Facebook   Twitter   LinkedIn   Youtube   Wikipedia
30 Dec 2014
ক্যান্সার: নিজে বাঁচুন, নিজের বাবা-মা, সন্তানকে বাঁচান
ক্যান্সার কোষ আমাদের সবার দেহেই আছে। কিন্তু তা নিজে থেকেই সক্রিয় হয় না। এসব কোষকে যেসব উপাদান সক্রিয় করে, সেই তালিকায় সবার ওপরে আছে কার্বোহাইড্রেড (সাদা আটা বা ময়দা, সাদা চাল যা শরীরে গিয়ে ফ্যাট তৈরি করে, চিনির কাজ করে) ও চিনিসমৃদ্ধ খাবার (আইসক্রিম), কৃত্রিমভাবে তৈরি চিনি (সুইটেনার), ওমেগা সিক্স (Omega - 6) সমৃদ্ধ তেল, হাইড্রোজেন দিয়ে পরিশুদ্ধ সয়াবিন তেল, জেনেটিক্যালি মডিফায়েড অর্গানিজম বা জিএমও ফুড, জিএমও ফলাতে ব্যবহৃত কীটনাশক, জিএমও খাবার দিয়ে চাষ করা মাছ, গরুর মাংস ইত্যাদি।

ক্যান্সার কোষ ছেলেদের মধ্যে যকৃত বা Liver এবং কিডনিতেই (Kidney) বেশি প্রভাব ফেলে। আর মেয়েদের ক্ষেত্রে হয় ব্রেস্ট ক্যান্সার। এছাড়াও বর্তমানে আরও বহু ধরনের ক্যান্সার বেশ কুখ্যাতি লাভ করেছে - ব্ল্যাড ক্যান্সার, বোন ক্যান্সার ইত্যাদি। এছাড়াও অটিজম নিয়ে জন্মানো শিশুর সংখ্যা কিন্তু দিন দিন আশংকাজনক হারে বেড়েই চলেছে।

জিএমও ফুড এজন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী। জিএমও ফুড ১৯৯৮ সালে আবির্ভূত হয়। আর তা ২০০৩ সালে সার্বজনীন হয়ে পড়ে। জিএমও ফুড-এ "জিএমও ফুড" লেবেল লাগানোর কথা থাকলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তা করা হয় না। বিশ্বের বহু দেশের সরকার এ ব্যাপারে উদাসীন। বাংলাদেশের তো প্রশ্নই উঠে না। উপরোক্ত কারণে ১৯৯৮ সালে বিশ্বব্যাপী ব্রেস্ট ক্যান্সারের পরিমাণ ছিল ৮%। কিন্তু বর্তমানে ২০১৪ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩%-এ।

বাংলাদেশের জন্য যেটা আরও ভয়াবহ: এখানে জিএমও শস্য ফলানোর তো নির্দিষ্ট কোনো রূপরেখা নাই-ই, তার ওপর যে যার মতো করে কীটনাশক ব্যবহার করে। আর এসব জিএমও শস্য ফলানোর জন্য প্রচুর পরিমাণে রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার করতে হয়। বেশিরভাগ সময়ই এসব রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ওইসব প্রতিষ্ঠান থেকেই কিনিতে হয়, যাদের কাছে জিএমও শস্যবীজও কেনা হয়।
আর এসব জিএমও শস্য থেকে কখনোই বীজশস্য উৎপাদন করা যায় না এবং প্রতিবছরই নতুন করে শস্য কিনতে হয়। আর একবার জিএমও শস্য উৎপাদন করা শুরু করলে ন্যাচারাল শস্যবীজও নষ্ট হয়ে যায় - দু'তিন বছরের বেশি এই ন্যাচারাল শস্যবীজ সংরক্ষণ করা যায় না বলে। ফলে জিএমও শস্য একবার উৎপাদন শুরু করলে এই চক্র থেকে বের হওয়া বেশ কঠিন।

এসব থেকে বাঁচতে চাইলে এই মুহূর্ত থেকে:
১. ওমেগা সিক্স (Omega - 6) সমৃদ্ধ তেল (সয়াবিন তেল, সূর্যমুখী তেল) ব্যবহার বন্ধ করুন। সয়াবিন তেল ও সূর্যমুখী তেলের ঔজ্জ্বল্য বাড়াতে অনেক সময় তা হাইড্রোজেন দিয়ে পরিশুদ্ধ করা হয়, যা স্বাস্থ্যের জন্য চরম ক্ষতিকর এবং তা ক্যান্সার ট্রিগার হিসাবে কাজ করে।

সুতরাং সয়াবিন বা সূর্যমুখী এসব তেল বাদ দিয়ে ওমেগা থ্রি (Omega - 3) সমৃদ্ধ নারকেল তেল বা জলপাই তেল বা সরিষা তেল বা সামুদ্রিক মাছের তেল করুন। বহু বিশেষজ্ঞ আপনাকে সরিষা তেল ব্যবহার করলে রক্তে কোলস্টেরল বেড়ে যাওয়ার কথা বলবে। মনে রাখবেন এই কোলস্টেরল কিন্তু আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরিতে প্রয়োজনীয়, তবে তা যেন অতিরিক্ত না হয়। আর অতিরিক্ত কোলস্টেরল তৈরিতে সরিষা তেল কখনোই দায়ী নয়।
আবার রক্তে কোলস্টেরল কমাতে অনেক সময় যে ঔষধ গ্রহণ করছেন, সেটাও কিন্তু একেবারে ১০০% পরীক্ষীত উপকারী নয়, এরও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে এবং এই ঔষধও আরও অনেক রোগের জন্ম দিতে পারে।

২. কার্বোহাইড্রেড বা সাদা আটা বা ময়দা, সাদা চাল যা শরীরে গিয়ে ফ্যাট তৈরি করে, চিনির কাজ করে। এজন্য খাবারে যেন (জিএমও গম নয়) সাধারণ গম থেকে তৈরি আটা বা লাল চাল (বা ঢেঁকি ছাটা চাল) থাকে, সেটা নিশ্চিত করুন।

৩. সু্ইটেনার বা কৃত্রিমভাবে তৈরি চিনি (যা বলে যে এটা মিষ্টি নয়, বা স্বাভাবিক চিনি নয়) গ্রহণ আজকে থেকেই বন্ধ করুন। ফুড কালারসমৃদ্ধ খাবার (যেমন আইসক্রিম) গ্রহণ বন্ধ করুন।

৪. প্রসেসড ফুড (মাছ, মাংস, শাকসবজি) গ্রহণ বন্ধ করুন। কারণ এসব খাদ্য প্রক্রিয়াজত করতে যে রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করা হয়, তা অনেক সময় ক্যান্সার কোষকে উস্কে দেয়।

স্বাভাবিকভাবে উৎপাদিত শস্য, শাকসবজি, মাছ ও মাংস গ্রহণ করার চেষ্টা করুন।

৫. জিএমও শস্য উৎপাদনে প্রচুর পরিমাণে কীটনাশক ব্যবহার করতে হয়। সম্ভব হলে কীটনাশক ব্যবহারমুক্ত শস্য, খাবার গ্রহণ করুন।

৬. জিএমও শস্য দিয়ে আজকাল হাঁসমুরগি, গবাদি পশু, মাছ চাষ করা হয়। এই ধরনের প্রোটিন গ্রহণ বন্ধ করুন।

প্রকৃতিকে বাঁচান, প্রকৃতিই আপনাকে বাঁচাবে। প্রকৃতির সঙ্গেই বাঁচুন। আর মনে রাখবেন - Prevention is better than cure.
ক্যান্সার: নিজে বাঁচুন, নিজের বাবা-মা, সন্তানকে বাঁচান(এজন্য কারও কাছে যেতে হবে না, নিজেকে দিয়েই শুরু করুন)
Write Comment Please Login
If you have something to say or share, blog is the right place for you. You don't need to be a BLOG member to contribute.
Please register here. It's Free!!
Username
Password
Forgot login info?
Welcome Message
Mountaineering Biography
Personal Biography
Photo Gallery
Video Gallery
Musa Ibrahim's official website (www.musaibrahim.com.bd) launched on December 03
DU authority conferred 'Blue' award to Musa Ibrahim
Musa Ibrahim accorded DU Alumni Association reception
Musa Ibrahim's photo exhibition titled 'Bangladesh on top of the Everest'
Institute of Education & Research (IER), University of Dhaka is conferring reception to Musa Ibrahim
Musa Ibrahim's photo exhibition titled 'Bangladesh on top of the Everest'
Home About Musa Gallery You can do it Press Release Blog Forum FAQ Contact