Facebook   Twitter   LinkedIn   Youtube   Wikipedia
30 Dec 2014
আমরাও ফটোশপ শিখতে মন চায়
এভারেস্ট অভিযান একটা অনন্য বিষয়। এই অভিযানে সবাই যেতে পারে না। অনেকে বলেন - It's not a cup of tea for everybody। এখন পর্যন্ত প্রায় চার হাজার জন মানুষ ছয় হাজারের চেয়ে বেশিবার এভারেস্ট জয় করেছেন। তার মানে সহজ হলে - ব্যাপারটা সহজ হলে আন্ডা-বাচ্চাও ঘরে এসে বলতো - daddy, mummy, I had been to Everest। যেনো ছেলের হাতের মোয়া। ব্যাপারটা যে আসলেই তা নয়, তা ১৯৫৩ সালের ২৯শে মে স্যার এডমন্ড হিলারি আর তেনজিং নোরগে প্রথম ব্যক্তি হিসাবে এভারেস্ট জয়ের পর হিসাব করে দেখা গেল - তেনজিং নোরগে তার সপ্তমবারের প্রচেষ্টায় এভারেস্ট জয়ের ক্ষেত্রে সফল হয়েছেন। তাঁর এই মহান অর্জনের কথা ভেবে আমার এভারেস্ট অভিযানের সময় আরোহণ করতাম আর ভাবতাম: আমি কোন ছার যে একবারের চেষ্টায় সফল হতে পারবো!

তবে মনের মধ্যে জিদ ছিল - যদি একজনও এইবার এই সিজনে সফল হতে পারেন, তাহলে সেই কাজটা আমিও পারবো। সেটা আমাকেও পারতেই হবে। এই জিদটাই আসলে আমাদের লাল-সবুজ জাতীয় পতাকাকে পৌঁছে দিয়েছিল এভারেস্ট চূড়ায়। (এখানে কোনো অধ্যাবসায়-টসায় এর মতো ফালতু কোনো বিষয় নাই। আমি তো আর তেনজিং নোরগের মতো সাত-সাতবার চেষ্টা করি নি। আসলে এভারেস্ট এখন এতোটাই সহজ হয়ে গেছে। অনেকে তো আবার বলছেন বাসায় বসেই এভারেস্ট জয় করা যায়, ফেসবুক তো আছেই।)

অনেকে জিজ্ঞাসা করেন, আপনার এভারেস্ট জয়ের পেছনে কার প্রেরণা সবচেয়ে বেশি? এই প্রশ্নের উত্তরে অনেক এভারেস্টজয়ীকে বলতে শুনেছি - "সবার আগে আমার বাবা-মা, পরিবারের সদস্য। তারপর ক্লাবের অমুক, তমুক আমাকে প্রেরণা যুগিয়েছেন।" কিন্তু আমি পরিবারের কারো ধার ধারি না, কারণ শেষ দিকে আমার স্ত্রী Ummey Sharaban Tahura , (আরেকজনের নাম বলতে ভুলে গেছি, একেবারে সবশেষে আমার বোন Noor Ayesha) ছাড়া আর কেউই এই এভারেস্ট অভিযানটা মেনে নিতে পারেননি (এইটা আমার সবচেয়ে বড় ভুল এবং বাইরের মানুষ আমাকে এই ভুলটা চোখে আঙ্গুল দিয়ে ধরিয়ে দেন)। এর পাশাপাশি মুনির হাসান আমাকে বারবার জিজ্ঞেস করতেন - আমরা কবে যাচ্ছি এভারেস্টে? তাঁরা ছাড়া যিনি এবার যার অবদান সবচেয়ে বেশি আমার এই এভারেস্ট-এ জিদ নিয়ে যাওয়ার পেছনে - তিনি এক অসামান্য মেধাবী, সুবচন, নিপাট ভদ্রলোক, পাখি বিশারদ - ইনাম আল হক। তিনি তার বাহিনী নিয়ে নেমে পড়লেন এই এভারেস্ট জয়ের প্রশংসায়।

পর্বতারোহণের গুরু ইনাম আল হকের কথা আমি এতোদিন বলি নি। বলিনি কারণ - আমি ভেবে নিতাম যে যেহেতু তিনি গুরু, সুতরাং তিনি তার সাগরেদের মনোভাব বুঝবেন। কিন্তু দু:খের বিষয় - তিনি বোঝেন নি। আর তার সেই মনের কথাটা তিনি একটা প্রচার মাধ্যমকে বলেও ফেললেন। হয়তো তিনি রাগ করেছেন - তার অবদানকে স্বীকার করিনি, এজন্য। আমাকে তিনি ভুল প্রমাণ করেছেন। যাই হোক। আজ তো বললাম। আরও বলছি: তিনি এসএমএস করে বলেছিলেন: আনিস ভাই, মুসাকে নিরুৎসাহিত করাটা আমি ঘৃণা করি, কিন্তু তাঁর পাঁচটি কমতি আছে, যা আমরা উপেক্ষা করতে পারি না: এক. তাঁর চায়না রুট দিয়ে কোনো অভিজ্ঞতা নেই, দুই. ৭০০০ মিটার ও ৮০০০ মিটার (পর্বত) অভিযান করেননি, তিন. এ কারণে শরীর সেই উচ্চতার সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর কোনো সময় পার করেননি, চার. মোহিতের সঙ্গে মেলবন্ধন তৈরির সময় খুব কম, পাঁচ. এখন শেরপা গাইডদের সঙ্গে ?যুক্ত? হওয়ার সময় নেই। এখন দয়া করে পরামর্শ দেন যে এ কথাগুলো তাঁকে আশাহত না করে কীভাবে বলা যায়? ইনাম।[আনিস ভাই, আই হেট টু ডিসুয়েড মুসা, বাট হি হ্যাজ ফাইভ মাইনাসেস উই ক্যান নট ওভারলুক: ওয়ান, হ্যাজ নো এক্সপেরিয়েন্স অন চায়না রুট, টু. হ্যাজ নট ডান ৭০০০ মিটার অ্যান্ড ৮০০০ মিটার (মাউন্টেন), থ্রি. ফলোয়িং নো বডি-টিউনিং রেজাইমে, ফোর. হ্যাজ লিটল টাইম ফর র্যাপোর্ট উইথ মোহিত, ফাইভ. হ্যাজ নট টাইম টু ?লিংক? উইথ শেরপা গাইড্স নাউ। প্লিজ সাজেস্ট হাউ টু টেল হিম অল উইদাউট ডিফিউজিং হিম। ইনাম]

সুতরাং ইনাম আল হকের এই ভুল ধারণা (হাইপোথিসিস) ভাঙ্গানোর দায়টা এসে পড়লো এবং এভারেস্ট জয় করে প্রমাণ করতে হলো যে তিনি ভুল বলেছিলেন। সেটা অবশ্য এতো ঠাট মেরে বলার কিছু নেই - এটা বুঝি। কিন্তু এখন বলার উদ্দেশ্য হলো - সেই দায়টা স্বীকার করা। ইনাম ভাই, আপনিই সেই ব্যক্তি, যার জন্য আমি এভারেস্টে গিয়েছিলাম। সত্যি বলছি, অন্য অনেকেই আমার সামর্থ্য নিয়ে, আমাদের স্বপ্ন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল (এখন আপনাদের বদান্যতায় আবারও তুলছে)। কিন্তু আপনি হয়তো এমন করে না বললে, এভাবে এসএমএস না করলে আমি এভারেস্টে যাওয়ার মতো ত্যাদোড় হতাম না। আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ যে আপনি আমার মধ্যে সেই স্পার্কটা তৈরি করে দিয়েছিলেন।

সেই এভারেস্ট যখন ১৬ কোটি বাংলাদেশী'র সবার শুভকামনায় (মনে হয় ভুল বললাম, কয়েকজনের ছাড়া) ২০১০ সালের ২৩শে মে জয় করলাম, সবাই খুশি হলেন (কয়েকজন ছাড়া)। ইনাম ভাইও যে খুশি হয়েছিলেন, এটা কেন যেন আমি বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। কিন্তু তিনি যখন সশরীরে আমাকে অভিবাদন জানাতে প্রথম আলো কার্যালয়ে চলে এসেছিলেন, তখন আমার বিশ্বাস না করে উপায় ছিল না। সত্যি ব্যাপার হলো - নিজেকে আমি বহুবার প্রশ্ন করেছি - ইনাম আল হকের মতো একজন বড় মানুষ, একজন সুশীল পাখি বিশারদ, অ্যাডভেঞ্চারে উৎসাহদাতা তো নিজের বাসা থেকেই অভিনন্দন জানাতে পারতেন। কিন্তু তিনিই যখন প্রথম আলো কার্যালয়ে চলে এসেছেন আমার মতো একজন ছোট মানুষকে সামান্য কাজে অভিনন্দন জানাতে, তখন ভাবছি - আমি দেশের জন্য একটা বড় কাজই করেছি বটে। আপনাদের সবাইকে অনেক অনেক ধন্যবাদ। আমি আপনাদের, ইনাম ভাই আপনার - ঋণ আবারও স্বীকার করে নিচ্ছি। কথায় বলে বড় প্রেম দূরেও ঠেলে দেয়। তাই মনে হয় ইনাম ভাইয়ের ঋণ আগেরবার স্বীকার না করায় তিনি রাগ করেছিলেন, কয়েকটা প্রচার মাধ্যমে যা প্রকাশও পেয়েছে। যাই হোক, ব্যাপার না। আমরা আমরাইতো।

তবে ওই কয়েকজন - যারা খুশি হতে পারেন নি, তাদের কাজকর্ম সত্যিই অসাধারণ। এদের কেউ কেউ আবার চেইন মেইল করে বললেন - একশ একটা কারণ আছে যে মুসা ইব্রাহীম এভারেস্ট জয় করেন নি। সাধারণ মানুষ লাফায় - কেমনে, কেমনে? তিনিও বলেন - "এই যে প্রথম কারণ: বৃষ্টিতে ভিজে গিয়েছিল দেখে বারুদ জ্বলে নি, গোলাবর্ষণ হয় নি। বাকি কারণগুলোও কি বলতে হবে?" সবাই বলে - লাগবে না, লাগবে না।

এই মেইলের ঠ্যালায় এক সাংবাদিক আমাকে সন্দেহমাখা প্রশ্নই করে ফেললেন - মুসা, আপনি সার্টিফিকেট পাবেন তো? তার প্রশ্ন শুনে আমি হেসে গড়াগড়ি যাই। বলি - আপনাদের কাছে আর কোনো ইস্যু আছে? আমার প্রশ্ন শুনে তিনি আমতা আমতা করেন। সেই মেইলপ্রেরক আর তার গুরু আবার নেপালে এবং হিমালয়ান ডেটাবেইস পরিচালনা করেন যারা, তাদের কাছেও ইনিয়েবিনিয়ে একটা ই-মেইল করেছিলেন (প্রমাণ আছে)। আমার এভারেস্ট জয়ের ছবি পাঠিয়ে লিখেছিলেন: এগুলো এভারেস্ট জয়ের ছবি হতে পারে না এবং আমি যেহেতু সাংবাদিক, সুতরাং আমি মানুষকে ধোকা দিয়েছি। কিন্তু যেহেতু হিমালয়ান ডেটাবেইস কর্তৃপক্ষ জোরালোভাবেই উত্তরে বলেছিল যে ওই ছবিগুলো এভারেস্টের, এ নিয়ে তাদের (হিমালয়ান ডেটাবেইস) কোনো সন্দেহ নাই, সুতরাং তাদের (ই-মেইল প্রেরকদের) অভিযোগ আমলে নিচ্ছেন না।

সেই সাংবাদিকের আর কোনো ইস্যু ছিল না। কিন্তু অন্যদের কাছে ছিল। ছিল যে - তার প্রমাণ ব্লগ। তখনও ফেসবুক ততোটা জনপ্রিয় হয়ে উঠে নি (মানে এখনকার মতো)। ব্লগে তো পারলে আমাকে এভারেস্ট থেকে তখনি নামিয়ে ফেলে। ছবি নিয়ে তাদের সন্দেহ (হাল আমলে এমএম মুহিত, নিশাত আর ওয়াসফিয়া অবশ্য বলা শুরু করেছেন - তারা আমার এভারেস্ট জয়ের কোনো গল্প পান না। অবশ্য পাইতে না চাইলে কার বাপের সাধ্য তাদেরকে গল্প পাইয়ে দিবেন বা তারা গল্প পাবেন। এ নিয়ে বহু সম্মানীয় মানুষ যখন আমাকে প্রশ্ন করেন- কি মুসা, তোমার এভারেস্ট জয়ের গল্প তারা না কি পায় না? কই, আমরা তো পাই তোমার বইয়ে, তোমার ওয়েবসাইটে। তখন মুখে হাসি এনে বলি - স্যার, ওনাদের মতো করে তো আর এভারেস্টে যাই নি, তাই তাদের সঙ্গে মেলে না, তাই তারা কমন পান না, তাই তারা গল্প পান না বা পাইতে চান না। কেউ অবশ্য বলে না যে ওই তিন জনের ছবি বা গল্প কোথায়? তাদের ছবি বা গল্পের কথা কেউ বলে না।) তাদের এই সন্দেহ দূর করতে বন্ধুবর বড় ভাইকে আমার এভারেস্ট অভিযানের প্রায় অর্ধসহস্র ছবি দিয়ে এলাম, কারণ তিনি ছবি নিয়ে তার বন্ধুস্থানীয় আরেকজনের সঙ্গে যাচাইবাছাই করতে চেয়েছিলেন। আরও অনেকে এই যাচাইবাছাই করলেন। যে ব্লগে তারা সন্দেহ করেছিলেন, এই পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তারাই আবার বললেন - "কারো প্ররোচণায় নয়, বরং সাধারণ বুদ্ধিজ্ঞানের বশবর্তী হয়ে আমরা সন্দেহ করেছিলাম, আমরাই এখন নি:সন্দেহ হলাম"।

এই সন্দেহ করা আর নি:সন্দেহ হওয়া - এই আলাপের মাঝখানে যিনি হালকা চালে টোকা মারতেন বোঝার জন্য যে, তাকে সেই ব্লগার কাছে টেনে নিবেন না আগের মতোই দূর দূর করে তাড়িয়ে দিবেন, তিনি সেখানেই সীমাবদ্ধ ছিলেন। কারণ, তাকে তখন হালকা ঝাড়ি দেয়া হয়েছিল। এখন অবশ্য তাকে আবার কাছে টেনে নিয়েছেন সেই ব্লগার। আর তাতেই তিনি উদ্দীপ্ত হয়ে তার টাইমলাইনে এক অসামান্য মূষিক প্রসব করে বসলেন। তিনি অমি রহমান পিয়াল। অনেকে তাকে বহু নামে বিশেষায়িত করতেন (সেগুলো আর না বললাম)। তার সেসবকিছুই আমি ইগনোর করে গিয়েছিলাম - কারণ তিনি মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে গবেষণা করেন - এই যোগ্যতায়। এই অমি রহমান পিয়াল ভাইকে তাই আমি শ্রদ্ধা করি। তার যোগ্যতা নিয়ে আমার কখনোই সন্দেহ হয় নি।

তো ফেসবুকরে এই যুগে অমি রহমান পিয়াল যে নিজ নামে আমার মতো ক্ষুদ্র মানুষকে নিয়ে স্ট্যাটাস দিলেন - তাতেই আমি ধন্য। সে কারণেই এখন কিছু কথা না বললেই নয়: অনেকে বলতেন, পিয়াল ভাই মাদক নেন। এটা আমি বিশ্বাস করতাম না। এ কারণেই প্রথম আলো অফিসে যখন আমি প্রদায়ক (এই টার্মটার কোনো সহজ বাংলা আমি আমার এই জীবনে খুঁজে পাই নি) আর তিনি স্টেডিয়াম পাতার সম্পাদক, এবং সেই সময়ে যখন সাত সকালে অফিসে এসে তিনি আমার কাছে টাকা চাইতেন এই বলে যে- "আপনার হবু ভাবীর জন্য কিছু করেন", আর সেই কিছু টা যে টাকা ধার দেয়া, সেটা তিনি খৈনীগ্রাহকদের মতো হাত কচলাতে কচলাতে বলতেন, তখন তার কাছ থেকে পার পাওয়াটা টাফ ছিল। প্রথম প্রথম এটা ভেবে মজা লাগতো বা নিজেকে অনেক বড় ভাবতাম এ্ই মনে করে যে - যাক, একজন পাতার সম্পাদক আমার কাছে টাকা চাইছে। আবার পকেটে টাকা আছে, কিন্তু তাকে যে মিথ্যা বলবো - যে আমার কাছে টাকা নাই, এই লজ্জার কাছেও হেরে যেতাম। পরে আবার টাকা ফেরত চাইতে হতো তার কাছে - এটাও আমার কাছে যারপরনাই আরেকটা লজ্জার বিষয় ছিল। যাই হোক পিয়াল ভাই বলতেন, "আরে মিয়া টাকা তো ধার দিতাছেন, ফেরতও পাইবেন।" ফলে আমার মতো ছা-পোষা প্রদায়ক তাকে টাকা ধার না দিয়ে যাওয়ার কোনো উপায় ছিল না।

যাই হোক - অন্যের কাছ থেকে এই টাকা ধার দেয়া আর ফেরত নেয়া যে তার ক্যারিয়ারে বিরাট প্রভাব ফেলবে, সেটা আমি কখনোই ভাবি নাই। এর মাঝখানে টাকা ধার দেয়ার সুবাদে বেশ একটা খাতির গড়ে উঠলো। তিনি আমাকে লেখা দিতে শুরু করলেন। আমি সেগুলো খেটেখুটে লিখলামও। পিয়াল ভাই রিফাত বিন সাত্তারের ইন্টারভিউ করতে দিলেন ( ২০০১ বা ২০০২ সাল, সঠিক মনে নেই, আরও পরে হতে পারে)। যেতে হবে নারায়ণগঞ্জে, তখন প্রিমিয়াম এসি বাসের যুগ। আমার মতো দু'পয়সার লেখক সেই বাস ভাড়া যোগাড় করে বহু ঘাম ঝড়িয়ে রিফাত বিন সাত্তারের ইন্টারভিউ নিলাম। লিখেও দিলাম।

এই ফাঁকে তার টাকা ধার নেয়া চলছেই। একদিন লেখার বিল পেয়েছি। আর সামনে পিয়াল ভাই। বলেই বসলেন - দেন দেখি দুই হাজার টাকা (আমরা যারা ওই সময়ে লেখালেখি করি, তারা জানি যে লিখে দু'তিন হাজার টাকা যোগাড় করা কতোখানি কঠিন কাজ)। নানা ফন্দিফিকিরের পরও যখন তাকে সেবার টাকা দেই নি, তিনি বেশ রাগ করে বলেছিলেন - "মুসা, কাজটা বোধ হয় ঠিক করলেন না"। এর আগে থেকেই অবশ্য আমার নামের পাশে সিল পড়ে গেছে - ত্যাদড়। সুতরাং ভাব দেখিয়ে বুঝিয়ে দিলাম - কি আর করবেন, স্টেডিয়ামে লিখতে দিবেন না, এটাই?

কিন্তু তিনি যে এর চেয়েও বড় নকশা আঁকছেন, সেটা তো আর বুঝতে পারি নি। যাই হোক তিনি আরও দুইটা লেখা লিখতে বললেন - একটা ঢাকার স্টেডিয়ামগুলো নিয়ে, আরেকটা দাবাড়ু জিয়াকে নিয়ে। স্টেডিয়াম নিয়ে লেখার তথ্য যোগাড় করতে গিয়ে দুই সপ্তাহ সময় লাগলো। এর মাঝে জিয়ার ইন্টারভিউটাও নিলাম।

এবার লেখা শুরু করলাম। প্রথম লেখা পিয়াল ভাই ফেলে দিলেন। বললেন, রি-রাইট করতে । স্টেডিয়ামের লেখাটা অনেক বড় ছিল - তাই চোখে সর্ষে ফুল দেখা শুরু করলাম। কিন্তু পাতার সম্পাদক বলে দিয়েছেন - সুতরাং লিখতেই হবে। আবার লিখলামও। কিন্তু তার পছন্দ হলো না। আবারও রি-রাইট করতে বললেন, ইন্ট্রো টা সুন্দর করে লিখতে বললেন। এটাও বললেন যে - তিনি যেকোনো লেখা লেখার আগে শীর্ষেন্দু'র লেখা পড়েন। তারপর লিখলে তার লেখা সুন্দর হয়। তখন আমার ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি অবস্থা - এতো কিছু বোঝার অবস্থা নাই। ফলে তার কথা এক কান দিয়ে ঢুকল, আরেক কান দিয়ে বের হয়ে গেল। তারপরও লিখলাম। এবার তিনি বললেন - ঠিক আছে, বাকিটা তিনি ঠিক করে নিবেন। আমার জানের ওপর থাকা পাথরটা যেমন নেমে গেল।

লেখাগুলো এই ছাপা হচ্ছে, হবে করে তিনি আরও সময় নিলেন। পাতার সম্পাদককে লেখা কবে ছাপা হবে - এটা জিজ্ঞেস করতে যাওয়াটাও অভব্যতা। তাই তাকে আর জিজ্ঞাস করি না। কিন্তু দেখা হলে তিনি নিজে থেকেই বলেন - ছাপা হচ্ছে।

একদিন ছাপা হলো। পত্রিকা অফিসে সাপ্লিমেন্টারি পাতা একদিন আগেই ছাপা হয়ে যায়। সেদিন রাতেই মতি ভাই (মতিউর রহমান) ডেকে পাঠালেন। পিয়াল ভাই সহ গেলাম মতি ভাইয়ের কাছে, ভয়ে ভয়ে - কি না কি ঝাড়ি খেতে হয়! কিন্তু অবাক করে দিয়ে তিনি প্রশংসা করলেন - বিশেষ করে স্টেডিয়াম নিয়ে লেখাটার। কিন্তু সেটা বাই নেম -এ ছাপা হলো না কেনো, প্রশ্নটা করে বসলেন মতি ভাই। জবাবে পিয়াল ভাই বললেন - ওর আরেকটা লেখা (দাবাড়ু জিয়ার ইন্টারভিউ) আছে বাই নেম-এ। সেটার কারণে লিডে নাম দেন নি তিনি। মতি ভাই বললেন, সক্ষেত্রে লিডে নাম দিয়ে সেকেন্ড লিডে নাম না দিলেই হতো। এবার পিয়াল ভাই আমতা আমতা করতে শুরু করলেন।

আসল ঘটনা জানতে পারলাম এক দিন পর। অফিসে আসা মাত্রই পবিত্র কুন্ডু দা ধরে বসলেন - আপনি মুসা ইব্রাহীম? বললাম - জি, কেনো? পারলে ঠান্ডা মেজােজর মানুষ পবিত্রদা সেখানে চোখের আগুন দিয়ে আমাকে ভস্ম বানিযে ফেলেন। তিনি বললেন - তার লেখা আমি মেরে দিলাম কেনো? এবার আমার আকাশ থেকে পড়

[মূল লেখা: https://www.facebook.com/notes/musa-ibrahim/%E0%A6%86%E0%A6%AE%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%93-%E0%A6%AB%E0%A6%9F%E0%A7%8B%E0%A6%B6%E0%A6%AA-%E0%A6%B6%E0%A6%BF%E0%A6%96%E0%A6%A4%E0%A7%87-%E0%A6%AE%E0%A6%A8-%E0%A6%9A%E0%A6%BE%E0%A7%9F/10155030638857355]
Write Comment Please Login
If you have something to say or share, blog is the right place for you. You don't need to be a BLOG member to contribute.
Please register here. It's Free!!
Username
Password
Forgot login info?
Welcome Message
Mountaineering Biography
Personal Biography
Photo Gallery
Video Gallery
Musa Ibrahim's official website (www.musaibrahim.com.bd) launched on December 03
DU authority conferred 'Blue' award to Musa Ibrahim
Musa Ibrahim accorded DU Alumni Association reception
Musa Ibrahim's photo exhibition titled 'Bangladesh on top of the Everest'
Institute of Education & Research (IER), University of Dhaka is conferring reception to Musa Ibrahim
Musa Ibrahim's photo exhibition titled 'Bangladesh on top of the Everest'
Home About Musa Gallery You can do it Press Release Blog Forum FAQ Contact