Facebook   Twitter   LinkedIn   Youtube   Wikipedia
Day 8
তিব্বত এভারেস্ট বেস ক্যাম্পের চ্যালেঞ্জ
এপ্রিল ১৫, ২০১০
৮ম দিন

ভোর ৬টা:
গত রাতটা বেশ ঝকমারি কেটেছে। তবে আজ সূর্য ওঠার আগেই ঘুম ভাঙলেও সকাল সাতটা পর্যন্ত গড়াগড়ি করে কাটালাম স্লিপিং ব্যাগের মধ্যে। এক সময় তা অসহ্য হয়ে পড়লে যেন ছিটকে বের হলাম তাঁবু থেকে। সবার সঙ্গে কুশলাদি বিনিময় করছি। সবাই জানতে চাইছেন যে ঘুম কেমন হলো। ঘুম শব্দটা উচ্চারণ করতেই মনে হলো রাতের তীব্র মাথা ব্যথার কথা। আর আশ্চর্যজনকভাবে সকালে কোনো মাথা ব্যথা নেই। সবাইকেই বললাম, বেশ ভালোই। শুধু ঠান্ডাটা একটু ঝামেলা করেছে, এই যা।

এদিন থেকে তিব্বত হিমালয়কে চিনতে শুরু করেছি পূর্ণরূপে। চারদিক রুক্ষ, পাথুরে। গাছপালার চিহ্ন সেই যে নায়ালামের পর শেষ হয়ে গেছে, এখানেও তার কোনো বালাই নেই। চারদিক হিম ঠাণ্ডা। আর সামান্য বাতাস শুরু হলেই তার তীব্রতা বেড়ে যায় বহুগুণ। বেস ক্যাম্পকে ঘিরে বয়ে চলা দু?টি নদীর উপরিভাগই জমে বরফ হয়ে গেছে।

মনে পড়ছে নর্থ আলপাইন ক্লাব বাংলাদেশের সভাপতি আনিসুল হকের সঙ্গে বিএমটিসি?র প্রধান ইনাম আল হকের সঙ্গে মিটিংয়ের কথা। মিটিংয়ে বসার আগে ইনাম আল হককে ফোন করে আনিসুল হক বলেছিলেন, ?আমাদের তো এভারেস্ট অভিযানে যাওয়া উচিত। মুসা তো প্রায়ই এ নিয়ে আমার সঙ্গে আলোচনা করছে। শুনলাম আপনারাও নাকি উদ্যোগ নিচ্ছেন। আসুন না একদিন এ নিয়ে আলাপ করি। একটা যৌথ দল গঠন করে দু?জনকে পাঠিয়ে দেই।? সেই মিটিংয়ের শুরুতেই আনিসুল হক প্রেক্ষাপট বর্ণনা করে ইনাম আল হকের কাছে জানতে চেয়েছিলেন করণীয় সম্পর্কে। ইনাম আল হক মন্তব্য করেছিলেন, এটা খুবই ভালো উদ্যোগ। যদি দু?জনকে পাঠানো যায়, তাহলে এভারেস্ট জয়ের সম্ভাবনাও বেড়ে যাবে।

তাকে এ পর্যায়ে তিব্বতের দিক থেকে এভারেস্ট অভিযানের খরচ, দিনপঞ্জি ইত্যাদি জানানোর কথা বললে তিনি মুহিতের সঙ্গে যোগাযোগ করার কথা বলেছিলেন। সেই সঙ্গে একটা সিদ্ধান্ত নিয়ে মিটিং শেষ হলো যে আগামী এক দিনের মধ্যে তিনি সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিবেন।

মিটিং থেকে বের হয়ে যখন মুহিতকে ফোন দিয়ে বুঝতে পেরেছিলাম যেন এক অপরাধ করে ফেলেছি। হ্যালো বলতেই জিজ্ঞেস করলেন, কে বলছি। নাম বললাম। সেই সঙ্গে তাকে ফোন করার উদ্দেশ্যটাও বললাম। উত্তরে শুধু জানালেন, আপনাকে পরে জানাচ্ছি। গলায় বেশ উষ্মা।

এরপর মিটিং করার তৃতীয় দিনের মাথায় ইনাম আল হক আনিসুল হককে এসএমএস পাঠিয়েছিলেন: আনিস ভাই, মুসাকে নিরুতসাহিত করাটা আমি ঘৃণা করি, কিন্তু তার পাঁচটি কমতি আছে যা আমরা উপেক্ষা করতে পারি না: এক- তার চায়না রুট দিয়ে কোনো অভিজ্ঞতা নেই, দুই- ৭০০০ মিটার ও ৮০০০ মিটার (পর্বত) অভিযান করেননি, তিন- এ কারণে শরীর সেই উচ্চতার সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর কোনো সময় পার করেননি, চার- মোহিতের সঙ্গে মেলবন্ধন তৈরির সময় খুব কম, পাঁচ- এখন শেরপা গাইডদের সঙ্গে ?যুক্ত? হওয়ার সময় নেই। এখন দয়া করে পরামর্শ দেন যে এ কথাগুলো তাকে আশাহত না করে কিভাবে বলা যায়? ইনাম।

[আনিস ভাই, আই হেট টু ডিসুয়েড মুসা, বাট হি হ্যাজ ফাইভ মাইনাসেস উই ক্যান নট ওভারলুক: ওয়ান- হ্যাজ নো এক্সপেরিয়েন্স অন চায়না রুট, টু- হ্যাজ নট ডান ৭০০০ মিটার অ্যান্ড ৮০০০ মিটার (মাউন্টেন), থ্রি- ফলোয়িং নো বডি-টিউনিং রেজাইমে, ফোর- হ্যাজ লিটল টাইম ফর র‌্যাপোর্ট উইদ মোহিত, ফাইভ- হ্যাজ নট টাইম টু ?লিংক? উইদ শেরপা গাইড্স নাউ। প্লিজ সাজেস্ট হাউ টু টেল হিম অল উইদাউট ডিফিউজিং হিম। ইনাম]

ইনাম আল হকের এই এসএমএস পড়ে ভাবলাম তাকে জিজ্ঞেস করি- মুহিত তো মানাসলু পর্বত (২৬,৭৫১ ফুট) অভিযানে গিয়ে ক্যাম্প ওয়ানের (১৮,৬৯৬ ফুট) চেয়ে বেশি যেতে পারেননি। তাহলে তাকে চো য়ু পর্বতাভিযানে পাঠিয়েছিলেন কেন? তার এসএমএস মতে তো যারা চায়না রুট ধরে পর্বতারোহণে যেতে চায়, এর আগে তাদেরকে জীবদ্দশায় কোনো এক সময়ে অবশ্যই একবার হলেও চায়না রুটে যেতে হবে। তাহলে মুহিত কিভাবে চো য়ু পর্বতারোহণে তিব্বত রুট ধরে গিয়েছিল? ইনাম আল হকের এসএমএস অনুসারে, আমি অন্নপূর্ণা ফোর পর্বত জয় করিনি। এসব ইঙ্গিতের মাধ্যমে তার মনমানসিকতা এ সময় আরো স্পষ্ট হলো সবার কাছে। বিশেষ করে আমাকে এভারেস্ট অভিযানে যুক্ত না করার অংকটি তখন সবাই বুঝে গেছে।

ইনাম আল হকের এসএমএসটা সবার কাছে নিরেট বাস্তবতা হিসাবে হাজির হয়েছিল যে, নিজের কাজটা নিজেকেই করতে হবে। সেবার একটু দমে গেলেও কেউ উদ্যম হারাইনি। বরং সবাই একে চ্যালেঞ্জ হিসাবেই নিলাম। এনএসিবি?র সদস্যদের মতামত ছিল- চায়না রুটে কেউ একবার যায় নি দেখে তার এভারেস্ট অভিযানে যাওয়া চলবে না, এমন তো কোনো ধরাবাধা নিয়ম নেই। তার এই বার্তা জিদকে উসকে দিয়েছিল।

সকাল ৯টা:
এর মধ্যেই কুক নিজেই বানানো পাউরুটি দিয়ে টোস্ট, ডিম, মধু, জ্যাম-জেলি, গরম পানি, চা, দুধ ও চকলেট দিয়েছে নাশতা করার জন্য। নাশতা শেষে সাপোর্ট টিমের সদস্যদের সঙ্গে চললাম পাশের নদীতে। তারা নদীর বরফ আইসএক্স দিয়ে ভেঙ্গে পানি সংগ্রহ করতে চলেছে বড় ব্যারেল-এ করে। পর্বতারোহণের পাশাপাশি আইসএক্সের নতুন ব্যবহারও এদিন জানা গেল। তারা নদীর উপরিভাগের বরফ প্রায় দেড় ফুট গভীর করে ভাঙার পর পানির সন্ধান পেয়েছেন। সেই পানি প্রায় চার ফুট লম্বা এবং দেড় ফুট ব্যাসার্ধের ব্যারেলে করে বেস ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হবে। এই পানি ফুটিয়ে খাওয়া-দাওয়া, থালাবাসন পরিষ্কার ইত্যাদি সব কাজে ব্যবহার করা হবে।

ভোলা জানিয়ে দিয়েছেন, এদিন সকালে এক লামা আসবেন অদৃশ্য দেবতার কাছে পর্বতারোহণের আধ্যাত্মিক অনুমতি চাইতে। অর্থাত এই লামা তার প্রার্থনাবাক্যের মাধ্যমে সবার জন্য আশীর্বাদ চাইবেন যাতে কারো কোনো সমস্যা না হয়। সকাল থেকে এই প্রার্থনা পর্বের তোড়জোড় শুরু হয়ে গেল। একসময় লাল গেরুয়া পরিহিত এক লামাও এলেন। এসেই তিনি প্রার্থনায় বসে গেলেন। একটা কাপড়ের মধ্যে পেঁচিয়ে রাখা কিছু বিছিন্ন প্রার্থনা বই বের করে সেই তিব্বতীয় কিংবা সংস্কৃত ভাষা একে একে আউড়ে যাচ্ছেন। এ সময় একটা গাছের লম্বা গুড়ির মাথায় বুদ্ধদের প্রার্থনা পতাকা ঝুলিয়ে চারদিকে টানটান করে লাগানো হলো।

এ সময় অবাক করে দিয়ে লামা?র মোবাইল ফোন বেজে উঠল। সার্বিয়ার পর্বতারোহী ডাক্তার ড্রাগুটিন মন্তব্য করলেন- হাইটেক লামা। ড্রাগুটিন জানালেন- গতবারও তিনি এভারেস্ট অভিযানে এসেছিলেন। কিন্তু বেস ক্যাম্পে এমন প্রার্থনার সময় উঠে যখন লামা প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে গিয়েছিলেন, তখনই নাকি তিনি বুঝে গিয়েছিলেন তার অভিযানের ভবিষ্যত। তিনি বলেই চললেন, ২০০৯ সালে এভারেস্ট রিজে পর্বতারোহীদের লম্বা লাইন থাকার কারণে সেবার তিনি সামিটে না গিয়ে ফিরে এসেছিলেন আবহাওয়া খারাপ হয়ে যাওয়ায়।

এ সময় ভাবছিলাম যে তেনজিং এভারেস্ট আরোহণে সফল হয়েছিলেন সপ্তমবারের চেষ্টায়। অনেক পর্বতারোহীই বছরের পর বছরের চেষ্টায় সফল হয়। আর বাংলাদেশীদের পর্বতারোহণের সংস্কৃতিও খুব বেশি দিনের নয়। এর মধ্য দিয়েই আমি এসেছি এই এভারেস্ট অভিযানে। আল্লাহ কি আমার কপালে এভারেস্টে সফল অভিযান রেখেছেন? এবারই কি সফল হতে পারব? এসব কথা ভাবছি আর চিন্তা করছি চেষ্টার বিকল্প কিছু নাই। চেষ্টা করে যেতেই হবে সফল হওয়ার জন্য।

এদিন অবশ্য আর কোনো ঝামেলা ছাড়াই লামাকৃত্য এগিয়ে চলল। বুদ্ধদের প্রার্থনা পতাকাও ঝোলানো হল বেস ক্যাম্পে। শেষ দিকে সেই প্রার্থনা সবাই নেচে-গেয়ে শেষ করল।

দুপুর ১২টা:
এই বিশ্রামের দিন এদিক-ওদিক ঘুরছি। আর বেস ক্যাম্প থেকে চারদিকের পর্বতের রিজে চোখ বুলাচ্ছি। বেস ক্যাম্পের পূব দিকের পর্বতের একটা সুউচ্চ মাথা দেখিয়ে সবাই জানালেন, আগামীকাল এই চূড়ায় উঠে অ্যাকেম্যাটাইজেশন করে ফিরতে হবে। হঠাত এ সময়ে দেখি এক পাল ছাগল সেই পর্বতের রিজে। সবাইকে সেদিকে তাকাতে বলেই দেখি একটা কুকুর এই ছাগলের পালকে তাড়িয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছে। আর এই ছাগল কুকুরের তাড়া খেয়ে দিগ্বিদিক ছুটতে শুরু করেছে। এক সময় সবগুলো ছাগল একটা গুহার ভেতর হারিয়ে গেল। শেরপারা জানালেন, স্থানীয় এই কুকুর শিকারের আশায় প্রায় আঠার হাজার ফুট উচ্চতায় বন্য ছাগলের পালকে তাড়িয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছে।

নেপালের এভারেস্ট বেস ক্যাম্প ট্রেকিংয়ের সময় প্যাংবোচের কাছে মিলিঙ্গোতে (উচ্চতা প্রায় ১২,৬৬০ ফুট) দেখেছিলাম এক পাল ?ডোয়ার্ফ ব্লু শিপ?। বিশ্বের অন্যতম বিপদগ্রস্ত যে ক?টি বন্যপ্রাণীর প্রজাতি রয়েছে, ডোয়ার্ফ ব্লু শিপ তাদের ভেতর অন্যতম। তিব্বত ও খুম্বু হিমালয়ে বসবাসকারী এই ব্লু শিপের ১০-১২টার এক পাল এ সময় দুর্গম পর্বতের রিজ ও চূড়ায় ঘুরে বেড়াতে দেখেছি। গায়ের রং ছিল নীলচে কালো।

পরে জেনেছি সেই ডোয়ার্ফ ব্লু শিপের মতোই দেখতে এসব ছাগল মার্খর ছাগল (Markhor Goat) নামে পরিচিত। এছাড়াও এ এলাকাতে ?হিমালয়ান থর?ও (Himalayan Thar) দেখতে পাওয়া যায়। এদের গায়ের রং বাদামী-ধূসর। এরাও তিব্বত হিমালয়ে বাস করে। এরা এই উচ্চতায় জন্মানো ঘাস খেয়ে বাঁচে। ইয়াকের মতোই এদের গায়ে এক-দু?ইঞ্চি লম্বা ও ঘন লোম তৈরি হয়।

বিকাল ৩টা:
এখানেও দেখি ইয়েলো-বিলড্ চাফের দৌরাত্ম। ক্যাম্প সাইটের চারদিকে উড়ে খুটে খুটে খাবার খাচ্ছে। এক ঝাঁক স্নো পকেট পাখিও তাদের সঙ্গী।

খেয়াল করে দেখলাম বেস ক্যাম্প এলাকায় পূব দিকে উঁচু এক পর্বতের রিজ থাকায় সূর্যের আলো আসে সকাল সাড়ে সাতটায়। আবার পশ্চিমেও আরেকটা রিজ থাকায় বিকাল চারটার মধ্যেই সূর্যের আলো চলে যায়। সূর্যের আলো আসার আগে এবং সূর্য পর্বতের রিজে হারিয়ে যাওয়ার পর ঠাণ্ডা যেন হাড়ে গিয়ে পৌঁছে যাচ্ছে।

এ সময় ডায়নিং টেন্টের সামনে প্রচুর পরিমাণ হাই ক্যাম্প প্যাক ফুড বের করে দিয়ে পর্বতারোহীদের বেছে নিতে বলা হলো। এ ধরনের খাবার আগে কখনো খাইনি। কিন্তু সব দেশের মানুষের কথা চিন্তা করে এবং অনেক উচ্চতায়, বিশেষ করে ক্যাম্প ওয়ান, টু, থ্রি-তে হাই ক্যালরি ফুড হিসাবে এসব প্যাক ফুড বানিয়েছে পশ্চিমা দেশের কিছু প্রতিষ্ঠান। সেগুলোই ব্যবহার করে থাকে প্রতিটি গ্রুপ তাদের পর্বতারোহীদের জন্য। আমাদের গ্রুপের পর্বতারোহীরা তাদের রুচি অনুযায়ী সকাল-দুপুর-রাতের খাবারের জন্য প্যাক ফুড বেছে নিলেন। আমিও যেসব হাই ক্যাম্প ফুডের প্যাকেটে ?রাইস? জাতীয় খাবারের উপাদান রয়েছে, এমন কয়েকটা প্যাকেট বেছে নিলাম। এসব প্যাকেট এবার বড় ডাফেল ব্যাগে চালান করে দিলাম। এই ব্যাগ ইয়াকের দল বয়ে নিয়ে যাবে এবিসি পর্যন্ত।

সন্ধ্যা ৬টা:
এদিন ভাবলাম যে রিমির সঙ্গে যোগাযোগ করা যাক। সকাল থেকেই রিমি আর রাইদের কথা মনে হওয়ায় মন ব্যকুল হয়ে আছে। আর ঈশ্বরী পাড়ওয়াল যেহেতু বলেছিলেন যে স্যাটেলাইট ফোন ব্যবহার করা যাবে কোনো ঝামেলা ছাড়াই। তাই ভাবলাম এই সুযোগে স্যাটেলাইট ফোনও ব্যবহার করা যাবে। তবে রিমি?র সঙ্গে কথা বলবো, এ কথা সরাসরি ভোলাকে না বলে সবিনয়ে জিজ্ঞেস করলাম, তার ফোন ব্যবহার করে কি আমি বাংলাদেশে ফোন করতে পারি? উত্তরে ?অবশ্যই? বলে ভোলা তার স্যাটেলাইট ফোন এগিয়ে দিলেন। আমি ডায়াল করি, কিন্তু ফোন কল যায় না। বিভিন্নভাবে চেষ্টা করে যখন ব্যর্থ হলাম, সে সময়ে ভোলা সমস্যাটা বুঝে বাংলাদেশের পরিচিত অন্য কারো কাছে ফোন করার পরামর্শ দিলেন। এবার রিমির মা, এনএসিবি?র সব সদস্য- কারো নাম্বারই বাদ গেল না। তারপরও যখন যোগাযোগ করতে পারলাম না, সে সময়ে ভোলা ফের পরামর্শ দিলেন সংক্ষিপ্ত বার্তা পাঠাতে। সেটাও যখন পাঠাতে পারলাম না, তখন ব্যর্থ হয়ে ফোন তাকে দিয়ে নিজ তাঁবুতে ফিরে এলাম।

একটু পর ডাইনিং টেন্টে ফের যখন ভোলার সঙ্গে দেখা হলো, তিনি জানালেন বাংলাদেশে ফোন করার চেষ্টা করতে গিয়ে আমি তার স্যাটেলাইট ফোনের ব্যালান্স প্রায় শুন্যের কাছাকাছি নামিয়ে এনেছি। আর এই চেষ্টার ফলে খরচ হয়েছে প্রায় একশ ডলার। শুনে হতবাক হওয়ার পালা। ফোনই করতে পারলাম না, কথাই হলো না, আর তাতেই একশ ডলার শেষ? এ সময় তার কাছে কোনোরকমে দুঃখপ্রকাশ করা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকলো না। সেই সঙ্গে তার কাছ থেকে আবারও যে স্যাটেলাইট ফোন নিয়ে ফোন করার অনুমতি চাইব, সে উপায়ও থাকল না।

এভাবেই একটা দিন কেটে গেল। রাতের বেলা তাঁবুতে ঢুকতেই পাশের বৃটিশ গ্রুপের ডাইনিং টেন্ট থেকে সিনেমার ডায়লগ ভেসে আসতে শুনলাম। শুনে মনে হলো, পর্বতারোহীরা নিজেদের চাঙ্গা রাখতে হয়তো নিজেরাই যাত্রা-পালা আয়োজন করেছে। কিন্তু পুরো কথাবার্তাই তো হচ্ছে ইংরেজিতে, তার মাঝে আবার মিউজিকও ভেসে আসছে কানে। সুতরাং এটা তো নিজেদের অংশগ্রহণে কোনো যাত্রা-পালা নয়। তার মানে সেই ডায়নিং টেন্টে টিভি রয়েছে, সেখানে মুভি দেখার ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

সোম জানালেন, পর্বতারোহণে এ ধরনের আয়োজন এখন আর নতুন কিছু নয়। এখানে অর্থ থাকলে বাঘের দুধও এনে হাজির করা হয়। ওরা তো শুধু টিভিতে মুভি দেখছে। তার কাছ থেকে খবর পেলাম বড় বড় যে কয়টা গ্রুপ এ মুহূর্তে বেস ক্যাম্পে রয়েছে, এর প্রায় সবক?টি বেস ক্যাম্পে টিভি নিয়ে এসে এভাবে মনোরঞ্জনের ব্যবস্থা করেছে। তবে পুরো ব্যাপারটাই প্রি-পেইড সিস্টেম।

রাত ৯টা:
সোম বাহাদুর জানালেন যে এই উচ্চতায় পর্বতারোহী বা শেরপাদের শুরুর দিকে অ্যাক্লেম্যাটাইজেশনের সমস্যা হয়। কারণ বেস ক্যাম্পে সমতলের তুলনায় মাত্র ৫০ শতাংশ অক্সিজেন থাকে। ফলে এই হালকা বাতাসে অনেককেই দেখা যায় যে রাতের বেলা ঘুমের মধ্যে শ্বাসপ্রশ্বাসের চক্র 'মিস' করে বাতাস খাওয়ার মতো ভঙ্গি করে। তাকে বললাম- আপনাকেও তো আমি গত রাতে এমন করতে দেখেছি। তখন অবশ্য বুঝতে না পেরে ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। শুনে সোম বাহাদুর হাসেন।

এদিন রাতের বেলা আগের রাতের মতো ঠান্ডায় কাবু হলাম না। ঠান্ডা ঠেকানোর একটা উপায় বের করে ফেললাম। তা হলো- সোম বাহাদুর তাঁবুর মধ্যে বাতাস চলাচলের জন্য দু?দিকের চেইন অনেকখানি খুলে রেখেছিলেন আগের রাতে। এদিন সেই চেইন সামান্য খুলে রেখে সরাসরি মাথার ওপর বাতাসের প্রবাহ ঠেকিয়েছিলাম। এভাবে ঠান্ডা থেকে বেঁচে গিয়েছি ঠিকই। কিন্তু মাথায় সেই এক লাইন বরাবর ব্যথা ঠেকানো গেল না। মাঝ রাতে তীব্র ব্যথায় উঠে বসতে হল। এদিন অর্ধেকটা ব্যথানাশক ট্যাবলেট খেয়ে কিছুটা উপশম হওয়ার পর ফের ঘুমাতে পেরেছিলাম।
« Day 7  Day 9 »
Welcome Message
Mountaineering Biography
Personal Biography
Photo Gallery
Video Gallery
Musa Ibrahim's official website (www.musaibrahim.com.bd) launched on December 03
DU authority conferred 'Blue' award to Musa Ibrahim
Musa Ibrahim accorded DU Alumni Association reception
Musa Ibrahim's photo exhibition titled 'Bangladesh on top of the Everest'
Institute of Education & Research (IER), University of Dhaka is conferring reception to Musa Ibrahim
Musa Ibrahim's photo exhibition titled 'Bangladesh on top of the Everest'
Home About Musa Gallery You can do it Press Release Blog Forum FAQ Contact