড়ির একমাত্র ছেলে নিপুন। তাদের আত্মীয়স্বজন সুগার মিল এলাকার চারদিকে। সুতরাং আজ যে অভিযানে যাওয়া হবে, সেটা গোপন করে এক আত্মীয়ের বাসায় যাবে - এটা বলে সে সবচেয়ে সহজে বাসা থেকে বের হতে পারল।
মাসুমের বাসা: সবচেয়ে জটিল সমস্যায় পড়েছে মাসুম। সাইকেল আছে। কিন্তু ছুটির দিন, স্কুল নাই। কি বলে বাসা বের হওয়া যেতে পারে, তাও আবার প্রায় সারাদিনের জন্য, এটা তার মাথায় ঢুকছে না। মাসুমের এই পরিস্থিতিতে উদ্ধারকর্তা হিসাবে এগিয়ে এলো নিপুন। বাসায় ঢুকে সে খালাম্মার সঙ্গে আলাপ জুড়ে দিল। তারপর বললো শিবগঞ্জে তার এক আত্মীয়ের বাসায় যাচ্ছে। মাসুমকেও সে নিয়ে যেতে চায়। মাসুমের বাসায় নিপুনের ভালো ছেলে হিসাবে বেশ গ্রহণযোগ্যতা আছে। কাজেই মাসুমের আম্মা ম্যানেজ হয়ে গেলেন।
আমার বাসা: সকাল সাড়ে ন?টা বা দশটা পর্যন্ত পড়ার টেবিলে বসে থাকলেই আম্মা খুশি। স্কুলের পড়া নেই। কাজেই সহপাঠ ?দি কোরাল আইল্যান্ড? আর ?আবদুল্লাহ? পড়েই সময়টা পার করলাম। এরপর দশটা বাজার কিছু আগেই সাইকেল নিয়ে বের হওয়ার সময়, কোথায় যাচ্ছি - এই প্রশ্নের উত্তরে ?নিপুনদের বাসায়?, বলেই পার পেয়ে গেলাম।

আজ আমাদের আনন্দ মোটামুটি ঈদের সমান। কারণ কারো বাসায় কাউকে না জানিয়ে বুড়ির বাঁধ দেখতে যাচ্ছি। সবাই ঠিক দশটায় একত্রিত হলাম স্কুলের পেছনে, মিঠুদের বাসার কাছে একটা চায়ের দোকানে। এই পথ চলে গেছে একেবারে আখানগর পর্যন্ত। এই পথ ধরেই আজ আমরা চলেছি নতুন অভিযানে - বুড়ির বাঁধ।

শুক নদী, ঠাকুরগাঁও সুগার মিলের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে। এই নদীর উৎপত্তিস্থল হলো বুড়ির বাঁধ। আমরা এতোদিন শুধু পাঠ্য বই বা গল্পের বইয়েই পড়েছি - অমুক নদী তমুক পাহাড় থেকে, ওই জায়গা থেকে উৎপত্তি হয়েছে। কিন্তু বুড়ির বাঁধ থেকে শুরু হয়ে এই শুক নদী পরে নাকি টাঙ্গন নদীর সঙ্গে গিয়ে মিশেছে। বর্ষায় যখন বাঁধ ভরে যায়, তখন এর সাতটা স্লুইসগেটই খুলে দেওয়া হয়। এ সময় চারদিক ভাসিয়ে শুক নদী বয়ে যায়। বাকি সময়ে ক্ষীণধারায় বয় এই নদী। এতো কাছেই একটা নদীর সৃষ্টি, সেটাই আমাদের এতোদিন দেখা হয় নি, এটাই ছিল আমাদের অভিযানের মূল উদ্দেশ্য - বুড়ির বাঁধে যেতে হবে, কিভাবে সেখানে নদীটা শুরু হলো তা দেখতে যেতে হবে। নিজেকেই বুঝতে হবে কীভাবে স্লুইসগেট খুলে দিলে পানি সেখান থেকে বের হয়।

এলাকায় কৃষিতে সেচ সুবিধা, চাষাবাদে অগ্রগতি এবং জমির সুষ্ঠু ব্যবহারের লক্ষ্যে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা আখানগর ইউনিয়নে ১৯৫১-৫২ সালে বানানো হয় একটি ব্যারেজ। এটাই বুড়িবাঁধ নামে পরিচিত। আর পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য মতে বাংলাদেশের ৪টি ব্যারেজের মধ্যে ঠাকুরগাঁওয়ের বুড়ির বাঁধ ব্যারেজ অন্যতম যা বর্তমানে বুড়িবাঁধ সেচ প্রকল্প নামে পরিচিত।

কলোনি থেকে এই বুড়ির বাঁধের দূরত্ব সর্বোচ্চ দশ কিলোমিটার। যেতে হয়তো সময় লাগবে প্রায় দু?ঘণ্টা। আমরা সাইকেল নিয়ে বের হয়ে পড়লাম। সঙ্গে খাবার হিসাবে শুধুই আছে চার আনা পয়সা দামী অনেকগুলো চকলেট। সবাই কিছু কিছু করে সামান্য টাকাও সঙ্গে নিয়ে নিয়েছি, পথে যদি কোনো প্রয়োজন হয়। ঠাকুরগাঁও রোড স্টেশন থেকে আখানগর স্টেশন পর্যন্ত রেললাইন চলে গেছে এই পথেই। রেললাইনের পাশ দিয়েই সাইকেল চালানোর মতো সরু পথ। খুব সাবধানে সাইকেল চালাচ্ছি সবাই। এর মধ্যে নানা গল্প চলছে। রেললাইনের ওপর কান পেতে শব্দ কম্পনের মাধ্যমে কিভাবে রেলের আগমণবার্তা বোঝা যায়, লাইনের ওপর দশ পয়সা পেতে দিয়ে তার ওপর দিয়ে ট্রেন চলে গেলে পয়সাটা কিভাবে নানা দেশের মানচিত্র ধারণ করে ? এ নিয়ে বেশ গবেষণা চলল। তখন যেহেতু কোনো ট্রেন যাওয়ার সময় ছিল না, কাজেই গবেষণা বেশিদূর এগোল না। পথে যে ক?টি জায়গায় সেতু পড়ল, আমরা সাইকেল কাধে করে নিয়ে সেতু পার হলাম।

লাহিড়ী?র ঠিক আগেই আমাদের আরেক বন্ধু আলমগীর এসে আমাদের সঙ্গে যোগ দিল। সেখান থেকে তার বাড়িতে যাওয়া হলো। এখানে চিড়া-মুড়ির মোয়া আর টিউবঅয়েলের পানি দিয়ে ক্ষুধা আর পানির পিপাসা মিটিয়ে আমরা চললাম বুড়ির বাঁধের দিকে।
রেললাইন পার হওয়ার পর আর মাত্র দু?কিলোমিটার। পথ বেশ চওড়া। আমরা পড়িমড়ি করে চালিয়ে মাত্র দশ মিনিটেই পৌঁছে গেলাম বুড়ির বাঁধ। গিয়ে দেখলাম, বাঁধের একপাশ পানিতে সয়লাব। মাটির অনেক উঁচু বাঁধ সেই পানি আটকে রেখেছে। আর একটা জায়গায় লোহার গেট দিয়ে পানিকে মুক্ত হওয়ার সুযোগ দেয়া হয়েছে। স্লুইস গেটের এপাশে পার হতে পারলেই হলো, পানি তীব্র বেগে বয়ে চলে ভাটির দিকে।
দর্শনপর্ব শেষ করে আমরা সাইকেল রেখে শুধু শার্টটা খুলে গোসল করতে নেমে পড়লাম স্লুইসগেটের নিচে। বাঁধ দেয়ার ফলে আরেকপাশে পানি জমে যে বিশাল দীঘির মতো সৃষ্টি হয়েছে, সেদিকে কেউ আমরা নামলাম না। যদি গভীর পানিতে কোনো দুর্ঘটনা ঘটে, এই ভয়ে! যেদিকে পানি নামছে, সেখানে পানি কম। আমরা সবাই সেখানেই নেমে পড়লাম।
এই নামাটাও অবশ্য সাধারণভাবে নয়। শুরুটা হয়েছিল স্লুইস গেট বেয়ে নামা। এরপর স্লুইস গেটের ঢালের যেখান থেকে পানি বের হচ্ছে, সেখানে বসে শিশুপার্কের স্লিপারের মতো ?চুই? করে নেমে যাওয়া। নেমে গেলাম। এবার পার ধরে ফের উঠে আসা যায়। নিপুন, মাসুম আর আলমগীর সেটাই করছে। তবে রানা, বাপ্পি, বুলেট চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বললো - এই ঢাল বেয়ে উঠতে হবে। তারাও উঠতে শুরু করেছে। এবার আমার পালা। উঠতে না পারলে মানসম্মান থাকে না। সুতরাং চ্যালেঞ্জ নিতেই হলো।
উঠতে শুরু করেছি। খুব সহজ হচ্ছে যে ব্যাপারটা তা নয়। ঢালের প্রায় পুরোটাতেই শ্যাওলা। এর ফলে ভয়াবহ রকমের পিচ্ছিল। তবে সুখের ব্যাপার হলো ঢালে কোনো কোনো জায়গায় সিমেন্ট উঠে গিয়ে ছোট ছোট গর্ত তৈরি হয়েছে। আমরা সেই গর্ত হাতের আঙ্গুল দিয়ে ধরে, পায়ের আঙ্গুল সেধিয়ে কোনো মতে উঠছি। এভাবেই বুলেট আর বাপ্পি ওপরে পৌঁছে গেছে। আমার পেছনে রানা। আমি মাঝ বরাবর উঠেছি। এমন সময় বিপত্তি।
আমাদের দলের বাইরের একটা ছেলে আমাদের দেখাদেখি স্লুইস গেট বেয়ে নিচে নামতে শুরু করেছিল। হঠাৎ সে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সোজা নিচের দিকে নেমে আসতে শুরু করেছে। আমি শুধু একবার ওপরের দিকে তাকানোর সুযোগ পেলাম। এর মধ্যে তার এই হতচ্ছাড়া কান্ড দেখে পুরো শরীর শক্ত হয়ে গেছে। নড়তে পারছি না।
ছেলেটি ঢাল বেয়ে নামার সময় পথে যাকে যাকে পাচ্ছে, সবাইকে নিয়ে নামছে। আমার এ সময় কি করা উচিত, এটা ভাবতে শুরু করার আগেই মাঝ বরাবর এসে আমাকে আঘাত করল। এবার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই পাকা ঢালে পড়ে সোজা নিচে। সঙ্গে রানাও আছে। পানি থেকে ওঠার পর বন্ধুদের মধ্যে হাসির রোল পড়ে গেল। আর আমি উঠে নিজেকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করছিলাম যে হাত-পা ভাংল কি না! সবকিছু নেড়েচেড়ে দেখলাম যে ভাঙ্গেনি। তবে কপালে বেশ ব্যথা। রানা এবার হো হো করে হেসে উঠে বলল - দ্যাখ, দ্যাখ, মুসার কপালে শিং গজিয়েছে! এবার চারদিকেই হাসির রোল পড়ে গেল। আমিও যোগ দিলাম সেই হাসিতে।
ঘটনাটা হলো ঢালে পড়ার সময় আমার কপাল আগে পড়েছিল। তবে ঢালের ওপর শেওলা আর পানি থাকার কারণে আঘাতের পরিমাণ খুব জোরালো হয় নি। শুধু কপালের দু?কোনায় ফুলে উঠেছে।
আমাদের অভিযান আর এগোল না। মাথায় শুধু ছিল যে দুপুর আড়াইটার আগে বাসায় ফিরতে হবে। স্লুইসগেট দিয়ে পানি নিয়ন্ত্রণের বিদ্যা শিখে এবং বাঁধ সম্পর্কে প্রচুর জ্ঞান অর্জন করে বাসায় ফেরার পর দেখলাম যে কেউ টের পায়নি। আর আমার কপালের ফোলা আম্মা খেয়াল না করায় পার পেয়ে গেলাম। বেশ কিছুদিন ধরে এরকম নানা অভিযানে নিয়ন, জুডান, জীবন, ছবি, মাসুদ, হারুন, রয়েল, ফরহাদসহ আরও অনেককেই বন্ধু হিসাবে পেয়েছি। এমন হাজারো ঘটনা রয়েছে স্কুলকে ঘিরে।


শিক্ষক পর্ব
ক্লাস ফাইভ দিয়ে শুরু। তারপর থেকে ঠাকুরগাঁও সুগার মিলস হাইস্কুলই হলো আমার ঠিকানা। এখানে প্রয়াত হেড স্যার মোহাম্মদ জাকারিয়া, অ্যাসিস্ট্যান্ট হেড স্যার (পরবর্তীতে হেড স্যার) মো. পয়গাম আলী, সহকারী শিক্ষক প্রয়াত ক্বারী মোহাম্মদ ওবায়দুল্লাহ, প্রয়াত মোহাম্মদ শামসুজ্জোহা, এজিএমজেড আল মনসুর, মো. হাবিবুর রহমান, মো. লতিফুর রহমান, মো. আব্দুশ শহীদ, মো. গোলাম মোস্তফা, মো. আনিসুর রহমান, মো. আবদুল গফুর, মো. মোফাজ্জল হোসেন, মোহাম্মদ মোতালেব হোসেন, (পরবর্তীতে হেড স্যার) সেলিনা আকতার, লাইলী বেগম, শরীফা খাতুন, নাসিমা আকতার, লুৎফা বেগম (শ্রদ্ধেয় শিক্ষকদের নাম কোনো ক্রমানুসারে নয়) - সবার সুনজরে ছিলাম ভালো শিক্ষার্থী হওয়ার কারণে।
কিছুদিনের মধ্যেই বুঝে গেলাম, স্কুলে সবচেয়ে মজার স্যার হলেন গফুর স্যার। কারণ? তিনি প্রায় প্রতিদিনই ক্লাসের শেষে একটা করে গল্প শোনাতেন। আর পড়া না হলে স্যারের বিখ্যাত উক্তি - কাম হিয়ার মাই ?গোড়ত? - মনে হয় এখনও কানে বাজে। শাসন, কিন্তু মজার - এজন্য পছন্দ করতাম লাইলী আপাকে। তিনি ঠাকুরগাঁওয়ের স্থানীয় ভাষায় যেভাবে শাসন করতেন - এই, দেউনিয়া হইছি রে - ইত্যাদি নানা কথার মাধ্যমে, আমরা শুনে ক্লাসেই হেসে গড়াগড়ি যেতাম। শুদ্ধ ভাষায় আমাদের শাসন করতেন মোফাজ্জল স্যার। মাঝে মধ্যে ক্লাসে বাঁদরামি চরমে পৌঁছালে তিনি ক্লাসে বলতেন - ?আল্লাহ মনে হয় তোদের পেছনে একটা করে লেজ দিতে ভুলে গেছেন, সব বাঁদরের দল।? লতিফ স্যারের ভূগোল আর ইতিহাস পড়ানো এখনো মনে পড়ে। মনে হয় এখনও স্যারের ক্লাসে বসে যাই, ইতিহাসের ক্লাসটা করে ফেলি। ইংরেজি ক্লাসে শহীদ স্যার কোনো পড়া না পারলে যেভাবে ?স্ট্রেঞ্জ, স্ট্রেঞ্জ? বলতেই থাকতেন, তা ভোলার নয়। হেড স্যারও (জাকারিয়া স্যার) মাঝে মাঝে ইংরেজি পড়াতেন, কিন্তু তার ধর্মশিক্ষা ক্লাসগুলো সবচেয়ে উপভোগ করতাম। তিনি আরবী শিক্ষাটা ভালোমতো আয়ত্ত করার উপদেশ দিয়ে বলতেন, ?তা না হলে কাগজে ছাপানো আরবী ভাষ
Write Comment Please Login
If you have something to say or share, blog is the right place for you. You don't need to be a BLOG member to contribute.
Please register here. It's Free!!
Username
Password
Forgot login info?
Welcome Message
Mountaineering Biography
Personal Biography
Photo Gallery
Video Gallery
Musa Ibrahim's official website (www.musaibrahim.com.bd) launched on December 03
DU authority conferred 'Blue' award to Musa Ibrahim
Musa Ibrahim accorded DU Alumni Association reception
Musa Ibrahim's photo exhibition titled 'Bangladesh on top of the Everest'
Institute of Education & Research (IER), University of Dhaka is conferring reception to Musa Ibrahim
Musa Ibrahim's photo exhibition titled 'Bangladesh on top of the Everest'
Home About Musa Gallery You can do it Press Release Blog Forum FAQ Contact