Facebook   Twitter   LinkedIn   Youtube   Wikipedia
30 Dec 2014
চলুন যাই বাংলা চ্যানেল সাঁতরে :: ২০১২
১৩ মার্চ, ২০১২

কাজী হামিদুল হক প্রায়ই একটা কথা বলতেন। ?রাস্তায় গাড়ি চাপায় মারা যাওয়ার মধ্যে গৌরবের কিছু নেই। আই উড বেটার বি ইটেন বাই এ শার্ক?।

বঙ্গোপসাগর নিয়ে তার এই মন্তব্য। তার মতে, কাপুরুষের মতো মৃত্যু কারও কাম্য হওয়া উচিত নয়। এ জীবনে যা কিছু করতে হবে, সেটাও বীরের মতোই করা ভালো।

তাই তো। যা কিছু করবো, বীরের মতোই করতে হবে। বাংলাদেশ পানির দেশ। সেই দেশের মানুষের জীবন কতো ঘটনায়, দুর্ঘটনায়, তুচ্ছ কারণে শেষ হয়ে যায়। একটা যদি উদাহরণই তৈরি করে যাওয়া না গেল, তাহলে আর এ জীবনে বেঁচে থেকে কি লাভ?

কাজী হামিদুল হক আরও বলেন, আমাদের ভবিষ্যতও এই সমুদ্র। এর সম্পদ, এর বিশালত্বের মধ্যেই বাংলাদেশের ভবিষ্যত সম্ভাবনা। সেই বঙ্গোপসাগরের টেকনাফ থেকে সেন্ট মার্টিন দ্বীপ পর্যন্ত সমুদ্র চ্যানেলটুকু কিভাবে সাঁতরে পাড়ি দেয়া যায় - এমন উচ্চভিলাষী ভাবনাও তিনি সবার কাছে উপস্থাপন করলেন। এখানে এমন সাঁতারের কোনো উদাহরণ নেই। সুতরাং তার এ কথাতে কান দেয়ার মতো বিবেচকও কেউ নন! স্বাভাবিকভাবেই তার পাগলামি ২০০২ সালের দিকে তেমন পাত্তা পেল না। কিন্তু ২০০৪ সালে সেই কাজী হামিদুল হক একটা জিনিস করে দেখালেন। তিনি চট্টগ্রামের জাহাজ ভাঙ্গা শিল্প এলাকা থেকে একটা লাইফ বোট আর ইঞ্জিন সংগ্রহ করে তার নিজের নৌকার আকার দিতে শুরু করলেন। সেই নৌকায় করে ১৫ জন অভিযাত্রী ঢাকার সদরঘাট থেকে ২০০৪ সালের ২৩ ডিসেম্বর মাসে টানা ১০ দিন চলে ১ জানুয়ারি সেন্ট মার্টিন দ্বীপে পৌঁছালেন। সেই দলে আমিও ছিলাম।

টেকনাফ থেকে সেন্ট মার্টিন সাঁতরে পাড়ি দিতে হবে, আরেকভাবে এই চ্যালেঞ্জ জয় করতে হবে, মানুষের সামর্থের মাধ্যমে এই প্রতিকূলতাকেও করায়ত্ত করতে হবে- এই ভাবনার বীজ তিনি ছড়িয়ে দিলেন লিপটন সরকার, ফজলুল কবির সিনা আর সালমান সায়ীদের মধ্যে। প্রথম দু?জনের গড় বয়স চল্লিশ আর সালমানের বয়স বিশের কিছু বেশি। এদেরকেই হামিদুল হক প্রস্তুত করতে শুরু করলেন প্রায় সাড়ে এগার কিলোমিটার এই দীর্ঘ সমুদ্রপথ সাঁতরে পাড়ি দেয়ার জন্য। কিন্তু কেউই পেশাদার সাঁতারু নন। হামিদুল হকের চ্যালেঞ্জটাই এখানে। সাধারণ মানুষকেও একটা নির্দিষ্ট লক্ষ্যের জন্য গড়ে-পিটে যোদ্ধায় পরিণত করার কারিগর তিনি। স্নোরকল সরঞ্জাম ব্যবহার করে তারা ২০০৬ সালেই এই বাংলা চ্যানেল বধ করলেন। সময় লেগেছিল প্রায় পাঁচ ঘণ্টা। তাদের এই পাগলামি (?) দেখে আমিও তাদের সহগামী হতে চেয়েছি ২০০৯ সাল থেকে। কিন্তু বিভিন্ন ব্যস্ততায় তাদের মতো হতে পারি নি। বাংলা চ্যানেল আর সাঁতরে পাড়ি দেয়া হলো না।

এরপর এভারেস্ট জয় করেছি ২০১০ সালের ২৩ মে। এবার ফের ভাবনায় উদয় হলো বাংলা চ্যানেল। ২০১১ সালেই এই চ্যানেল পাড়ি দেয়ার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করেছি। বহু প্রতিষ্ঠান ও মানুষের সহযোগিতায় সেবার ৯ মার্চ বাংলা চ্যানেল পাড়ি দিয়েছি। পর্বতারোহী হিসাবে এভারেস্ট জয় এবং স্নোরকল সাঁতারু হিসাবে বাংলা চ্যানেল সাঁতারের একমাত্র কৃতিত্ব তখন আমার কাছে।

২০১১ সালে বাংলা চ্যানেল পাড়ি দেয়ার পর থেকেই মাথায় একটা চিন্তা ঘুরছিল। সেটা হলো ইংলিশ চ্যানেলের মতো বাংলা চ্যানেলকেও একটা ?লং ডিসটেন্স সুইমিং চ্যানেল? হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করা যায় কি না। কাকতালীয়ভাবে তখন নেদারল্যান্ডের ভ্যান গুল মিলকো ও ইতালীয় ফেরার টুলিও?র সঙ্গে পরিচয়। জানতে পারলাম, তারা সে বছরই ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিবেন। জুলাই মাসে তারা সেই চ্যালেঞ্জ পাড়িও দিলেন। এর পরপরই তাদের বাংলা চ্যানেল পাড়ি দেয়ার আহ্বান জানালাম। তারা রাজি হলেন এবং আগামী ১৭ মার্চ আমরা ফের টেকনাফ থেকে সেন্ট মার্টিন দ্বীপ পর্যন্ত সাঁতরে পাড়ি দিতে চাই। লিপটন সরকার এর আগে ছয়বার বাংলা চ্যানেল সাঁতরে পাড়ি দিয়েছেন। আর আমি সাঁতরেছি শুধু গত বছর।

মানুষের কাজ যে শুধু ন?টা-পাঁচটা অফিস করা নয়, সন্তান পেলেপুষে বড় করা নয়, এসবের পাশাপাশি যে আরও অনেক কিছু করা যায়- সেটাই আমরা করে দেখাতে চাই। ভ্যান গুল মিলকো এদেশেই একটা বিদেশী প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। তার স্ত্রী ও চার সন্তান রয়েছে। ফেরার টুলিও বিবাহিত এবং একটি গার্মেন্টস শিল্পে তিনি কর্মরত। লিপটন সরকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অন্যতম কর্ণধার এবং তিনিও বিবাহিত। আমি চ্যানেল টোয়েন্টি ফোরে কর্মরত এবং আমার স্ত্রী ও এক সন্তান রয়েছে। তাহলে? আসলে আমরা একটা গোলক ধাধায় পড়ে আছি। একটা মানসিক বৃত্তবন্দী আমরা। এই বাইরে চিন্তা করতে গেলেই মনের আরেক কোণ থেকে বাধা এসে পড়ে- পাছে লোকে কিছু বলবে না তো? নিজেই নিজেকে হয়তো বলি- ধুর, এটাও আবার সম্ভব না কি?

এই ?আগাম নেতিবাচক? মানসিকতা থেকে আমি বের হয়ে আসতে চাই। সবাইকে বলি - আমার কাজ হচ্ছে এই চ্যালেঞ্জপূর্ণ বিশ্বে মানুষকে সাফল্যের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়া। সেটাই আসলে করে দেখানোর সময় এটা। আমাদের এবারের আয়োজন ?প্রথম আন্তর্জাতিক বাংলা চ্যানেল ম্যারাথন সাঁতার ২০১২?।

আমরা সমুদ্রের লোনা পানি কেটে টেকনাফের ফিসারিজ জেটি থেকে সেন্ট মার্টিন দ্বীপের জেটি পর্যন্ত ১০ মাইল বা ১৬ দশমিক ১ কিলোমিটার সমুদ্রপথ পাড়ি দিতে নামব। আর গতকালই আমরা ঢাকা থেকে এ উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিয়েছি সেন্ট মার্টিন দ্বীপের পথে। কোচ হিসাবে ছিলেন কাজী হামিদুল হক।২০১১ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের শেষ স্থলভাগ টেকনাফের শাহপরী দ্বীপের বদর মোকাম থেকে সেন্ট মার্টিন দ্বীপের জেটি পর্যন্ত সাড়ে এগার কিলোমিটার সমুদ্রপথ সাঁতরে পার হতেন বাংলা চ্যানেল সাঁতারুরা। কিন্তু এবার টেকনাফের ফিসারিজ জেটি থেকে সেন্ট মার্টিন দ্বীপের জেটি পর্যন্ত প্রায় ১০ মাইল বা ১৬.১ কিলোমিটার সমুদ্রপথ সাঁতরে পার হবেন। ফেডারেশন ইন্টারন্যাশনাল ডি নেটেশন - ফিনা?র (http://www.fina.org) তথ্য মতে উন্মুক্ত পানিতে ন্যূনতম ১০.৫ কিলোমিটার পথে সাঁতারই ম্যারাথনের সমান। সে হিসাবে এবারের সাঁতার পূর্ণদৈর্ঘ্য ম্যারাথনের চেয়েও বেশি।লিপটন সরকার ও ভ্যান গুল মিলকো প্রথমবারের মতো এই বাংলা চ্যানেল একই সঙ্গে ?ডাবল ক্রস? করবেন। টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিন পর্যন্ত সাঁতরানোর সময় লাগতে পারে আনুমানিক ৫ ঘণ্টা। আর ডাবল ক্রসিংয়ে সময় লাগতে পারে আনুমানিক ১০ ঘণ্টা। লিপটন সরকার আর আমি স্নোরকল সরঞ্জাম ব্যবহার করে এবং ইংলিশ চ্যানেল সাঁতারুরা ?ফ্রি হ্যান্ড? স্টাইলে সাঁতরাবেন।

ও, হ্যাঁ। বাংলাদেশে প্রতি বছর বিশ হাজার শিশু পানিতে ডুবে মারা যায়। এসব ঝুঁকিতে থাকা চার বছর এবং তদুর্ধ্ব বয়সী শিশুকে সাঁতার শেখানোর সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ, বাংলাদেশ-র আয়োজন ?সুইমসেইফ প্রজেক্ট? - এ সহায়তাও করা হবে এবারের ?প্রথম আন্তর্জাতিক বাংলা চ্যানেল ম্যারাথন সাঁতার ২০১২?-এর মাধ্যমে।এবারের সাঁতারে মিডিয়া পার্টনার হিসাবে থাকছে এবিসি রেডিও। আর পুরো আয়োজনে সহযোগিতা করছে এক্সট্রিম বাংলা, প্রফেশনালস সিস্টেমস ও নর্থ আলপাইন ক্লাব বাংলাদেশ।

আমরা বাংলাদেশকে আরেক উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার এই উদ্যোগে পুরো দেশবাসীর দোয়া প্রার্থনা করেছিলাম। আত্মবিশ্বাস ছিল যে সবার সহযোগিতা ও শুভেচ্ছায় আমরা অবশ্যই বাংলাদেশকে এক নতুন দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যেতে পারবো।



১৪ মার্চ, ২০১২

?মাছ কিন্তু সাবধানে খাইয়েন। পেটের ভেতর লাফ দিতে পারে। ওই সমুদ্রের মাছ। মাত্রই ধরে আনা হয়েছে।? দুপুরে সেন্ট মার্টিন দ্বীপের একটা নামগোত্রহীন রেস্তরাঁয় টেকচাদ আর টুনা মাছ দিয়ে খাবার খাওয়ার সময় লিপটন সরকার এ মন্তব্য করতেই সবাই হো হো করে হেসে উঠলেডন। সবচেয়ে নির্ভাবনার বিষয় হলো এখানকার তাজা মাছে ঢাকা শহরের মাছ-বাজারের মতো কোনো ফরমালিন দেয়া নেই। তাই সবাই নিশ্চিন্তে গোগ্রাসে গিলছিলেন ভাত-মাছ-ডাল। সেন্টমার্টিন দ্বীপে এই এক সুবিধা। মাছ খেয়ে আরাম।কিন্তু বাস্তবতা হলো, সেন্টমার্টিন দ্বীপের চারপাশের সমুদ্রে এখন মাছের আকাল। মাছ ধরা পড়ছে কম। রাতের বেলা যারা ট্রলার নিয়ে মাছ ধরতে যান, তারাই শুধু ভোরবেলা যা দু?চারটা মাছ এনে হাজির করেন।

গতকাল সকালেও একটা সর্বোচ্চ এগার কিলোগ্রাম কোরাল মাছ জেলেরা বিক্রি করেছে পৌনে তিনশ টাকা দরে! মাছের খনি হিসাবে পরিচিত এই সেন্টমার্টিন দ্বীপে মাছের দামও এখন চড়া।টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিন দ্বীপ পর্যন্ত বাংলা চ্যানেল সাঁতরে পাড়ি দেয়ার জন্য গত পরশু রাতে বাসে রওয়ানা হয়েছিলাম। ভোর হতে হতে কক্সবাজার এলাকা পার হয়ে এলো বাস। আর টেকনাফের পথে যখন নেমেছি, তখন পুরো সূর্য উঠে গেছে।

কক্সবাজার থেকে টেকনাফের দূরত্ব প্রায় ৮৪ কিলোমিটার। পাহাড়ি পথে এর প্রথমার্ধ আঁকাবাঁকা হলেও নতুন কার্পেট করার কারণে বেশ সাবলীল। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধ যাচ্ছেতাই। বাসের পেছনের দিকে আসন হওয়ায় এদিন সকাল বেলা বেশ ঝাঁকি খেতে হলো। অনেকেই মন্তব্য করছিলেন, কুমিল্লার রেস্তরাঁয় যারা রাতে খেয়েছেন, এই ঝাঁকিতে নিশ্চিন্তে সব হজম হয়ে যাবে। আমি বললাম, যাদের ভোরে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস নেই, যারা সকালবেলায় অফিস যাওয়ার তাড়ায় কোনো শারীরিক কসরৎ করতে পারেন না এবং দিনের কোনো সময়েও এই কসরৎ করা হয়ে ওঠে না, তারা প্রতি মাসে একবার করে অন্তত টেকনাফ পর্যন্ত বাসে ভ্রমণ করতে পারেন। তাহলেই শরীরের অনেক অংশের ব্যায়াম হয়ে যাবে।
নাফ নদী আর বঙ্গোপসাগরের মিলনমুখে পেতে রাখা মাছ ধরা জালের ওপর অলস বসে থাকা গাংচিলনাফ নদী আর বঙ্গোপসাগরের মিলনমুখে পেতে রাখা মাছ ধরা জালের ওপর অলস বসে থাকা গাংচিল

সকাল সাড়ে ন?টার দিকেই জাহাজ টেকনাফের জেটি থেকে সেন্টমার্টিন দ্বীপের উদ্দেশ্যে ছেড়ে দিল। নাফ নদী ধরে এগিয়ে চলেছে জাহাজ। পানি বেশ ঘোলা। এ সময় বহু গাংচিল এসে নাফ নদীতে ফেনা তুলে পানি কেটে এগিয়ে যাওয়া জাহাজের চারদিকে ঘুরে ঘুরে উড়ছে। কোনো কোনোটা আবার ঝপ করে পানিতে আছড়ে পড়ছে, খাবারের নেশায়। সব মিলিয়ে দেখার মতো একটা দৃশ্য। সুতরাং ভিডিও বা স্থির ক্যামেরাসহ যতো পর্যটক জাহাজে উঠেছেন, তারা সবাই ক্যামেরায় ব্যস্ত হয়ে পড়লেন। এদিন বহু শিক্ষার্থী, পেশাজীবী আর ব্যবসায়ী সেন্টমার্টিন দ্বীপ ভ্রমণে চলেছেন।কিন্তু এসব গাংচিল এভাবে জাহাজের চারদিকে ঘুরঘুর করছে কেন? একটু মাথা খাটিয়ে খোঁজ নিতেই দেখা গেল, বহু পর্যটক যারা চিপসের প্যাকেট নিয়ে জাহাজে উঠেছিলেন, তারা সবাই চিপসের টুকরা পানিতে ফেলছেন। সেটাই খাওয়ার লোভে এসব গাংচিল জাহাজের চারদিকে এমন সার্কাস দেখাচ্ছে।
সমুদ্রে গাংচিলের অবিরাম হুটোপুটি পর্যটকদের বিনোদনের মাধ্যম হয়ে ওঠেসমুদ্রে গাংচিলের অবিরাম হুটোপুটি পর্যটকদের বিনোদনের মাধ্যম হয়ে ওঠে

এমন সময় মনে পড়ল গত মাসের আর্জেন্টিনায় অ্যাকঙ্কাগুয়া পর্বতাভিযানের কথা। সেখানে অরকোনেস পার্ক গেট থেকে যেদিন অ্যাকঙ্কাগুয়া পর্বতের দিকে ট্রেকিং শুরু হয়েছিল, মিনিট দশেক যেতেই একটা প্রাকৃতিক হ্রদ সামনে এসে হাজির। সেখানে বড় বড় ঘাসে বসে, শুয়ে বহু পর্যটক তাদের সময় কাটাচ্ছিলেন। কিন্তু হ্রদের মুখেই একটা ফলকে সতর্কবাণী লেখা ছিল: পাখিদের কোনো খাবার দেয়া থেকে বিরত থাকুন। সেটা সবাই মেনে চলেছেন। আর জাহাজে গতকাল যেই না সবাইকে অনুরোধ করা হলো, পানিতে দয়া করে কোনো চিপসের প্যাকেট ফেলবেন না, ঠিক সেই মুহূর্তেই একটা চিপসের প্যাকেটকে নাফ নদীর পানিতে আশ্রয় খুঁজে নিতে দেখেছি। এই হলো উন্নত বিশ্বের পর্যটকদের সঙ্গে আমাদের পার্থক্য। আর্জেন্টিনায় সেদিন সেই হ্রদে সেদেশের পর্যটকরাই গিয়েছিলেন এবং তারা পরিবেশ রক্ষায় সব ধরনের সতর্কতা মেনে চলেন।

আর আমরা নিজেদের পরিবেশ রক্ষার কোনো উদ্যোগ, কোনো অনুরোধ, কোনো সতর্কতাই মানি না। আসলে ?আপনি বাঁচলে বাপের নাম?টাই এখন বাংলাদেশীদের সবচেয়ে বড় পরিচয়। এখানে কে কবে পরিবেশ রক্ষায় কোন কথা বা উদ্যোগের তোয়াক্কা করেছে?

তাও ভাগ্য ভালো যে এখন মাত্র দু?টি জাহাজ টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিন দ্বীপ পর্যন্ত চলাচল করছে। অর্থাৎ, এখন সর্বোচ্চ দুই থেকে তিনশ পর্যটক সেন্টমার্টিন দ্বীপে প্রতিদিন যাতায়াত করছেন। কিন্তু এবার জানুয়ারি মাসে সাতটি জাহাজ এ রুটে চলাচল করেছে। সে হিসাবে প্রায় আট হাজার পর্যটক এই দ্বীপে প্রতিদিন যাতায়াত করেছেন। তাহলে এই সমুদ্র পথ এবং সেন্ট মার্টিন দ্বীপে কি পরিমাণ বর্জ্য জমা হয়েছে? এর কোনো পরিসংখ্যান বা হিসাব তো আমাদের কাছে নেই। কিন্তু পরিবেশ ধ্বংসে আমাদের যে অভ্যাসের পটুতা, তাতে অনুমান করা যায় যে সেন্টমার্টিন দ্বীপ আর খুব বেশি দিন বাসযোগ্য থাকবে না। প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য রক্ষায় বিষয়টি তো না হয় বাদই দিলাম।

জাহাজ নাফ নদী পার হয়ে যে মাত্র সমুদ্রে পড়েছে, ঠিক তার আগে আমাদের সাঁতার শুরুর স্থানটা চোখে পড়ল। সবাই এই টেকনাফের সর্বশেষ জেটি থেকে সেন্টমার্টিন দ্বীপ পর্যন্ত সাঁতরে যেতে কি কি অবস্থার শিকার হতে পারে, সে নিয়ে আলোচনা করছিলাম। অবশ্যই বিগত বছরের অভিজ্ঞতার আলোকে। এই বাংলা চ্যানেল সবচেয়ে বেশি পাড়ি দিয়েছেন লিপটন সরকার, ছয়বার। তিনি বললেন, এখন তো পানি দেখে মনে হয় পুকুর। তেমন কোনো ঢেউ নেই। শুধু নাফ নদী আর সমুদ্রের মিলনস্থলে কিছু ঢেউ ভাঙছে।কিন্তু কুয়াশা? আমার প্রশ্ন দিয়ে তার দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করলাম। বিষয় হলো ভোর থেকেই কুয়াশাকে এই টেকনাফ এলাকায় বেশ জাঁকিয়ে বসতে দেখেছি। অবশ্য বেলা এগারটার দিকে শুধু দূর দিগন্তে সেই কুয়াশা রয়ে গেছে। ফলে অন্যান্য প্রতিবারই যেখানে টেকনাফ বা মিয়ানমারের পাহাড়গুলোকে দূর থেকে দেখা যেত, সেগুলো এদিন কুয়াশায় হারিয়ে গেল।

লিপটন সরকার বলছিলেন, প্রথমবার ২০০৬ সালে যখন তারা বাংলা চ্যানেল সাঁতরে পাড়ি দেয়ার জন্য নেমেছিলেন, সেবার কুয়াশার কারণে দিকদর্শী নৌকা পথ হারিয়ে ফেলেছিল। সে সময় তাদের নিজেদের নৌকায় থাকা অনেকেই ভুল পথ নির্দেশ করেছিলেন। তবে জেলেরা এ সমুদ্র পথের সবচেয়ে বড় দিশারী। তারা ঠিকই পথ দেখিয়েছিলেন এই সাঁতারুদের।গতকাল এই সমুদ্রপথ একেবারে ঠান্ডা। তবে গত বছর ৯ মার্চ সাঁতারের দি&#

[[মূল লেখা: https://www.facebook.com/notes/musa-ibrahim/%E0%A6%9A%E0%A6%B2%E0%A7%81%E0%A6%A8-%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%87-%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%82%E0%A6%B2%E0%A6%BE-%E0%A6%9A%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%B2-%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%81%E0%A6%A4%E0%A6%B0%E0%A7%87-%E0%A7%A8%E0%A7%A6%E0%A7%A7%E0%A7%A8-%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AC-%E0%A7%A7/1015450871778735
Write Comment Please Login
If you have something to say or share, blog is the right place for you. You don't need to be a BLOG member to contribute.
Please register here. It's Free!!
Username
Password
Forgot login info?
Welcome Message
Mountaineering Biography
Personal Biography
Photo Gallery
Video Gallery
Musa Ibrahim's official website (www.musaibrahim.com.bd) launched on December 03
DU authority conferred 'Blue' award to Musa Ibrahim
Musa Ibrahim accorded DU Alumni Association reception
Musa Ibrahim's photo exhibition titled 'Bangladesh on top of the Everest'
Institute of Education & Research (IER), University of Dhaka is conferring reception to Musa Ibrahim
Musa Ibrahim's photo exhibition titled 'Bangladesh on top of the Everest'
Home About Musa Gallery You can do it Press Release Blog Forum FAQ Contact