Facebook   Twitter   LinkedIn   Youtube   Wikipedia
14 Aug 2012
মাননীয় নীতিনির্ধারক, ক্যান্সার হলে আরোগ্যের জন্য....
১. প্রশ্ন : যখন আপনি কারো দাঁত তুলতে মুখের ভেতর হাত দেন, তখন কেমন লাগে?
উত্তর: তখন ভাবতে থাকি- আমি তো মুখে নয়, আসলে তার মানিব্যাগে হাত দিচ্ছি।
এটা একটা পেশাজীবীদের একাংশ সম্পর্কে খুবই সাধারণ একটা কৌতুক। পাঠক বুঝে নিন।

২. আমাদের দেশের ঔষধনীতি ভোক্তাবান্ধব নয়, ব্যবসায়ীবান্ধব। অর্থাৎ ব্যবসায়ীরা যে যেভাবে পারেন, ঔষধের দাম নির্ধারণ করেন। কয়েকদিন আগে জাতীয় প্রেসক্লাবে লিভারের অসুখ নিয়ে আয়োজিত এক সচেতনতামূলক গোলটেবিল বৈঠক থেকে জানা গেল, লিভারের ঔষধ এ দেশে একেক উৎপাদক একেক দামে বিকোয়। জানতে চান এই দামের হেরফের। কম দামীটা মাত্র ১৫ টাকা, বেশী দামীটা প্রায় ১৫০০ টাকা। সরকারের নিয়ন্ত্রণ তাহলে কোথায়? সরকারের কাজটা এক্ষেত্রে কি?

৩. এই পেশাজীবীদের খুব অমানবিক জীবনযাপন করতে হয়। যদি ধরে নেই তারা সরকারি চাকরিতে রয়েছেন এবং তারা খুবই সৎ, তাহলে ৯টা-৫টা অফিস শেষ করে বাসায় ফিরেই তারা বাড়তি চারটা আয়ের জন্য হয় নিজের প্রাইভেট প্র্যাকটিস কর্নারে, নয়তো কোনো নামীদামী প্রতিষ্ঠানে - বহুবিধ কমিশনব্যবস্থাসমৃদ্ধ - বসে পড়েন। সেখানে যেই না সামান্য নাম কামিয়ে ফেললেন, আর তাদের পেছনে শুরু হয়ে যায় ঔষধ-বেনিয়াদের গিফট আর কমিশনবাণিজ্য। নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পণ্যটি সমর্থনে দু-কলম লেখার আগেই যদি গিফট আর কমিশন মেলে, তাহলে বাণিজ্যিক নামটা এই পেশাজীবীরা লিখবেন না কেন? তারা তো আগেই বিক্রি হয়ে গেছেন। চাকরি, প্রাইভেট প্র্যাকটিস আর এই ঔষধ-বেনিয়াদের সময় দেয়া - সবমিলিয়ে নিজ পরিবারকে সময় দেয়ার সময় কি এই পেশাজীবীরা কখনও খুঁজে পান? তাদের কি চিন্তা করার সময় আছে যে- এই যে একটা নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পণ্যটি তারা সমর্থন করে দু-কলম লিখলেন, তাতে সেবাপ্রার্থী আসলেই লাভবান হলেন কি না? (অথচ, সেবাপ্রার্থীর কাছ থেকে ঠিকই কিন্তু তারা ফি নিয়ে রেখেছেন) এই পেশাজীবীরা কিন্তু ঔষধের বাণিজ্যিক নাম না লিখে এর জেনেরিক নামটা (বোমা মাসুদ- এটা তার বাণিজ্যিক নাম, ঔষধের ক্ষেত্রেও বাণিজ্যিক নাম। মো. মাসুদ হোসেন- এটা তার সার্টিফিকেট নাম, ঔষদের ক্ষেত্রে জেনেরিক নাম) লিখতে পারতেন, কিন্তু কখনোই আমাদের দেশে এই পেশাজীবীরা তা করেন না। জেনেরিক নাম দেখে সেবাপ্রার্থী ঔষধের দোকানে গিয়ে নিজ পছন্দ মতো ঔষধ কিনবে। কিন্তু শারীরিক সমস্যায় মানুষ যখন অসহায়, তখন তার এতো চিন্তা করার সময় কোথায়? শারীরিক সুস্থতাই তখন একমাত্র আরাধ্য। তাই সাত-পাঁচ না ভেবে সেবাপ্রার্থী এই পেশাজীবীর দেয়া নামেই ঔষধ কিনে বাসায় ফেরেন।
সরকার কি এখানে একটা নিয়ম চালু করতে পারেন না যেন এই পেশাজীবীরা এখন থেকে চিকিৎসাপত্রে ঔষধের বাণিজ্যিক নাম না লিখে জেনেরিক নাম লিখবেন? সরকারের এখানে নিয়ন্ত্রণ কোথায়? সরকারের এখানে কাজটা কি?

৪. আমাদের দেশ থেকে প্রতিদিন, প্রতি মাসে, প্রতি বছর কতো শত মানুষ চিকিৎসা নিতে বিদেশ যাচ্ছেন? এই চিকিৎসাপ্রার্থীরা ফিরে এসে বিদেশের একই পেশাজীবীর প্রশংসা করতে করতে মুখে ফেনা তুলে ফেলেন। তারা সুন্দর করে কথা বলেন, তারা সময় নিয়ে কথা বলেন। আর এদেশে না কি চিকিৎসাপ্রার্থীর চেহারা দেখেই চিকিৎসাপত্র লিখে ফেলেন (নতুন চিকিৎসাপ্রার্থীর হাতে এ সময় এই টেস্ট, সেই টেস্ট-এর নামে যে কতো কিছু ধরিয়ে দেয়া হয়, তা ভুক্তভোগীমাত্রই জানেন। আর এখানেও যে কমিশনবাণিজ্য রয়েছে, এটা কে না জানে?) এই পেশাজীবীরা, শারীরিক অসুস্থতার কথা না কি মুখ ফুটে বলতেও হয় না।
এই যে চিকিৎসাপ্রার্থীরা যে বিদেশ যাচ্ছেন, অনেকক্ষেত্রেই প্রশ্নটা তাহলে এদেশী পেশাজীবীদের আন্তরিকতা নিয়ে। আর এই বিদেশযাত্রার বাজারমূল্য কতো? জাতীয় প্রেসক্লাবের সেই বৈঠক থেকে জানা গেল, এক্ষেত্রে যে পরিমাণ অর্থ বিদেশে যাচ্ছে, এটা দিয়ে না কি বছরে তিনটা করে পদ্মা সেতু নির্মাণ করা যায়।
সরকারের এখানে নিয়ন্ত্রণটা কোথায়? সরকারের এখানে কাজটা কি?

৫. দেশে প্রচুর সংবাদপত্র রয়েছে। সেখানে চিকিৎসাসংক্রান্ত একটা প্রকাশনাও প্রতি সপ্তাহে বের হয়। সেখানে বহু বিশেষজ্ঞ পেশাজীবী তাদের বিশেষজ্ঞমত লিখে আপামর জনতাকে অসাধারণ(!) সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু জানেন কি, এসব লেখার বেশিরভাগই আসলে অনুবাদ। বিদেশী পত্রিকা, জার্নালের লেখা অনুবাদ করে আমাদের এই সেবা দিয়ে যাচ্ছেন এই পেশাজীবীরা। এসব বিদেশী পত্রিকা বা জার্নালের প্রকাশিত লেখা কিন্তু বেশিরভাগই সেদেশের প্রেক্ষাপটে লেখা। এসব আমাদের জন্যও প্রযোজ্য কি না, তা অনেকক্ষেত্রেই এই পেশাজীবীরা খতিয়ে দেখেন কি না, সন্দেহ আছে। আর নিজেরা গবেষণা করে যে লিখবেন, সেই গবেষণা করার সময় তাদের কোথায়? আবার ওইসব বিদেশী পত্রিকা ও জার্নালে যে দিনকতক পরপরই আগের প্রকাশনার বিপক্ষেই আরেকটি গবেষণালদ্ধ লেখা ছাপা হচ্ছে, সেটা আমাদের বিশেষজ্ঞ পেশাজীবীরা দিব্যি এড়িয়ে যান।
সরকারের এখানে কাজটা কি?

৬. সরকারি চাকরির ৯টা-৫টা যে অনেকেই মানেন না, এ নিয়ে বিস্তারিত লেখার প্রয়োজন ফুরিয়েছে।

৭. এই পেশাজীবীরা (শুধু এই পেশা নয়, অন্য পেশাতেও একই অবস্থা) রাজনৈতিক দলের / ব্যক্তির লেজুড়বৃত্তি করে যে যার আখের গুছিয়ে নিচ্ছেন, এটা এখন এক মহা ব্যধি।
এটা নিরাময় করবে কে? উত্তর: সাধারণ মানুষ। কিভাবে? উত্তর: তাদের চিহ্নিত করে বর্জন করুন।

এরকম হাজারো সমস্যার রয়েছে এই খাতে। এসবের সমাধান না করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এখন এই পেশায় নতুনদের নিবন্ধন করার এমন এক নিয়ম চালু করলেন, তা নিয়ে শিক্ষার্থীরা এখন রাস্তায়, বিক্ষোভে, আইনী সমাধানের আশায়। এই শিক্ষার্থীরা তাদের সময় এই যে আরেক জায়গায় অনাকাঙ্ক্ষিত, অযথা ব্যয় করছেন; নিজেদের দাবি আদায়ের জন্য তাদেরকে যে এই যে রাজনৈতিক দলের মতো পথে নামতে হলো; তারা কি কখনো মন দিয়ে এই পেশায় সেবার ব্রত নিয়ে আসতে পারবে? না কি মন্ত্রীর দেখানো পথে তারা ভবিষ্যতেও হাঁটবেন?
মাননীয় নীতিনির্ধারক, ক্যান্সার হলে আরোগ্যের জন্য শরীরের টিস্যু কেটে ফেলার নিয়ম। কিন্তু মাথাব্যথায় মাথা কেটে ফেলবেন? কোচিং বাণিজ্য বন্ধে কোচিং আইন করে বন্ধ করে দিন। সাধারণ মানুষকে মুক্তি দিন, আপনাদের এমন সিদ্ধান্তে সাধারণ মানুষকে অযথা হয়রানি করাবেন না।
Write Comment Please Login
If you have something to say or share, blog is the right place for you. You don't need to be a BLOG member to contribute.
Please register here. It's Free!!
Username
Password
Forgot login info?
Welcome Message
Mountaineering Biography
Personal Biography
Photo Gallery
Video Gallery
Musa Ibrahim's official website (www.musaibrahim.com.bd) launched on December 03
DU authority conferred 'Blue' award to Musa Ibrahim
Musa Ibrahim accorded DU Alumni Association reception
Musa Ibrahim's photo exhibition titled 'Bangladesh on top of the Everest'
Institute of Education & Research (IER), University of Dhaka is conferring reception to Musa Ibrahim
Musa Ibrahim's photo exhibition titled 'Bangladesh on top of the Everest'
Home About Musa Gallery You can do it Press Release Blog Forum FAQ Contact