Facebook   Twitter   LinkedIn   Youtube   Wikipedia
30 Dec 2014
আমি কেন এভারেস্টে গেলাম?
মানুষের এই প্রশ্ন শুনে আমি বরাবরের মতোই এখনো হকচকিয়ে যাই। তাই তো - আমি কেন এভারেস্টে গেলাম? অনেকের মতে, এতো কিছু থাকতে কেন আমি এভারেস্টে গেলাম? আবার অনেকে প্রশ্ন করেন, আপনি কি ছোটবেলাতেই এমন স্বপ্ন দেখতেন? প্রশ্ন শুনে তখন শুধু গালে টোকা মেরে মনে করার চেষ্টা করি - আচ্ছা, ছোটবেলায় আমি কি কি স্বপ্ন দেখতাম, এই তালিকায় কি কি আছে? প্রশ্ন এখানেই থামে না। আরও প্রশ্ন আসতে থাকে - আপনার ফ্যামিলি কি এটা সাপোর্ট করে? এইবার হাসি দিয়ে উত্তর দেই (কারণ প্রশ্ন কমন পড়ছে), বলি - সাপোর্ট না করে আর কি করবে!

অনেকের ধারণা - এটা পারিবারিক ঐতিহ্য। মানে হলো পরিবারের মধ্যেই হয়তো এর একটা যোগসূত্র ছিল। কিন্তু আমি যখন পেছন ফিরে দেখি, বাবা-মা'র সরাসরি কোনো অবদান এখানে এখনো পাই নি। তবে পরোক্ষ অবদান তো অবশ্যই ছিল, সেটা স্বীকার করতেই হবে।

একটা গল্প আমি প্রায়ই সবাইকে বলি - আমি ছোটবেলাটা কাটিয়েছি যে কয়টা জায়গায়, তার মধ্যে রংপুরের শ্যামপুর সুগার মিল (আমি ছিলাম সেখানে মিনি টারজান - পুকুরপাড়ে সাপ কিভাবে এক গর্ত থেকে বের হয়ে আরেক গর্তে ঢুকে পড়ে, মৌমাছি কেন ফুলের ওপর এসে বসে, কিভাবে গাছের লতাপাতা দিয়ে ঘর বানানো যায়, সুগার মিলের শীতক যন্ত্র কিভাবে কাজ করে - এর পানি থেকে কেন ধোঁয়ার মতো জ্বলীয় বাষ্প বের হয়, ট্রেন স্টেশনে এল কিভাবে মানুষ এসে নামে - আবার ট্রেনে উঠে পড়লে ট্রেন চলতে শুরু করে -- টারজানের মতো এমন নানা অ্যাডভেঞ্চার। সবগুলো আবার আমার মনেও নাই); লালমনিরহাটের মোগলহাটের কাছে আমার দাদাবাড়ি; বগুড়ার শিবগঞ্জ থানার পিরবের কাছাকাছি আমার নানাবাড়ি এবং শহরের সুলতানগঞ্জপাড়ায় আমার মেজো মামা শহীদুল ইসলামের বাড়ি; পঞ্চগড় সুগার মিল, ঠাকুরগাঁও সুগার মিল - সব মিলিয়ে অনেক জায়গা।

আমি তো এক বাক্যে বলে ফেলি - ঠাকুরগাঁও আমার দ্বিতীয় বাড়ি, কারণ এখানে কতো যে স্মৃতি - তার কোনো শেষ নেই। শেষ হবেও না - কারণ ক্লাস ফাইভ থেকে ক্লাস টেন পর্যন্ত সময়টা তো আমার নিজ জ্ঞান-বুদ্ধিতে বড় হওয়ার সময়। তবে পঞ্চগড়ের বানিয়াপট্টিতে ছোট্টবেলার বন্ধু বাবু, ধাক্কামারা, সুগার মিল কলোনি, করতোয়া নদী, জগদল বাজার, ময়দানদিঘী বাজার, তেঁতুলিয়া, মহানন্দা নদী, বাংলাবান্ধা - আরও কতো শত নাম - আমার ছোটবেলাকে একেবারে সাজিয়ে রেখেছে। বিশেষ করে পঞ্চগড় শহর থেকে হিমালয়ের কাঞ্চনজঙ্ঘা পর্বত দেখা (তখনও এর নাম জানতাম না, জেনেছি বড় হয়ে), করতোয়া নদীর স্বচ্ছ পানিতে (কোথাও কোথাও হাঁটু পানি, অনেককে দেখেছি নদী হেঁটে পার হয়ে ওপারে গিয়ে হাট ধরতে) গোসল করার কথা এখনও মনের ভেতর সাজিয়ে রেখেছি যত্ন করে। বিশেষ করে প্রতি সপ্তাহে শুক্রবার আব্বা আমাদের দুই ভাইবোনকে (আমি আর মনি) নিয়ে যেতেন নদীতে গোসল করতে। যাবার পথে ভাটি গাছ থেকে লাল লাল ফল তুলে খেতাম। আর নদীতে হাঁটু পানিতে আব্বা আমাদেরকে ছেড়ে দিতেন। আমরা পানিতে হুটোপুটি করতাম - দেখতাম স্বচ্ছ পানিতে নদীর তলদেশ একেবারে স্বচ্ছ দেখা যায়, সেখানে পানির সঙ্গে বয়ে আসা নুড়ি পাথর বের করে আনতাম।

সবচেয়ে বড় খেলার জায়গা ছিল নদীর তীর - যেখানে পানি থেকে বালু সংগ্রহ করে বালু-ব্যবসায়ীরা বালুর ঢিবি বানিয়ে রাখতেন - সেখানে আমরা পাখির বাসা বানাতাম, বালু দিয়ে, ঘর বানাতাম পাথর দিয়ে। ফলে সেই পঞ্চগড়ের ছোটবেলার সেই শুক্রবারগুলো আমাদের জন্য ছিল একেকটা ঈদের দিন। সপ্তাহের বাকি দিনগুলো অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতাম কবে আবার শুক্রবার আসবে। সেই নদীর পাড় থেকে যখন একই সঙ্গে বালুর ঢিবিতে দেখতাম যে বালুতে রোদ পড়ে সাদা বালু চিকচিক করছে, আর শীতের দিনে কাঞ্চনজঙ্ঘা পর্বতের ওপর সূর্যের আলো পড়ে সেটাও যেন চিকচিক করছে - আমি ভেবেই বসেছি যে দূরের সেই কাঞ্চনজঙ্ঘা বালুর একটা ঢিবি। আর করতোয়া নদীর পাড়ে যেহেতু এই বালুর ঢিবি সহজেই পার হয়ে যাওয়া যেত, একটা ধারণা জন্মেছিল যে যদি সেই দূর পাহাড়ে যেতে পারি, তাহলে সেটাও পার হয়ে যেতে পারবো (এই সুপ্ত ইচ্ছাই কি আমাকে পরে পাহাড়-পর্বতের দিকে আকৃষ্ট করেছিল? আমি তো তাই মনে করি)। কিন্তু সেই ধারণার কথা কাউকে বলতে পারি না, কিংবা এটাও বলতে পারি না যে - আমাকে কি কেউ দয়া করে সেই পাহাড়ের কাছে নিয়ে যাবেন? তবে আব্বা হুটহাট আরও উত্তরে যেতেন - জগদল বাজারে, তেঁতুলিয়ায়, বাংলাবান্ধায়।

একদিন আব্বা আমাকে নিয়ে গেলেন জগদল বাজারে - দেখলাম সেই কাঞ্চনজঙ্ঘা আরও কাছে এসেছে। যেন বাজার পার হলেই কোনো গ্রামে ঢুকে পড়ার মতো - মনে হচ্ছিল আমি মনে হয় বাজারটা পার হলেই সেই কাঞ্চনজঙ্ঘাকে ছুঁতে পারবো। কিন্তু সেই ইচ্ছাটাও কাউকে বলতে পারি না - পাছে আবার কেউ কিছু মনে করে (সেই ছুঁতে না পারার আক্ষেপটাই হয়তো আমাকে পরবর্তী সময়ে পাহাড়ের দিকে আরও আকৃষ্ট করেছে)। ছোটবেলায় সেই কাঞ্চনজঙ্ঘার আর কাছে যাওয়া হয় নি, বরং আরও দূরে সরে গেছি। পঞ্চগড় থেকে আব্বা বদলি হলেন ঠাকুরগাঁও সুগার মিলে। আমার ছোটবেলার স্বর্ণদিনগুলো কেটেছে এই ঠাকুরগাঁওয়ে। বাবা-মা'র শাসন ছিল, কিন্তু তাকে ফাঁকি দেয়ার ফন্দিফিকিরের অভাব ছিল না - পুকুরে নদীতে গোসল করা, বাড়ির পাশ দিয়ে ট্রেনের চলে যাওয়া দেখা (এই ট্রেন নিয়ে আমি এতোটাই obsessed যে এখনও সেই স্টেশন, সেই ট্রেন, ট্রেনের লাইন - সবই স্বপ্নে দেখি), সবচেয়ে বড় ব্যাপার হলো সেই কাঞ্চনজঙ্ঘাকে দেখা - এসবই মেঘ না চাইতেই জলের মতো এসে হাজির হতো আমার সামনে।

এজন্য ঢাকায় চার দেয়ালের খাঁচার মধ্যে কম্পিউটার বা বোকার বাক্স টেলিভিশন বা ফেসবুককে সঙ্গী করে বড় হতে থাকা ছেলেমেয়ের জন্য আমি খুবই আহত বোধ করি - এদের জীবনটাকে আমরা মেরে ফেলছি। আমার নিজের ছেলের জন্যও খুব খারাপ লাগে - যখন তাকে বাইরে নিয়ে যাই খেলতে বা অন্য কোনো কারণে, যখন সে শুধু বাসায় ফিরতে চায়, তখন। আহ, এরা ঘাসের গন্ধটা, পাতার সবুজটা, ক্ষেতে ধানের বেড়ে ওঠা, আলু বের করে পুড়িয়ে খাওয়া, মাছ ধরা, লাটিম খেলা, ঘুড়ি ওড়ানো, মৌচাকে ঢিল মারা, অন্যের আম, জাম, কাঁঠাল পেড়ে খাওয়া বা অন্যের পুকুর থেকে মাছ ধরে পিকনিক খাওয়া, মাঠে গরু চরতে দেখা, নদীতে হুটোপুটি করা, গাছের ডাল ধরে আটদশ জন এক সঙ্গে ঝুলে পড়া, সাইকেল চালিয়ে অজানাকে দেখে আসা - এসবের বেশিরভাগের সঙ্গে এদের কদাচিৎ পরিচয় হয়। এরা ধান সিদ্ধ করার গন্ধ কেমন জানে না, এরা ঘুড়ির সুতায় কিভাবে মাঞ্জা দিতে হয় জানে না, এরা লাটিমের ফাল কিভাবে বদলাতে হয় জানে না, জাম্বুরা দিয়ে ফুটবল খেলার কৌশলটা জানে না, স্কুলে হেঁটে যাওয়ার পথে আম গাছে ঢিল মারতে জানে না বা নিজের চাকু দিয়ে আমি ছিলে বাসা থেকে আনা লবণ-মরিচ দিয়ে খেতে জানে না। এর জন্য তাদেরকে দোষ দিব কি? না এর জন্য দায়ী আমরা- আমরা যারা বাবা-মা, তারা।

এ কথাগুলো কেন বলছি? জাঁ পিয়াজের "শিশুর বেড়ে ওঠা ও তার মনোবিকাশ" বইটি এসবের উত্তর আমার কাছে এনে হাজির করেছিল। বুঝতে পেরেছিলাম - শিশুকে বড় করে তোলা কোনো সহজ কাজ নয়, আমার কাছে মনে হয়েছে বিশ্বের যতো কাজ আছে, তার মধ্যে সবচেয়ে কঠিন আর জটিল কাজ। গোলাম মোস্তফা'র সেই অনন্য ছড়া "ঘুমিয়ে আছে শিশুর পিতা সব শিশুরই অন্তরে" - এর অর্থটা বুঝেছিলাম সেই বইটা পড়ে।

ছেলেমেয়েকে বড় করে তোলা, মানে সুনাগরিক হিসাবে গড়ে তোলা, শৃঙ্খলা ও সু-আচরণ শেখানো মনে হয় এই জগতের সবচেয়ে কৌশলী শিল্প। সব বাবা-মা কাজটা অনুপুঙ্ক্ষ করতে পারেন - এটা কেউই হলফ করে বলতে পারেন না। শিশুরা কি শিখবে, কিভাবে শিখবে, আবার কি কি শিখবে না - এসব কিছু যেসব বাবা-মা সুন্দরভাবে সাজিয়ে নিতে পারেন, শিশুর শেখায় প্রাণ এনে দিতে পারেন নির্দেশনা দিয়ে, শিক্ষণে, শিশুদের মধ্যে আত্ম-শৃঙ্খলা তৈরি করতে সহায়তা করে। এর সবই কার্যকর হতে পারে যদি বাবা-মা নিজেদের মধ্য থেকেই এসবের চর্চা শিশুদের মধ্যে তৈরি দিতে পারেন, কোনো বাইরের চাপিয়ে দেয়া নিয়মের মাধ্যমে নয়। যদি কোনো কৌশল শিশুকে শেখানোর ক্ষেত্রে প্রাণের সঞ্চার না ঘটিয়ে বরং তার "আমিত্ব"কে অবিকল রেখে দেয়, তাহলে তাকে শৃঙ্খলা বলা যায় না - বরং তা শাস্তি (punishment), শিশুর শিক্ষা কোন ভাষায় হচ্ছে, সেটা এখানে বড় বিষয় নয়। - বারবারা কলোরসো (শিশু বিশেষজ্ঞ)

শিশুদের বড় হয়ে ওঠাটা আসলে যতো সহজে বলে ফেলা গেল, ততোটা সহজ নয় মোটেই। কারণ বাবা-মা শিশুর সঙ্গে কেমন আচরণ করছে, তার ওপরেই কিন্তু নির্ভর করে যে ছেলে বা মেয়েটি বড় হয়ে কেমন স্বভাবের হবে। বিশেষজ্ঞরা অবশ্য বলেছেন: শিশুর সঙ্গে বিশ্বাসের ভিত্তি গড়ে তোলা, পরস্পরকে শ্রদ্ধা করা, শিশুর সঙ্গে যে সময় ব্যয় করবেন, তা আগে থেকেই ঠিক করা; শিশু কোনো ভুল করলে কঠোর হওয়া থেকে নিজেকে বিরত রাখা এবং কখনোই শিশু ও বাবা-মা'র মধ্যে কোনো বিরোধ তৈরি হতে না দেয়া - এই ব্যাপারগুলো যারা ঠিক মতো নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন, ধরে নেয়া হয় তাদের শিশুটি সুন্দর আচরণ শিখে বড় হতে থাকে।

এখন অনেকেই আর শিশুকে শৃঙ্খলা শেখাতে মারধোর করেন না। তারা শিশুর খেলার মাঝখানে "টাইম-আউট" বলে খেলা বন্ধ করে দেন বা খেলনাটা সরিয়ে ফেলেন - আর তারা ভাবতে থাকেন আমরা তো আধুনিক বাবা-মা, আমরা শিশুর গায়ে হাত তুলি না। কিন্তু একবার ভেবে দেখেছেন কি - এই যে আপনি টাইম আউট করলেন বা খেলনাটা সরিয়ে ফেললেন, এর মাধ্যমে আপনি আসলেই শিশুকে কোনো শৃঙ্খলা শেখাতে পারছেন কি না? প্রিয় বাবা-মা, মনে রাখবেন - শিশুর সঙ্গে আপনি যদি আসলেই মিশে যেতে চান, তাকে সুশৃঙ্খল হিসাবে গড়ে তুলতে চান, তাহলে সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম হচ্ছে শিশুর সঙ্গে আপনার সম্পর্ক আর তাকে নিয়ে আপনার কর্মকাণ্ড। শিশুটি যদি সত্যিই আপনার সঙ্গে আত্মিক বন্ধনে যুক্ত থাকে, আপনি যদি তার সঙ্গে বিশ্বাস আর শ্রদ্ধার একটা সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারেন, তাহলে দেখবেন যে সেই শিশু কখনোই আপনাকে অপ্রস্তুত করবে না, আর সেই বিশ্বাস ও শ্রদ্ধার কারণে শিশুটি নিজে থেকেই দায়িত্বশীল হবে, এমনকি তার আত্মপোলদ্ধিকে কখনোই সে নষ্ট হতে দেবে না।

আপনি হয়তো জানেন, শিশুরা আসলে আয়নার মতো। বাবা-মা'রা যা করেন বা বলেন, বাচ্চারা হুবহু তা নকল করে। সুতরাং আপনার এখানে দায়িত্বশীল হতেই হবে। আপনি যদি আপনার শিশুটির কাছে কোনো প্রতিজ্ঞা করেন, চারদিকে জিনিসপত্র ছড়িয়েছিটিয়ে রাখেন, শিশুটির প্রতি জোরে চিৎকার করেন বা তাকে ধাক্কা মারেন, তার বা অন্যের কাছে মিথ্যা বলেন, শিশুটি বা আপনার জীবনসঙ্গী/সঙ্গিনীর সঙ্গে শ্রদ্ধা না রেখে কথা বলেন, তাহলে এমন হতে পারে যে আপনার শিশুটিও আপনার কাছে না রাখার মতো করেই প্রতিজ্ঞা করবে, তার ঘর গুছিয়ে রাখবে না, যখন সে একটু পাগলামি করবে, সে সময় সে চিৎকার করবে, সে কারো পরোয়া করবে না, মিথ্যা কথা বলবে, কথা বলবে অশ্রদ্ধা নিয়ে। আর এসবের জন্য যদি আপনি শিশুটিকে শাস্তি দেন, তাহলে কি সেটা ঠিক কাজ হবে? অনেক বাবা-মা'ই তার শিশুটিকে বলেন - আমি যা বলি করো, আমাকে দেখে কাজটা করতে হবে না। আপনি যা বলবেন, তাই সে করে ফেলবে, না কি আপনি যা করছেন, সেটাই সে করবে - এটা এই ক্ষেত্রে একেবারে শিশুর ব্যক্তিগত বিষয়। কিন্তু সে যেহেতু ততো শক্তভাবে তার মতামত প্রকাশ করতে পারে না, তাই অনেক সময়ই শিশুকে পরাজিত'র কাতারে দেখা যায়। এটা দেখে বাবা-মা'র মনে রক্তক্ষরণ হয় কি না, সেটা বাবা-মা'ই ভালো বলতে পারবেন, তবে কেউ কেউ যে শিশুকে পরাজিত দেখে (বলা ভালো নিজের আত্মতুষ্টিতে) বেশ গর্ব অনুভব করেন, সেটা কিন্তু বাবা-মা'র কাজে কর্মে স্পষ্ট হয়ে উঠে। "বাচ্চাকাচ্চা কথা শুনবে না মানে" - এমন তুঘলকী কথাবার্তা বলে বাবা-মা'রা কেউ কেউ নিজের আমিত্বকে জাহির করতে চান।

এই যে বাবা-মা একটা আয়নার মতো, এই কারণেই আসলে শিশুকে তার কাজের জন্য জবাবদিহি করাতে পারেন না। বাবা-মা'র আয়না যেহেতু শিশুরা, সুতরাং আপনি নিজেকে যাচাই করতে পারেন শিশুর কাজকর্ম দেখেই। সবচেয়ে বড় কথা এর জন্য আপনার নিজেকেই জবাবদিহি করা উচিত, বাইরের কেউ এসে কিন্তু এটা করে দেবে না। আবার - শিশুরা যখন জানালা দিয়ে কোনো জিনিস বাইরে ফেলে দেয়, আপনি হয়তো চিন্তা করতে বসলেন যে আপনি তো কখনো কোনো জিনিস এভাবে বাইরে ফেলেন না, তাহলে আপনার শিশুটি এটা শিখল কিভাবে। হ্যাঁ, এটা হয়তো সত্যি যে এই অভ্যাসটা আপনার মধ্যে কখনোই ছিল না, কিন্তু তাই বলে তো আপনি দিনের সবটা সময় বাসায় থাকেন না বা বাসায় থাকলেও পুরোটা সময় আপনার শিশুটির সঙ্গে কাটান না বা তাকে চোখে চোখে রাখেন না যে সে কি করছে বা কি শিখছে। এ সময় অনেকে আবার শিশুকে শাসন করতে সেই শাস্তি বা পানিসমেন্টকেই বেছে নেন। কিন্তু একবারও ভেবে দেখলেন কি যে এই শাস্তি দিয়ে তাকে কতোটুকু শৃঙ্খলা শেখালেন শুধু তাকে অপমান করা বা আহত করা ছাড়া? বিশেষজ্ঞের পরামর্শ হলো - শিশুকে তার স্বাভাবিক শিক্ষাটাই শিখতে দিন, এতে করে তার মধ্যে জবাবদিহিতা তৈরি হবে।

একটা জিনিস আমাদের জানা দরকার। আমরা ভেবেই নিই যে আমাদের বাচ্চাটা আমাদের বড়দের মতোই সবকিছু একেবারে ঠিকঠাক আচরণ করবে (যেন আমরা একেবারে ১০০% সঠিক আচরণটাই করি, কোনোই ভুল হয় না আমাদের)। এটা আমরা জানি না যে - নিয়মকানুন, শাস্তি বা বড় অকাজের জন্য জেলজরিমানা কিন্তু আমরা যারা প্রাপ্তবয়স্ক, যাদের ব্রেইন একেবারে পুরোপুরি গড়ে উঠেছে, চিন্তাভাবনা এবং যুক্তির জন্য যাদের ব্রেইনের ফ্রন্টাল লোব ফাংশন পুরোপুরি কাজ করে, তাদের জন্য তৈরি করা। আমাদের শিশু, স্কুলগামী ছোট ছোট বাচ্চাদের কিন্তু এই সামর্থ্য পুরোপুরি নেই, তাই তাদের ভুল কাজের জন্য তাদের শাস্তি দেয়া ঠিক নয়। এমনকি কোনো কাজ তারা একেবারে শেষ না করা পর্যন্ত এর ফল সম্পর্কে তারা মোটেই চিন্তা করতে পারে না। উদাহরণ দিলে ব্যাপারটা আরও স্পষ্ট হবে - দাবাড়ুরা যেমন খেলার সময় বেশ অনেকগুলো চাল এবং তার ফল আগে থেকেই চিন্তা করতে পারেন।

কোন কোন পরিস্থিতি আপনি শিশুকে শাস্তি না দিয়েও সেই পরিস্থিতি সামাল দিতে পারেন, তা আমাদের জানা থাকা ভালো: অসম্মান করা, পেছনে কথা বলা বা কঠোর আচরণ করা; মিথ্যা কথা বলা; সহযোগিতা করতে না চাওয়া; শিশুকে বাইরে নিয়ে যাওয়া এবং তাকে বাইরের কাজ (ভলান্টারি কাজ, বাগানের কাজ, খেলাধুলা, কেনাকাটা ইত্যাদি)-এ যুক্ত করা (এমনকি খেলার সময় যদি যে আসতে না চায়, তখন তাকে বলা যে - আমি জানি তুমি থাকতে চাও, তুমি অনেক মজা পাচ্ছ, কিন্তু আমাদের তো বাসায় যেতে হবে। এটাও তাকে সহানুভূতির সঙ্গে বলা, টেনে হিচড়ে নিয়ে যাওয়া নয়); হোম
Write Comment Please Login
If you have something to say or share, blog is the right place for you. You don't need to be a BLOG member to contribute.
Please register here. It's Free!!
Username
Password
Forgot login info?
Welcome Message
Mountaineering Biography
Personal Biography
Photo Gallery
Video Gallery
Musa Ibrahim's official website (www.musaibrahim.com.bd) launched on December 03
DU authority conferred 'Blue' award to Musa Ibrahim
Musa Ibrahim accorded DU Alumni Association reception
Musa Ibrahim's photo exhibition titled 'Bangladesh on top of the Everest'
Institute of Education & Research (IER), University of Dhaka is conferring reception to Musa Ibrahim
Musa Ibrahim's photo exhibition titled 'Bangladesh on top of the Everest'
Home About Musa Gallery You can do it Press Release Blog Forum FAQ Contact