Facebook   Twitter   LinkedIn   Youtube   Wikipedia
Day 6
অস্থিরতায় তিংরির একটা দিন
এপ্রিল ১৩, ২০১০
৬ষ্ঠ দিন

ভোর ৬টা:
আজ সূর্য ওঠার আগেই ঘুম থেকে উঠে পড়েছি। কি করবো, কিছু করার নেই। তাই সাত-সকালে হোটেলের চৌহদ্দি ছেড়ে মূল সড়ক ধরে এদিক-ওদিক ঘুরে বেড়াচ্ছি। মাথা ব্যথা তেমন নেই বললেই চলে। তখনো তেমন বাতাস বওয়া শুরু হয় নি। তিংরি তখনো জেগে উঠে নি। তাই বাড়িঘর বা দোকানপাট খোলার কোনো বালাই নেই। সারাদিন রাস্তায় হুটোপুটি করে বেড়ায় যে কুকুরছানাগুলো, সেগুলোও ঘুমে। আর যে লম্বা কানঅলা ছাগল আর ভেড়ার পাল দেখেছিলাম গতকালকে, সেগুলোও বাড়ি ছেড়ে বের হয় নি। হঠাত করে দুয়েকটা ট্রাক শুধু হর্ণ বাজিয়ে ভুস্ করে এদিক-ওদিক চলে যাচ্ছে।

এদিন অ্যাক্লেম্যাটাইজ হাইকিংয়ের জন্য তিংরিতেই পুরো দিন কাটানোর পরিকল্পনা। বিশ্রাম হলেও কাছের একটা পর্বতে যেতে হবে ?গো হাই, স্লিপ লো? এই নিয়ম অনুসরণ করতে। ভাবছি যে শুধুমাত্র আরেকটা দিন বাকি। তাহলেই চলে যাবো স্বপ্নের এভারেস্ট বেস ক্যাম্পে। সকালে এভারেস্টকে দেখে মনটা তিংরি থেকে বারবারই উড়াল দিয়ে বেস ক্যাম্পে চলে যেতে চাইছে। আর বারবারই একটা দুশ্চিন্তা মনটাকে কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে। প্রতিযোগিতায় হেরে যাওয়া চলবে না। কারণ আমার বেস ক্যাম্পে যাওয়ার কথা ছিল আরও দিন ছয়েক আগে। কিন্তু আয়োজনের দুর্বলতার কারণে তা পারিনি। আয়োজনের দুর্বলতা থাকতে পারে, কিন্তু মনের দিক থেকে পিছিয়ে নেই। সব বাধা পার হয়ে এখন প্রতিযোগিতাটা সমানে সমানে নামিয়ে আনতে হবে। এরপর বাকিটুকু সেই কর্মের লড়াই।

সকাল ৮টার দিকে নাশতা দিয়ে দেয়া হলো। নুডলস-স্যুপ হচ্ছে মেনু। সেই সঙ্গে চাইলে ২৫০ মিলিলিটারের পানির বোতল, নয়তো একটা কোল্ড ড্রিঙ্কস। এর অতিরিক্ত পানি চাইলে একেবারে খোলা স্ট্রিমের পানি দেয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে সবাই বাড়তি সতর্কতা হিসাবে ফের পানির বোতলের দিকেই ঝুঁকছে। সোম বাহাদুর গতকালই বলে দিয়েছেন বেশি করে তরল পানের দিকে মন দিতে। সে উদ্দেশ্যেই একটু পর পর হয় পানি পান করছি, নয়তো চা খাচ্ছি। কিন্তু ‌'নুন চা' খেয়েছিলাম যে টি-শপে, তা এই সকালবেলা এখনো খোলে নি। তাই সেই পর্ব এখনো শুরু হয় নি। ভাবছিলাম যে- যাক বাঁচা গেলে। যতো দেরি হয়, ততোই ভালো। লবণ দেয়া চা তাও খাওয়া যায়, কিন্তু ইয়াক বাটার দেয়া চায়ের স্বাদ একেবারে বিস্বাদ।

সকাল ৯টা:
সকালে নাশতার পর দেখলাম একটা সাপ্লাই ট্রাক যাচ্ছে এভারেস্ট বেস ক্যাম্পে। কৈলাস আর লাকপা আগেভাগেই বেস ক্যাম্পে যাওয়ার জন্য সেই ট্রাকে চেপে বসলেন। এদিকে এভারেস্ট আর চো য়ু পর্বত অভিযাত্রীরা চললাম সবাই কাছের একটা পর্বত চূড়ায়। আমার সঙ্গী হলেন সোম বাহাদুর আর লাল বাহাদুর জিরেল। হোটেল থেকে প্রায় দু?কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে তিংরির (প্রায় ১৪ হাজার ফুট) চেয়ে প্রায় এক হাজার ফুট উঁচু সেই পর্বতে পৌঁছলাম ট্রেকিং করেই। সেই পর্বতের মাথায় প্রায় ঘণ্টাখানেক সময় কাটিয়ে দিলাম চারদিকের সব পর্বতের চূড়া দেখে। এখান থেকে এভারেস্ট, চো য়ু পর্বত স্পষ্ট দেখা যায়। এখান থেকে এক জোড়া পরিযায়ী হাঁসকেও ইতিউতি উড়তে দেখলাম। এই পর্বত চূড়া থেকে তিংরির মধ্য দিয়ে চলে যাওয়া সেই সড়কপথকে চিকন একটা সরলরেখা বলে মনে হয়। যেন দিগন্তে শুরু হয়ে তা দিগন্তেই শেষ হয়েছে। সেই পর্বতের চূড়াতেও বহু মানুষ বু্দ্ধ প্রেয়ার ফ্ল্যাগ ঝুলিয়েছেন। পর্বতের চূড়া থেকে দেখছিলাম যে তিংরির চারদিকে জায়গায় জায়গায় বহু বসতি গড়ে উঠেছে। তবে তিংরিকে ঘিরে গড়ে ওঠা জনবসতিটাই সবচেয়ে বড়। এই পর্বত চূড়ায় উঠেছিলাম পর্বতের গায়ের এক পথ ধরে। কিন্তু এরপর হেলেদুলে নামলাম আরেক ট্রেইল ধরে। এরপর সবাই চললাম তিংরির উদ্দেশ্যে।

সেই সড়ক ধরে ফিরছি তিংরি। পথে এবার প্রচুর কবুতর আর নাম না জানা কয়েকটা পরিযায়ী পাখিকে পেলাম। তাদের ছবি ক্যামেরাবদ্ধ করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু বেরসিক পাখি উড়েই চলল এদিক-ওদিক। এ পর্যায়ে সূর্য বেশ তপ্ত রোদ নিয়ে হাজির। কিন্তু সকালে ছিল আকাশে কুয়াশা। সেই সঙ্গে তীব্র ঠাণ্ডা।

তিংরি পর্যন্ত ফিরতেই শুরু হলো হালকা মাথা ব্যথা। আর শুরু হলো পানি পান থেরাপি। এবার যুক্ত হলো নুন-চা। এদিন মাথা ব্যথা হঠাত ভোজবাজির মতো উদয় হয়ে ফের দূর হয়ে যায়। ফলে বাড়তি একটা দুশ্চিন্তা বয়ে বেড়ালাম সারাদিন। তখন শুধুই চিন্তা হয় যে তিংরিতেই এই অবস্থা হলে বেস ক্যাম্প বা তার ওপরে গেলে কি হবে। তখনই ফের মেরা পর্বতের গাইড দাওয়া?র কথা মনে পড়ে। চিন্তাকে তখনই অন্য খাতে সরিয়ে দেই।

দুপুর ১২টা:
চায়ের দোকানে আগের মতোই চা-পান করছি আর দোকানের ভেতর পাশা খেলা দেখছি। মাঝে মধ্যে ঠাণ্ডা বেশি লাগলে রুম হিটারে কাঠ, নয়তো গোবর দিয়ে যাচ্ছেন দোকান-কাম-বাড়ির লোকজন। একটু পর বের হলাম সেখান থেকে। বাইরে বেরিয়ে দেখি কড়া রোদ। বাতাসও বয়ে চলেছে হু হু করে। কখনো কখনো তা গোঙানির মতো কানে বাজে। দুপুরে হোটেলে খেয়ে এবার রুমে চলে গেলাম। সেখানে বসে-শুয়ে পড়তে শুরু করলাম জাহিদ রেজা নূর অনুবাদিত এক্সঝুপেরির রাজপুত্তুর বইটি। অসাধারণ অনুবাদের একটি বই এক নিশ্বাসে পড়ে শেষ করলাম। এরপর কোন এক ফাঁকে যে ঘুমিয়ে পড়েছি, তা বলতে পারবো না। ঘুম থেকে উঠে নিজেকে দুষতে লাগলাম কেন ঘুমিয়ে পড়লাম, সেই বলে। এখন রাতে তো ঘুমাতে সমস্যা হবে।

বিকাল ৩টা:
কোনো কাজ নেই। আছে শুধু একটা ছটফটানি। কারণ রিমিকে ফোন করতে পারছি না। হোটেলের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে কোনো লাভ হলো না। কথা বললে মনে হয় বুঝেশুনে উত্তর দিচ্ছে। আসলে ভাষাগত কারণে তাদের মধ্যে এক ধরনের এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা। যদিও কথা বলছিলাম ইংরেজিতেই।

শুধুই ভাবছি আরেকটা রাত। তাহলেই চলে যাবো বেস ক্যাম্পে। সেখানে অপেক্ষা করছে এভারেস্ট। তাকে আলিঙ্গন করতে মুখিয়ে আছি।

সন্ধ্যা ৬টা:
সন্ধ্যার দিকেও মাথা ব্যথা একবার শুরু হয়, আরেকবার সেরে যায়। কিন্তু এর কোনো সুরাহা হচ্ছে না। প্রচুর পানি খাচ্ছি। তারপরও সুস্থির হওয়া যাচ্ছে না। আর মাথাব্যথার ধরনটাও অদ্ভুত। এর আগের সব পর্বতাভিযানে মাথা ব্যথা হতো পুরো মাথা জুড়ে। কিন্তু এবার শুধু মাথার পেছনে একটা বিন্দুতে শুরু হয়ে তা কপাল বরাবর একটা রেখায় এসে শেষ হচ্ছে। কখনো কখনো তা এতো তীব্র যে মনে হচ্ছিল এখনই এর চেয়ে কম উচ্চতায় নেমে যাই। রাতে খাওয়াদাওয়া করে দ্রুতই শুয়ে পড়লাম।

এভাবেই কেটে গেল একটা দিন, একটা নতুন সম্ভবনার আশায়।
« Day 5  Day 7 »
Welcome Message
Mountaineering Biography
Personal Biography
Photo Gallery
Video Gallery
Musa Ibrahim's official website (www.musaibrahim.com.bd) launched on December 03
DU authority conferred 'Blue' award to Musa Ibrahim
Musa Ibrahim accorded DU Alumni Association reception
Musa Ibrahim's photo exhibition titled 'Bangladesh on top of the Everest'
Institute of Education & Research (IER), University of Dhaka is conferring reception to Musa Ibrahim
Musa Ibrahim's photo exhibition titled 'Bangladesh on top of the Everest'
Home About Musa Gallery You can do it Press Release Blog Forum FAQ Contact