Facebook   Twitter   LinkedIn   Youtube   Wikipedia
28 Jan 2013
যা চূড়ান্ত স্বার্থপরতা, দেশপ্রেম নয়
১. ডেটলাইন ২৫ জানুয়ারি, ২০১৩। সময় সকাল ১০টা। ঢাকা-২ আঞ্চলিক গণিত উৎসব চলছে রাজউক উত্তরা মডেল স্কুল ও কলেজে। শিক্ষার্থীরা তাদের গণিত-মেধার পরীক্ষায় বসে গেছে। মাঠে অভিভাবক, মা-বাবারা অলস ঘুরছেন, প্যান্ডেলে বসে রয়েছেন। প্যান্ডেলের পাশে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের স্টল। তার মধ্যে একটা স্টলে নুডলস তৈরিকারক একটি প্রতিষ্ঠান তাৎক্ষণিক নুডলস তৈরি করে উৎসবে একমাত্র খাবার প্রতিষ্ঠান হিসাবে বেশ জাকিয়ে বসেছে। আর শুধু আলাপ করলেই তো হলো না, আলাপ করার জন্য শক্তি'র খোঁজে মা-বাবা-অভিভাবকরা খাবারের উৎসে যাচ্ছেন, নুডলস খেয়ে শক্তি শানিয়ে নিচ্ছেন। তারপর? নুডলসের প্যাকেটটি ফুড়ুৎ করে মাঠেই ফেলে আরেক জায়গায়-প্যান্ডেলে তারা ফিরে যাচ্ছেন, গল্প-গুজবে সময় কাটাতে। এমন না যে ময়লা ফেলার কোনো ডাস্টবিন নেই, শুধু ময়লাটা নির্দিষ্ট জায়গায় ফেলাতেই যত অনীহা।

২. ডেটলাইন ২৫ জানুয়ারি, ২০১৩। সময় বিকাল ৩টা। রাজউক উত্তরা মডেল স্কুল ও কলেজে ঢাকা-২ আঞ্চলিক গণিত উৎসবে প্রশ্নোত্তর পর্ব চলছে। শিক্ষার্থীরা গণিত ও বিজ্ঞান নিয়ে শীতের পারদের চেয়েও তীব্র তীক্ষ্ণ প্রশ্নবানে জর্জরিত করছেন ইউরোপ-আমেরিকাফেরত অধ্যাপক ও গণিতবিদদের। সব প্রশ্নের উত্তর পারুন কিংবা না পারুন, গণিতবিদরা হাসিমুখেই এই শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে চলেছেন। কিন্তু বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটির সাধারণ সম্পাদক মুনির হাসান এই শিক্ষার্থীদের দেশপ্রেম জাগিয়ে তুলে যখন তাদের নিজেদের ফেলা (অভিভাবকদের ফেলা আবর্জনা আগেই স্বেচ্ছাসেবীরা পরিষ্কার করেছে) কাগজ, জুসপ্যাকসহ অন্যান্য অবর্জনা মাঠ থেকে কুড়িয়ে ডাস্টবিনে ফেলতে বললেন, শিক্ষার্থীদের প্রায় অর্ধেক নিজেদের চেয়ারের নিচ থেকে ময়লা পা দিয়ে ঠেলে আরেক দিকে সরিয়ে দিচ্ছিল। মানে হলো- আমার চেয়ারের নিচ তো পরিষ্কার করে ফেললাম, অন্যেরটা অন্যরাই পরিষ্কার করুক।

৩. একই দিন গণিত পরীক্ষা শেষে এক মা তার ছেলেকে নিয়ে নুডলসের স্টলে খাবার কিনে যখন পাশেই একটা বইয়ের স্টলে গেলেন, ছেলে বায়না ধরল- বিজ্ঞানের একটা বই তাকে কিনে দিতে হবে। এবার মায়ের জবাব: তোমার না আর চার মাস পর পরীক্ষা। সেই পড়া পড়তে হবে না? এখন গল্পের বই পড়লে চলবে? সুতরাং, ‌'নো' গল্পের বই। ছেলেটি মুখ বেজার করে মা'র সঙ্গে বাকি স্টলগুলোতে ঘুরতে লাগল।

৪. ডেটলাইন ২৭ জানুয়ারি, ২০১৩। সময় সকাল ১২টা। রাজশাহী আঞ্চলিক গণিত উৎসব চলছে রাজশাহী শিক্ষাবোর্ড মডেল স্কুল ও কলেজে। ক্লাস এইট পড়ুয়া এক মেয়ে প্রশ্নের ভঙ্গিতে জানাল: "আমি অনেক বড় হতে চাই। আমি চাই সাইকেল চালাতে, গল্পের বই পড়তে। কিন্তু আমার মা-বাবা তা চায় না। আমার এখন কি করা উচিত?"
এই প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে প্রথমে মেয়ের সঙ্গে, এরপর মায়ের সঙ্গে পরিচিত হলাম। মা জানালেন, তিনি চা্ন মেয়ে ধর্মীয় অনুশাসনে বড় হোক। তাকে জিজ্ঞেস করলাম, ধর্মীয় অনুশাসনের কোথায় লেখা আছে যে ছেলেমেয়েরা লেখাপড়ার পাশাপাশি সাইকেল চালাতে বা গল্পের বই পড়তে পারবে না? এবার তিনি শুধু হাসেন। তাকে বুঝিয়ে দিলাম যে ছেলেমেয়েদের বড় হওয়ার স্বপ্ন দেখাতে হবে, তাদেরকে এই চর্চার মধ্য দিয়ে নিয়ে যেতে হবে। যেমনটা তিনি করেছেন, মেয়েকে গণিত উৎসবে এনে। তিনি মেনে নিলেন।

আসলে ছেলেমেয়েদের শেখানোর দায়িত্ব মা-বাবার ওপরে। তারা যেভাবে পরিচালনা করবেন, তারা সেভাবেই শিখবে। বর্তমানে আমরা এই যুগের উঠতি ছেলেমেয়েদের কর্মকাণ্ড নিয়ে আক্ষেপ করি। আসল আক্ষেপটা হলো এই মা-বাবাকে নিয়ে, যারা শুধুই মনে করেন- "বইয়ের কালো হরফ গিলে ফেললেই মনে হয় তাদেরকে শিক্ষিত করে তোলা হল। ছেলেমেয়েরা ভালো উপার্জনে লেগে গেলেই মনে হয় তারা শিক্ষার সর্বোচ্চ ফলটুকু উপভোগ করতে শিখল।" এই ভুল ধারণাগুলো দূর করার সময় এসেছে। ছেলেমেয়েকে যে আসলে স্কুলের লেখাপড়ার পাশাপাশি জ্ঞান-বিজ্ঞান-কলাশাস্ত্রের আরও কতো বিষয়ে যে চৌকষ করে তোলার সময় এসেছে, তা আমরা কেমন করে ভুলতে বসেছি?

৫. রাজশাহীর গণিত উৎসবে গিয়ে একটা সিদ্ধান্তে আপাতত স্থির হলাম। এদিনের গণিত উৎসবের সঞ্চালকের ভূমিকায় থাকা বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটির অ্যাকাডেমিসিয়ান মাহমুদুল হাসান সোহাগ শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটা প্রতিযোগিতা জুড়ে দিলেন: প্রতিযোগিতা করা ভালো, না কি খারাপ - এ নিয়ে শিক্ষার্থীরা পক্ষে বা বিপক্ষে স্বাধীনভাবে বলতে পারবে। তাদের মতামত থেকে বোঝা গেল, অধিকাংশ শিক্ষার্থী এখন লেখাপড়া করে শুধু পরীক্ষায় ভালো ফলের জন্য। তাদের সামনে যেহেতু লেখাপড়া সংক্রান্ত অন্য কোনো টার্গেট নেই, কাজেই পরীক্ষায় পাসের জন্যই তারা লেখাপড়া করে, অন্য কোনো উদ্দেশ্য এতে নেই (হয়তো আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা তা করে দিতে পারেনি বলে) এবং তারা একের পর এক ক্লাস পাস দিয়ে যাচ্ছে যেতে হবে বলে। আর তাদের মতে বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা আমাদেরকে স্বার্থপর করে তুলছে। অবশ্য প্রতিযোগিতার মাধ্যমে আমরা যে আরও শাণিত হই, সেটাও অনেকে মনে করিয়ে দিল।
আমরা শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। ক্লাস ফাইভ, ক্লাস এইট, ক্লাস টেন, ক্লাস টুয়েলভ-এ প্রান্তিক প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাসহ নানা সংযোজন-বিয়োজন হচ্ছে শিক্ষা ব্যবস্থায়। মেধা যাচাইয়ের এমন নজির আর কোথায় আছে- এমন খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। কিন্তু আমাদের সমাজে যে ভালো মানুষ দরকার, এই একটা বিষয় কিন্তু আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পারছে না। তাই বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে একটা সিদ্ধান্তে আপাতত স্থির হলাম- "শিক্ষার্থীদেরকে বাস্তবমুখী শিক্ষায় সম্পৃক্ত করা না হলে - সমাজকে নিয়ে ভাবাতে শেখায়, এমন কাজে যুক্ত করা না হলে তারা নিজ দেশ, সমাজ বা নিজের উন্নয়ন নিয়ে আপাতত চিন্তা করবে না। সবাই শুধু পরীক্ষায় পাস করে ভালো একটা অর্থ উপার্জনের সংস্থান হলেই সন্তুষ্ট থেকে যাবে- যা চূড়ান্ত স্বার্থপরতা, দেশপ্রেম নয়।"
Write Comment Please Login
If you have something to say or share, blog is the right place for you. You don't need to be a BLOG member to contribute.
Please register here. It's Free!!
Username
Password
Forgot login info?
Welcome Message
Mountaineering Biography
Personal Biography
Photo Gallery
Video Gallery
Musa Ibrahim's official website (www.musaibrahim.com.bd) launched on December 03
DU authority conferred 'Blue' award to Musa Ibrahim
Musa Ibrahim accorded DU Alumni Association reception
Musa Ibrahim's photo exhibition titled 'Bangladesh on top of the Everest'
Institute of Education & Research (IER), University of Dhaka is conferring reception to Musa Ibrahim
Musa Ibrahim's photo exhibition titled 'Bangladesh on top of the Everest'
Home About Musa Gallery You can do it Press Release Blog Forum FAQ Contact